ন্যাশনাল সার্ভিস সদস্য মিরাজ বাহিনীর রিট বাণিজ্যের কোটি টাকার স্বপ্ন!

0
113

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর সদস্য মিরাজ বাহিনীর রিট বানিজ্যের সংবাদ প্রকাশের পরে বেরিয়ে আসে মিরাজ বাহিনীর কোটি টাকা বাণিজ্যের আরো চাঞ্চ্যলকর তথ্য। রিট করার জন্য প্রাথমিক ভাবে ফরম বাবদ ২২৫ টাকা জমা নেবার সময় সকল সদস্যদের শর্ত তুলে দেন আগামী এক মাস পরে দিতে হবে জনপ্রতি আরো ৬ হাজার টাকা। এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগি একাদিক সদস্যদের।

অনুসন্ধানে দেখা যায় বরিশাল সদর আওতাধীন ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় কাজ করছেন ২হাজার ১১ জন সদস্য। এদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার সদস্য ২২৫ টাকা ফরম বাবদ চাদা দিয়েছেন অতএব আগামী মাসে রিট বাবদ জনপ্রতি আরো ৬ হাজার টাকা চাদা দিবেন। ২ হাজার সদস্যর কাছ থেকে জনপ্রতি ৬ হাজার করে চাদা উত্তোলন করা হলে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা চাদা উত্তোলন করা হবে। এনিয়ে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

সাধারণ সদস্যদের দাবী রিট করার জন্য এতো টাকা প্রয়োজন হয় না। বরিশাল সদর উপজেলা শাখার বাংলাদেশ ন্যাশনাল সার্ভিস একতা কল্যান পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ সংগঠনের নেতারা উক্ত চাদা উত্তোলন করে রিট করার নামে আত্মসাতের পায়তারা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে। সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনই কোন পদেক্ষেপ না নেয়া হলে যে কোন সময় বড় ধরনের অপ্রতিকার ঘটনা গঠতে পারে।

অভিযোগ উঠে চলতি মাসের ১৮ তারিখ বুধবার পর্যন্ত ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় থাকা সকল সদস্যদের চাকুরী স্থায়ী করণের জন্য উচ্চ আদালতে রিট করার প্রয়োজন দাবী করে জনপ্রতি ২২৫ টাকা করে হাতিয়ে নেন চক্রটি। ২২৫ টাকা করে ২হাজার সদস্যর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

টাকা উত্তোলন করে ১৮ তারিখ বিকালে উক্ত কমিটির প্রায় ২০ থেকে ২২ জন সদস্য লঞ্চ যুগে ঢাকায় আইনজীবিদের সাথে পরামর্শ করতে যান বলে একটি সুত্রে নিশ্চিত করেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বরিশাল সদর উপজেলার আওতাধীন উর্চ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবী, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসুচির আওতায় অন্তভুক্ত সদস্যরা রিট করে কোন কাজ হবে না। সরকার ইচ্ছা করলে নতুন প্রকল্প চালু করেন তাহলে হয়তো সেখানে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া কোন উপায় নেই বলে দাবী তাদের। তারা আরো বলেন, এই প্রতারনা চক্রটির ফাদে পা দিয়ে অর্থ খরচ করেন সেই দায়বার কোন কর্তৃপক্ষ নেবে না।

অভিযোগ উঠে ন্যাশনাল সার্ভিসে কাজ করা মিরাজ হোসেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, জসিম, হাসান ও রাসেল সহ আরো ২০ থেকে ২২ জনার একটি চক্র সাধারণ সদস্যদের চাকুরী স্থায়ী করণের কথা বলে গত ১৮ তারিখ পর্যন্ত জনপ্রতি ২২৫ টাকা করে চাদা উত্তোলন করেন পাশাপাশী আগামী মাসে ২হাজার সদস্যর কাছ থেকে জনপ্রতি নেয়া হবে আরো ৬ হাজার টাকা করে।

যার সর্ব মোট অর্থ ধারায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। সদস্যরা আরো অভিযোগ করেন, সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে চাদা উত্তোলন করে চক্রটি ঢাকা সহ নানা যায়গায় আমত ফুর্তি করে যাচ্ছেন। এটা আসলে সঠিক হচ্ছে না বলে দাবী সদস্যদের। মিরাজের মুঠোফোনে ফোন দিলে এবিষয় কোন জবাব না দিয়ে বরিশাল সদর উপজেলা শাখার বাংলাদেশ ন্যাশনাল সার্ভিস একতা কল্যান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম মিন্টুকে মুঠোফোন ধরিয়ে দেন। মিন্টু আইনি লড়াইয়ের বিষয় প্রথমে স্বীকার করে বলেন চাকুরী স্থায়ী করণের জন্য আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

যাতে তাদের দাবীগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। যদি তিনি পরবর্তিতে আইনী লড়াইয়ের বিষয় অস্বিকার করেন। সদস্যদের কাছ থেকে চাদা উত্তোলনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন সবার কাছ থেকে চাদা উত্তোলন করা হয়নি। তবে সংগঠন পরিচালনা করতে হলে অর্থের প্রয়োজন। তাই কিছু কিছু সদস্যদের কাছ থেকে চাদা উত্তোলন করেছি। কিন্তু ৬ হাজার টাকার বিষয় অস্বিকার করেন।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, সরকার বেকার যুবসমাজের জন্য যুব অধিদপ্তরের আওতায় ২ বছরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর প্রকল্প চালু করেছেন। উক্ত প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায়। চাকুরী স্থায়ী করার জন্য রিট করার বিষয় তিনি বলেন,এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে রিট করার নামে কেউ অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা বা চাদাবাজী এমনকি দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।