নিজ দলে অবহেলিত : বাস্তবে জনপ্রিয় নেতা খান মামুন

0
289

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আলহাজ্ব মাহমুদুল হক (খান মামুন)। নামটি বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অঙ্গনে অবহেলিত এক নেতার নাম। তিন যুগ ধরে দলের কাছে অবহেলিত থাকলেও বরিশাল নগরীর সিংহভাগ জনমনের মনিকোঠায় রয়েছেন তিনি।

কেননা তার কাছে যাওয়া মানুষদের সব সময়ই সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

যা নগরীর বর্তমান ও অতীত প্রেক্ষাপটে এ সব কার্যক্রমের কয়েক শতাধিক প্রমাণচিত্র দৃশ্যমান হয়ে থাকলেও নিজ রাজনৈতিক দল থেকে খান মামুনের প্রাপ্তির পালাছিল খুবই ক্ষীণ। যা বরিশালের অধিকাংশ সচেতন ব্যক্তিরই জানা।

জনগনের সেবায় নিয়োজিত হবার জন্য আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন (২০১৮) মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে আগ্রহী খান মামুন। বিষয়টি সম্পর্কে কেন্দ্রিয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জানিয়েছেন তিনি।

বরিশাল আ’লীগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল রাজনৈতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে অদ্যবধি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান খান মামুন।

১৯৮০ইং সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতি ও রাজনৈতিক আদর্শ পালন করে আসছেন তিনি। পর্যায়ক্রমে ১৯৮২ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বরিশালের ছাত্রদের নেতৃত্ব , ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বরিশাল যুবকদের নেতৃত্ব¡, ২০০৯ সালে বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হয়ে নির্বাচন অংশগ্রহন, ১৯৮৯ সালে বি.এম. কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) এ.জি.এস ১৯৯০ সালে (বাকসু) জি.এস এবং ১৯৯৭ সালে ভি.পি ছিলেন।

 

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান বিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৮৯ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক হয়ে বরিশাল অঞ্চলে সর্বত্মক ভূমিকা পালন, বি.এন.পির আজিজের পাতানোর নির্বাচনের প্রতিরোধ, ১/১১ পরবর্তী সরকার বিরোধী আন্দোলনে বরিশাল নগরীর নেতৃতের সময় একাধিক মামলাসহ পুলিশের নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ মানবাধীকার কমিশন বরিশাল মহানগর এর সভাপত্বি এবং বরিশাল মহানগর বরিশাল কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তবে আওয়ামীলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার সময় অর্থাৎ ১৯৮১ সালে ১৫ই আগষ্ট পালনকালে বরিশাল ল’কলেজ মাঠ থেকে গ্রেফতার হয়।

 

১৯৮১ সাল থেকে বি.এন.পি ও এরশাদ বিরোধীয় আন্দোলনে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখি ও সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য কাজ করে এবং এ সময় একাধিক মামলার আসামী হয়। ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং একাধিক মামলার আসামী হয়। ওয়ান ইলেভেন এর পরবর্তী সময়ের জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিবাদে বরিশাল মহানগর যুবলীগের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে পুলিশ কর্তৃক নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকেও খান মামুন বরিশালের অধিকাংশ নেতাদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। শিক্ষা জীবনে তিনি অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনায় ও ইতিহাস তিনটি বিষয়ে মাষ্টার ও এল.এল.বি পাশ করেছেন। এর পাশাপাশি ১৯৮২ সালে বরিশাল বি.এম কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য।

১৯৮৩ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা সম্পাদক। ১৯৮৭ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক। ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল প্রায় ১৪ বছর বরিশাল বি.এম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি। ১৯৯০ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৮৯ সালে বি.এম কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) এ.জি.এস। ১৯৯০ সালে বি.এম কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) জি.এস। ১৯৯৭ সালে বি.এম কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) ভি.পি নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক পদ অর্জন করে। ২০০৯ সালে বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০০৮ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু নির্বাচনের মাত্র ৭ দিন আগে দলের সিদ্ধান্তে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে। ২০১৩ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন।

২০১৬ সালে বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য পদ অর্জন করে। বরিশালের ক্রীড়াঙ্গন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও বিভিন্ন সেবা মূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন খান মামুন। রাজনীতি নিয়ে মনোভাব, অবস্থান, পরিকল্পনা এবং বরিশালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করলে মাহমুদুল হক খান মামুন সময়ের বার্তা কে বলেন, ৩৬ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করছি। অনেক হামলা-মামলা সহ্য করার পাশাপাশি বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে সে। দলের প্রতি অনিহা নয়, যতদিন বাঁচব ততদিন আওয়ামী লীগের হয়েই বরিশালবাসীর উন্নয়নে কাজ করে যাবে। তার প্রায় সকল কার্যক্রম সম্পর্কেই কেন্দ্রিয় নেতা কর্মীরা জানেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হবেন তিনি । অবশ্যই কেন্দ্রিয় নেতা কর্মীরা তার দিকে সুদৃস্টি রাখবেন বলে তার বিশ^াস। উল্লেখ্য, নগরীর বগুড়া রোড (খান মঞ্জিল) প্রথম গর্লি এলাকার মৃত এ.কে.এম শামসুল হক খান (অবঃ জেলা প্রশাসক) এর ছেলে আলহাজ্ব মাহমুদুল হক (খান মামুন)।