নড়াইলের হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

0
28

সাজিদুল ইসলাম শোভন, নড়াইল প্রতিনিধি।।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ হোসেন মোল্যাকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ভোরে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দুর্বৃত্তরা ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ হোসেন মোল্যার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে গুলি করে। এ সময় নাহিদ হোসেনের খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। হামিদপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন গাজীরহাটের এই বাড়িটি।

নাহিদ হোসেনের ছোট নদী খানম জানান, দুবৃর্ত্তরা দুই তলায় উঠে জানালা দিয়ে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তার বাবা একাই ওই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন। তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পিঠসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুলির চিহৃ রয়েছে। নাহিদ হোসেনের খালাতো বোন শাহনাজ বেগম বলেন, সকাল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাই।

এলাকাবাসী জানান, ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে নাহিদ হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী জানান, নাহিদ হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নড়াইল প্রতিনিধি

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীকে অপহরণের অভিযোগে নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের রুপগঞ্জ এলাকায় কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান স্বপন।

লিখিত বক্তব্যে ছাত্রলীগ নেতা কামরুজ্জামান স্বপন বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২১ আগস্ট জেলা প্রশাসকের বাসভবন এলাকা থেকে জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য এক নারীকে জোর-জবরদস্তি করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষীতে ওই নারীর ছেলে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক জুবায়ের ইবনে মশিয়ার নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফুজ্জামান মুকুলসহ ৭জনকে আসামী করে ঘটনার তিনদিন পর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মুকুল ছাত্রলীগ নেতা রাকিবকে নিয়ে বন্যার্ত মানুষের সাহায্যার্থে ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার বাসভবনের গেটের সামনে উপস্থিত হলে পার্শ্বে চেচামেচির শব্দ শুনতে পান। তিনি (সেক্রেটারী) দেখেন একটি মাইক্রোবাস দ্রুত গতিতে বেপরোয়াভাবে আসছে।বিষয়টি তিনি সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোনে অবহিত করে মাইক্রোবাসটি থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মাইক্রোবাস থেকে এক নারী লাফ দিয়ে পড়ে যান। একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে এবং ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মুকুলকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ওই ঘটনায় মুকুলের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।নড়াইল জেলা ছাত্রলীগ এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মুকুলসহ অন্যান্য ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে আসামী করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইনামুল শেখ, তৌহিদুর জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বাপ্পী, ছাত্রলীগ সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার সেক্রেটারী পলাশ হাসান জয়, লোহাগড়া উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রাশেদ হাসান প্রমুখ।