ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারী জমি দখল!

0
60

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইমাম নিজেই জানেন না মসজিদের নাম! তাহলে সেই মসজিদের নাম মুসল্লিরাই বা জানবেন কিভাবে! এমন অদ্ভুত একটি মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে বরিশাল নগরীর ভি.আই.পি কলোনী রোড। ধর্মকে পুজি করে প্রতিনিয়ত ঘটছে কোন না কোন বাণিজ্য! ধর্মের দুহোই দিয়ে কেউ রাজনৈতিক ফায়াদা লুটছে আবার কেউ নিজের আখের গুচাচ্ছে ব্যস্ত। এমন অভিযোগ নগরীর বি.আই. কলোনী রোড় বাসিন্দা মাহিন হোসেনের বিরুদ্ধে। সম্পত্তি আত্মসাত করতে প্রথমে পিতার নামে বানানো হয়েছে মসজিদ ও একটি এতিমখানার নামে একটি নোটারীর মাধ্যমে হলফনামা।

ভি.আই.পি কলোনীর বাসীন্দা মোঃ আলতাফ হোসেন এর ছেলে মাহিন হোসেন চলতি বছরে শেষের দিকে তার পিতার নামে একটি মসজিদ, একটি মাদ্ররাসা ও একটি ইসলামীক কালচারার সেন্টারের নামে বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রায় ৫ শতাংশ জমি দখল করে নেন। আর একাজে বাধা প্রদান করায় তার নিজের আপন ভাই আদিল ও চাচত ভাই সহ আত্ময়ীস্বজনদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন মাহিন। মাহিনের হলফনামার বক্তব্য তাদের পিতা আলতাফ হোসেন জীবত থাকা কালীনসময় অথাৎ ১৯৮৯ সালে মৌখিকভাবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে আলতাফ হোসেন সরদার তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিটি দান করে দিয়াছেন।

যা এলাকাবাসী এবিষয় অবগত আছেন তিনি হলফনামায় আরো উল্লেখ করেন তাহার পিতা আর্থিক কারণে মসজিদটি সম্পূর্ণ নির্মাণ করিয়া যেতে পারেন নাই। পিতা মৃত্যুর কয়েক বছর পর চলতি বছরের মে মাসের ২ তারিখ পিতার নামে একটি আলতাফ হোসেন সরদার জামে মসজিদ ও মমতাজ বেগম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্ররাসা এবং ইলসামিক কালচার সেন্টার এর নাম উল্লেখ করে নোটারী পাবলিক এর ঢাকা কার্যালয় হলফনামার মাধ্যমে নোটারী করে মাহিন হোসেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী মাহিন সরদার এই এলাকার বাসীন্দা মৃত্যু আলতাফ হোসেনের ছেলে সে দীর্ঘদিন যাবত ঢাকায় বসবাস করে আসছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে কোতয়ালী মডেল থানাধীন ১১ নং ওয়ার্ডস্থ (ইউটোপিয়া) বান্দ রোড়, বিআইপি রোড়ের পশ্চিম পার্শ্বে মৃত্যু আলতাফ হোসেন এর আরেক ছেলে মোঃ আদিল হোসেনের বসত বাড়ীর পাশে থাকা বরিশাল স্টেডিয়ামের প্রায় ৫ শতাংশ সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা চালায় তার আপন ভাই মাহিন হোসেন। আদিল হোসেন এর প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ হন মাহিন হোসেন। জমি দখলে ব্যথ হয়ে ঢাকায় চলে যায় মাহিন।

এর কিছুদিন পর মাহিন ঢাকায় একটি নোটারী পাবলিক এর মাধ্যমে একটি হলফনামা তৈরী করেন। সেখানে তিনি দাবী করেন উক্ত সম্পত্তিটি তার পিতা জীবিত থাকা কালীন সময় ১৯৮৯ সালে মৌখিকভাবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে আলতাফ হোসেন সরদার তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিটি দান করে দিয়াছেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাহিন হোসেনের নোটারীকৃত হলফনামার ২য় পাতায় তফসিল পরিচয়ে তিনি সম্পত্তির কোন দলিল নম্বার, খতিয়ান এর দাগ বা কোন কিছুই উল্লেখ করেন নাই। উল্লেখিত স্থানে তিনি উল্লেখ করেন বরিশাল জেলার কোতয়ালী থানাধীন বগুড়া আলেকান্দা মৌজার আলতাফ হোসেন সরদার জামে মসজিদ এবং মমতাজ বেগম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং ইসলামিক কালচার সেন্টার, যাহার উত্তরে এজমালী রাস্তা, দক্ষিণে মাসুমদের বাড়ীর চলাচলের রাস্তা, পূর্বে বি. আই. পি কলোনী রোড়, পশ্চিমে আদিল হোসেন উল্লেখ করা হয়েছে।

আলতাফ হোসেন কোথায় থেকে তার সম্পত্তি দান করেছেন তাহার কোন বিস্তারিত দাগ বা খতিয়ানের কিছুই উল্লেখ করা হয়নি উক্ত হলফনামায়। স্থানীয়দের অভিমত মাহিন হোসেন যেখানে তার পিতার নামে মসজিদ তৈরী করেছেন উক্ত সম্পত্তি বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার অথাৎ স্টেডিয়ামের সম্পত্তি। তাদের দাবী পিতা বা কারো স্বজনদের নামে মসজিদ কিংবা ধর্মীয় কোন প্রতিষ্ঠান তৈরী করার উদ্যেগ ভাল। তবে সেটা সরকারী বা অন্যের সম্পত্তির দখল করে কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরী করাটা ঠিক না। মূলত মাহিন হোসেন প্রথমে উক্ত সম্পত্তি আত্মসাতে ব্যথ হয়ে তার পিতার অন্তিম ইচ্ছা পূরণের নামে মৃত্যুর কয়েক বছর পর একটি হলফনামা তৈরী করে।

যেখানে মাহিন হোসেনের আপন ভাই আদিল হোসেন সহ তার আত্ময়ীস্বজনরা মাহিনের এই প্রতারনার বিরোধীতা করার ফলে ভাই আদিল হোসেন (৪৮) মাহিনের চাচত ভাই মোঃ রমজান আলী ও তাদের আরো ৩ জন আত্মীয় যথা ইউনুস মিয়া, পল্টন ও পলাশ সহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনার বিরুদ্ধে একটি বে-আইনী জনতাদ্ধে পবিত্র উপাসনালয় মসজিদে প্রবেশ করিয়া অবমাননার উদ্দেশ্যে ধ্বংস ও অনিষ্ট করনের লক্ষে ভাংচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ উল্লেখ করে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মাহিন হোসেন আরো উল্লেখ করেন মসজিদের ক্ষতির পরিমান প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। দেখা যায় উল্লেখিত্য স্থানে সাইন বোর্ড বিহীন একটি টিনের ছাপড়া ঘর সেখানে ২জন মুসল্লি যোহর নামাজ পড়ছেন। এছাড়া মসজিদে তেমন কিছুই নাই। দেখেই মনে হচ্ছে মসজিদটি ২/৪ মাস আগে তৈরীর উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। মসজিদের কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। মেহেদী নামের একজন যুবক উক্ত মসজিদের ইমাম পরিচয়দিয়ে তিনি দাবী করেন একমাস হয়েছে মাত্র ওই মসজিদে ইমামতির দায়ীত্ব নিয়েছেন। ইমাম নিজেই জানেন না ওই মসজিদের নামকরণ সম্পর্কে।

তবে তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে একাধিক স্থানীয়দের সাথে মসজিদ এর নামকরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কেউই ওই মসজিদের নাম সম্পকে বলতে পারেন নাই। মোতায়ালী দাবীদার মাহিন হোসেন মুঠোফোনে মসজিদ নির্মাণ সম্পর্কে কোন সু-স্পষ্টভাবে মন্তব্য দিতে পারে নাই মাহিন। মাহিন জানান, বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার (স্টেডিয়ামের) সম্পত্তির উপর হাইকোর্টে একটি রিট করেছেন তিনি। তবে মাহিন হোসেন বক্তব্য অনুযায়ী আত্মীয়দের সংঙ্গে তার পূর্ব শত্র“তা উদ্বারের জন্যই ধর্মীয় উপাসনালয়কে কাজে লাগিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে অকপটে মাহিন হোসেন বলেন, তার আপন ভাইকে আসামী করে তিনি ফেঁসে গেছেন। প্রথমে তিনি বুঝতে পারেন নাই। এখন তিনি সমাজে এবিষয় ঠিকমত কথা বলতে পারেন না বলে দাবী করেন। বরিশাল জেলা ক্রড়ী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল আলম নুরু জানান, ভি.আই. পি কলোনী রোড়স্থ স্টেডিয়ামের সম্পত্তি দখল করার জন্য মাহিন হোসেন নামের এক ব্যক্তি হাইকোর্টে একটি রিট করেছেন। তবে নুরুল আলম নুরু’র দাবী উক্ত সম্পত্তি স্টেডিয়ামের যেহেতু মাহিন ওই সম্পত্তি দাবী করছেন। অতঃএব স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষরাও আইনের মাধ্যমেই জবাব দিবেন বলে দাবী তার।