নওগাঁয় আনন্দ মেলার নামে অবাধে চলছে নারীদেহের নগ্ন নৃত্য

0
187

মোঃ খালেদ বিন ফিরোজ, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ।।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের জ্যালাঘাট এলাকায় আনন্দ মেলার নামে অবাধে চলছে নারীদেহের নগ্ন নৃত্য ও দৈনিক স্বপ্নপুরী র‌্যাফেল ড্র নামক সৌখিন জুয়া। যাত্রা ও ভ্যারাইটি শোর প্যান্ডেলে ৩০-৪০০ টাকা দিয়ে দেখা যাচ্ছে অশ্লীল নাচ। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ বা ২০ টাকা দিলে নৃত্যরত তরুণীর সংবেদনশীল স্থানে অবাধে হাত দেওয়া যাচ্ছে। এতে বিপথগামী হচ্ছে উপজেলার ছাত্রসহ তরুণ যুব সমাজ।

প্রশাসন, কিছু হলুদ সাংবাদিক ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ইন্ধনে পুলিশের সামনেই চলছে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ। সামনে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা থাকায় এ মেলা চলার ফলে একদিকে যেমন বিঘিœত হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া, অন্যদিকে সেখানে লটারির নামে নিত্যনতুন মোটরসাইকেল প্রাইজ দেওয়ার নামে সাধারণ জনগণের পকেট কেটে করা হচ্ছে নিঃস্ব।

গত ২০ জানুয়ারি শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল হতেই শতাধিক সিএনজি, ইজিবাইক ও অটোভ্যানে করে জেলার বিভিন্ন স্থানে লাটালির টিকট নিয়ে ছরিয়ে পরছে ভ্রাম্যমান কাউন্টার। বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভ্যারাইটিশোতে বেসামালভাবে সুন্দরী নারীদের গাঁয়ের পোশাক খুলে চলছে নগ্ন নৃত্য ও গান। রাত ৯টার পর থেকে ওই লটারীর নামে বিশেষ জুয়া সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হয় স্থানীয় অবৈধ্য ক্যাবল চ্যানেলে। এই ক্যাবল টেলিভিশনের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। যাত্রা প্যান্ডলে রাত ১২টা থেকে ভোড় পর্যন্ত শুধুই অশ্লীলতা ও বিকৃত যৌন আবেদনে ভরা উলঙ্গ নৃত্য এবং অরুচিকর গানের আগ্রাসন।

উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও গ্রাম্য যুবকসহ দূর-দূরান্তের বিকৃত মানসিকতার মানুষের উপচেপড়া ভীড়। তাদের আড্ডায় জমে উঠছে মেলা প্রাঙ্গন। ভাবার বিষয় হচ্ছে অশ্লীল নৃত্য চালাকালিন যাত্রা প্যান্ডেলে মান্দা থানার একাধিক পুলিশ সদস্যকে পোষাক পরিহিত অবস্থায় নারীদেহের নগ্ন নৃত্য উপভোগ করতে দেখা যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লটারী নামক জুয়া খেলা টিভির পর্দায় দেখানোর অনুমতি দিয়েছে। আর সে কারনেই তারা চোখে-মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।

মেলা এলাকা বর্তমানে অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জমজমাট মাদকের হাট ও মিনি পতিতালয়। এছাড়া ভাসমান পতিতাদের পদচারণাও রয়েছে। আবার প্রতিযোগিতামূলকভাবে চলছে গাঁজা ও ইয়াবা সেবন। অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ না করে উল্টো তাদের উৎসাহিত করছে বলে সচেতনমহলের অভিযোগ। কথা হয় মেলা দেখতে আসা ফরিদের সাথে, তিনি বলেন এসেছিলাম মেলা দেখতে তবে একা কারন মেলার যে অবস্থা তাতে পরিবার নিয়ে তো আসা অসম্ভব।

আরেক জন তহিদুল বলেন, এ রকম গ্রাম পল্লী এলাকায় মেলার নামে অশ্লীলতা তরুণ ছেলে মেয়েরা খারাপের দিকে ধাপিত হবে বলে তিনি মনে করেন। একইভাবে অনেকের অভিযোগ রয়েছে মেলার নামে এ ধরনের অশ্লীলতা নিয়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্কুল শিক্ষক জানান, অশ্লীলতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে এলাকার উঠতি বয়সের যুবকদের বিপথ গামী করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামন করেন।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, আমরা এসব অশ্লীলতা চলতে দিবনা। অতি দ্রুত এ মেলা বন্ধ করা হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমন জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে এসব বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।