নলছিটিতে যুবলীগ নেতার স্ত্রীর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

0
231

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নলছিটিতে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় যুবলীগ নেতার স্ত্রী মারুফা আক্তার পপি বিষপানে আত্মহত্যার চেস্টা চালিয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলার দপদপিয়া এলাকার নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটায়। পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষনিক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে । পপি ওই এলাকার দপদপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক নুরে আলম খানের স্ত্রী ও একই এলাকার সাবেক গ্রাম সরকার আইয়ুব আলীর মেয়ে।

পপির স্বজনরা জানান, নলছিটির দপদপিয়া এলাকার ওহাব খানের ছেলে নুরে আলমের সাথে একই এলাকার আইয়ুব আলীর মেয়ে মারুফা আক্তার পপির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে নুরে আলম ও পপির দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দেয়। নুরে আলম মাদকের কেনা-বেচা করে আসছে। এলাকায় সে মাদক স¤্রাট হিসেবে পরিচিতি। সে যুবলীগের সাইনবোর্ড লাগিয়ে তার মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই ৩২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ র‌্যাবের হাতে আটকও হতে হয়েছিলো এই নুরে আলমকে।

অপরদিকে পপিও বিভিন্ন একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া পপি কয়েক বছর পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে একজনের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে অবৈধ মেলামেশা করে। একপর্যায়ে সে গর্ভবতী হয়। বিষয়টি নুরে আলম বুঝতে পেরে ওই ছেলেকে মারধর করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায় করে ও ওই সন্তান নষ্ট করে দেয়। নুরে আলম শুধু পপি নয় নুরে আলমও পরকীয়ায় আসক্ত। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রায় সময়ই ঝগড়া-বিবাদ লিপ্ত থাকতো। এ নিয়ে নুরে আলম তার স্ত্রী পপিকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন গতকাল সকালে পপির পরকীয়া জের ধরে নুরে আলমের সাথে তার ঝগড়া বাধে। এ সময় দুজন দুজনের পরকীয়া পাল্টাপাল্টি কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরে আলম স্ত্রী পপিকে মানসিক নির্যাতন করে। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে পপি বিষপান করে আত্মহত্যার চেস্টা চালায়। পরে নুরে আলম ও নলছিটি থানার এসআই রাসেল গুরুতর অবস্থায় পপিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষনিক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে এসআই রাসেলকে পাঠিয়ে দেয়। সে আরো জানান রাসেল শেবাচিমে গিয়ে নিশ্চিত হয় ইদুরের ঔষধ খেয়ে পপি আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তবে এ বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুক ব্যবস্থা নিবো।