নড়াইলে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চল

0
82

সাজিদুল ইসলাম শোভন, নড়াইল প্রতিনিধি ।।

নড়াইলে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে লোহাগড়া উপজেলার মানুষের জীবনচিত্র। লোহাগড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তৈরি হয়েছে পাঁকা সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা। এছাড়া লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিয়ে বন্ধ, নদী ভাঙন এলাকায় টিন প্রদান, খেলার উপকরণ প্রদান, হারমোনিয়াসহ বিভিন্ন উপকরন দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির অধীনে অনগ্রসর উপজেলার জন্য বিশেষ থোক বরাদ্দ উপখাত থেকে ২০১৫- ২০১৬ অর্থ বছরে লোহাগড়ার চাচই ওয়াপদা থেকে কালনা সড়ক পর্যন্ত সড়ক মেরামত করা হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা। এলাকাবাসী জানান, সড়কটি মেরামত করায় জনসাধারণের উপকার হয়েছে। আগে ভাঙ্গাচেরা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা কষ্টকর ছিল। এদিকে, চাচই সিডি থেকে কালনা সড়ক উন্নয়নে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া চাচই এলাকার আরো একটি সিসি সড়কে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এতে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটুর প্রচেষ্টায় এসব সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৫- ২০১৬ অর্থ বছরে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে লোহাগড়া বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকান্ডে এবং নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চার লাখ টাকার টিন প্রদান, বাল্যবিয়ে নিরোধে চার লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন গ্রামে মহিলাদের শাড়ি, ইমাম ও কাজীদের পোশাক প্রদান এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে দুই লাখ টাকার ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

এতে শিক্ষার্থী পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলার সুযোগ পাচ্ছে। এ ব্যাপারে লোহাগড়া পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হায়াতুজ্জামান হায়াত বলেন, লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটুর প্রচেষ্টায় আমাদের ছেলেমেয়েরা ক্রীড়া সামগ্রী পেয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধূলা করছে। ক্রীড়া শিক্ষক দিলীপ কুমার বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শুধু পাইলট স্কুলে নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় ক্রীড়া সামগ্রী দিয়েছেন। তার (লিটু) প্রচেষ্টায় খেলাধূলায় এগিয়ে যাচ্ছে লোহাগড়া উপজেলা। বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরো দুই লাখ টাকার জার্সি দেয়া হয়েছে। এতে স্কুল পড়–য়া খেলোয়াড়রা নিজস্ব জার্সি গায়ে দিয়ে খেলাধূলা করছে।

এদিকে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ২০১৫- ২০১৬ অর্থ বছরে দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র দিয়েছেন। কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগিদের কষ্ট লাগবে লোহাগড়া বিভিন্ন ক্লিনিকে দুই লাখ টাকা সিলিং ফ্যান দেয়া হয়েছে। এতে গরমের কষ্ট দুর হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকার হারমোনিয়ামসহ বাদ্যযন্ত্র দেয়ায় সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা চলছে। লোহাগড়ার লাহুড়িয়ার কালিগঞ্জ বাজারে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে ল্যাট্রিন করে দেয়ায় বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাসহ ব্যবসায়ীরা বাথরুমের সব সুবিধা পাচ্ছেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এর আগে আমাদের বাজারে ভালো কোনো বাথরুম ছিল না। এতে সবার দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নলদী বাজারেও দুই লাখ টাকা ব্যয়ে বাথরুম নির্মিত হওয়ায় জনসাধারণ এর সুবিধা পাচ্ছেন। লোহাগড়া উপজেলার সব ইউনিয়নের ভূমি অফিসের পুরাতন রেকর্ড ও ফাইল বাঁধাই করা হয়েছে। এ কাজে দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং, মাদক ও এডিস নিক্ষেপ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালার মাধ্যমে এর কুফল সম্পর্কে জনসাধারণ সজাগ হয়েছেন। এ কাজে দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের মাঝে দুই লাখ টাকা হুইল চেয়ার ও স্ক্রাচ প্রদান করায় প্রতিবন্ধীদের কাজকর্ম গতিশীল হয়েছে। বিভিন্ন হাটবাজারে দুই লাখ টাকার টিউবওয়েল স্থাপনে সুপেয় পানির কষ্ট দুর হয়েছে। এক টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও কার্ড প্রদান করায় শিক্ষার্থীরা তাদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে।

লোহাগড়া উপজেলায় উন্নয়নের ধারায় বিখ্যাত উপন্যাসিক নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা সহজে নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি যেতে পারছেন। এ কাজে দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। হতদরিদ্র মহিলাদের মাঝে প্রায় এক লাখ টাকার শাড়ি দেয়া হয়েছে। শাড়ি পেয়ে খুশি এলাকার দরিদ্র মহিলারা। লোহাগড়ার দেবী গ্রামে ইটের সোলিং করায় নিকুরী বাজারসহ স্থানীয়দের যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে। এখানে রাস্তা নির্মাণে দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। দুই লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদা দাখিল মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে পাঠদানে সুবিধা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন কাজের প্রচার-প্রচারণায়ও লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু কাজ করে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলার চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় লোহাগড়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছি। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আরো উন্নয়ন কাজ করতে চাই। লেহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভিন বলেন, সরকারের উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিটি উন্নায়নমূলক কাজ যাতে সঠিক ভাবে সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সৈয়দ মোঃ আজিম উদ্দিন কে সাথে নিয়ে আমি সঠিক ভাবে তদারকি করার চেষ্টা করি।