নিয়োগবিধির সাথে প্রতারণা, ডিসি কোর্টের পেশকার বারেক মোল্লার পূর্ব পেশা ডাকাতি

0
1275

এম.লোকমান হোসাঈন ॥ তথ্য গোপন করে বছরের পর বছর সরকারী চাকরী করে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসত এবং কোর্ট পেশাকরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ডিসি কোর্টের পেশকার বারেক মোল্লার বিরুদ্ধে।

মন্ত্রীপরিষদেু অভিযোগকৃত দরখাস্তে দেখা যায়, বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৬ নং চওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ গিয়াস উদ্দিন মোল্লা উরফে ভেন্ডার গিয়াসের ছেলে আঃ বারেক মোল্লা।

এলাকায় হিন্দু সম্প্রাদায়ের উপর নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাইসহ নানান অভিযোগে একাধিক মামলার আসামী বারেক মোল্লার বড় ভাই ডাকাত সরদার আঃ লতিফ মোল্লা ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পরপরই বড় ভাইর ছেলে-মেয়ে নিয়ে ১৯৯০ সালে বরিশালের হারিনাফুলিয়াতে আত্মগোপন করেন বারেক।

বরগুনা জেলার বাসিন্দা হয়েও বরিশাল সদর উপজেলার হরিণাফুলিয়া নামক গ্রামে আত্মগোপন অবস্থায় তৎকালীন চেয়ারম্যানের সার্টিফিকের্ট জাল করে বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সার্টিফিকেট সহকারী পদে ১৯৯১ সালে যোগদান করেছেন।

সরকারি বিধি মোতাবেক ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল প্রার্থীর নিজ এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। যা সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের শাখা-বিধি-১ এ যা ১৯৯২ সালের ১০২ নং স্মারকে উল্লেখ করা।

অথচ বারেক মোল্লার গ্রামের বাড়ি বরগুনায়। ১৯৯০ সালের ফেব্র“য়ারী মাসের ১৫ তারিখের চুড়ান্ত ভোটার তালিকাতে দেখা যায়, পিতা মোঃ গিয়াসউদ্দিন মোল্লার ভোটার ক্রমিক নং-১১৪ ও তার ভাই আঃ মালেক এর ভোটার নম্বর ১১৫, আঃ লতিফ এর ভোটার নং-১১৬, আঃ রাজ্জাক এর ভোটার নম্বর ১১৭, আঃ বারেক এর ভোটার ১১৮ ও আঃ জলিল এর ভোটার নম্বর ১১৯।

এদের সকলের স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করা হয় বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৬ নং চওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামে। বারেক মোল্লার গ্রামের বাড়ী বরগুনাতে থাকার পরেও কিভাবে বরিশাল জেলার স্থায়ী বাসিন্দা দেখিয়ে সরকারী চাকুরী নিয়েছেন

বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ১৯৯১ সালের অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক নুরুল আলম খাঁন স্বাক্ষরিত আদেশে বর্তমান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অস্থায়ী পদে অফিস সহকারী হিসাবে বারেক মোল্লাকে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

যোগদানের পরপরই বারেক মোল্লা ডিসি অফিসে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচারণ, ঘুষ নিয়ে প্রতিপক্ষকে মামলায় জিতিয়ে দেওয়া, জেলা প্রশাসক কার্যায়ের সাবেক সহকারী জেলা প্রশাসক মোঃ জাকির হোসেনের বাসার গৃহকর্মি হত্যার সহযোগীতাসহ নানান দুর্নীতির অভিযোগ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে বারেক মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন বরিশাল সদর উপজেলার আলিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহ আলম।

মন্ত্রীপরিষদ থেকে ওই অভিযোগের বিষয়ে এক মাসের মধ্যে তদর্ন্তপূবক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসককে।

অভিযোগ সূত্রে, বারেক মোল্লা ১৯৯১ সালের সেপ্টম্বর মাসের ৩০ তারিখ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৮ তারিখে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার ৪৬ নং স্মারকে তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস, বারেক মোল্লাকে দুর্নীতির অভিযোগে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রেষণে বদলী করেন।

বরগুনাতে কয়েক মাস কর্মরত থাকার পরে অবৈধ অর্থ ও উপর মহলের প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সার্টিফিকেট শাখায় যোগদান করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক কর্মকালীন সময় কোন সুবিধা ভোগ করতে না পেরে জেলা প্রশাসক বদলি হয়ে যাওয়ার পরপরই বিপুল অর্থের বিনিময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসেনকে দুই লাখ টাকা ঘুষের বিনিময় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার পদে বদলী হয়ে আসেন। এবিষয় ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বারেক মোল্লার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এসময় বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস অভিযোগপত্রের আলোকে ন্যায় বিচারের স্বার্থে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড.গাজী মো: সাইফুজ্জামান বরাবর প্রেরণ এবং আঃ বারেক মোল্লাকে অন্যত্র বদলীপূর্বক অবহিত করার নির্দেশ দেন। যার স্মারক নম্বর ৪৩০৩।

যার তারিখ উল্লেখ করা হয় ২০১৬ সালের মে মাসের ৩০ তারিখ। রহস্যজনক কারনে ওই অভিযোগপত্রটি গায়েব হয়ে যায়। যার ফলে এখন পর্যন্ত সেই অভিযোগপত্রটি আর আলোর মুখ দেখতে পায়নি।

বারেক মোলল্লার দাবী, তিনি ১৯৮৩ সালে বরিশালের সদর উপজেলার হরিনাফুলিয়া নামক এলাকতে ভোটার হয়েছে। ওদিকে সময়ের বার্তায় যে কাগজপত্র এসে পৌঁছেছে সেখানে দেখা যায়, বরগুনার আমতলী উপজেলার ৬নং চওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামে ১৯৯০ সালের ভোটার তালিকায় তিনি ও তার পরিবারের ৬ সদস্যের নাম।

তার দাবী অনুসারে, ১৯৮৩ সালে যদি ভোটার হয়ে থাকেন তাহলে তার বয়স মাত্র ১২ বছর। কারন বারেক মোল্লার দাবী অনুসারে ১৯৮০ সালে এসএসসি পাশ করেছেন। আর ভোটার হয়েছেন ১৯৮৩ সালে। অর্থাৎ সেখানেও লুকোচুরি করে ভোটার হয়েছেন।

মন্ত্রীপরিষদ থেকে অন্যান্য অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে বারেক মোল্লা বলেন সেটা অফিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছেন। জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, সরকারী কোন কর্মচারীদের নিয়োগ ক্ষেত্রে স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানা শুধু নিয়োগ পাবার পূর্বে নিয়োগ কর্তারা এ বিষয় দেখবেন।

নিয়োগ পাবার পরে নিয়োগ প্রার্থীর ঠিকানা কোন মুখ্য বিষয় নয়। তিনি আরো জানান, প্রার্থী নিয়োগ পাবার আগেই যাছাইবাচাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বারেক মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে বদলি করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এর আরএম শাখায় বদলি করা হয়েছে।