‘পরকীয়ার রানী’ লিজার আঘাতে তছনছ সংসার কাশিপুর সারসী এলাকার বাসীন্দা হাবিবের

0
524

এম.লোকমান হোসাঈন ॥ বর্তমান সময়ে পরকীয়া সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে। দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপকভাবে এই সামাজিক ব্যাধিটি আলোচিত হয়ে আসলেও তা রোধ করার মত সাম্যক কোন সমাধান সূত্র জুটছে না।

এসব সর্ম্পকের কিছু চিত্র সচারচারই ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভাঙছে সংসার। ঘটছে নানা ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা। পরকীয়ায় পুরুষ বেশি আসক্ত হয়ে থাকে এমন অভিযোগ পুরানো হলেও এবার সন্ধান পাওয়া গেল এক ভিন্ন গল্প।

বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়ার এক পরকীয়ার রানীর সন্ধান মিলেছে সময়ের বার্তার অনুসন্ধানে। নিজে কতজন ছেলের সাথে অবৈধ সর্ম্পকে জড়িয়েছেন তা নিজেও জানেন না তিনি বলে স্বীকার করেছেন ওই অভিযুক্ত নারী।

এই কারনে ভেঙ্গেছে সংসারও। তবুও নিবৃত হননি তিনি। নাম তার লিজা আক্তার। সম্প্রতি পরকীয়ার কিছু অন্ত:রঙ্গ মুহুর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। সেই সূত্র ধরে স্ত্রীকে তালাক দেন স্বামী হাবিব। কিন্তু তালাক দিয়েও নিস্তার নেই।

 

এবার পুরুষদের ফাঁদে ফেলা লিজার ফাঁদে পড়েছেন খোদ সাবেক স্বামী-এমনটাই দাবী হাবিবের। জানা গেছে, সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের লাকুটিয়া সারসী এলাকার বাসিন্দা আবদুল হক হাওলাদারের ছেলে ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী হাবিবের ও লাকুটিয়া বকশিরচর এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদের মেয়ে মোসা: লিজা আক্তারের সাথে ২০১২ সালের ১ মে রেজিস্ট্রী কাবিন মূলে বিয়ে হয়। হাবিব বিয়ের পূর্বে থেকেই সিঙ্গাপুর প্রবাসী। বিয়ের পরপরই আবারও প্রবাসে চলে যান তিনি। হাবিব প্রবাসে চলে গেলে স্ত্রী লিজা আক্তার একরে পর এক পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে বলে জানায় সাবেক স্বামী হাবিব। তার স্ত্রী ফেসবুকে সক্রিয় রয়েছেন ‘লিজা আক্তার’ নামে একটি ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে।

 

এই আইডির মাধ্যমে বেশ কয়েকজন পুরুষের সাথে সর্ম্পক স্থাপন করে। লিজার সাবেক স্বামী হাবিব জানায়, লিজা ফেইসবুক ও ইমো ব্যবহার করে এমআর নিরব, বিএসএল ইমরান, এমডি.রিপন, এমডি.জাকির হোসাইন, এমডি.কামরুল ইসলাম, এমডি নাইম, সাইদুর রহমান, লাভ লাইন, গরিব বাবার বড় ছেলে প্রভৃত্তি আইডির পুরুসদের সাথে সর্ম্পক গড়ে তুলে এমনকি তা দৈহিক সর্ম্পক পর্যন্ত গড়ায়। এসব আইডির বন্ধুদের ম্যাসেঞ্জারে লিজা তার নিজের নগ্ন ছবি আদান প্রদান ও অশ্লীল চ্যাটিং করে আসছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখ বিকাল ২টা ৪৮মিনিটের সময় লিজা তার ব্যক্তিগত আইডি দিয়ে এমআর নিরব এর ম্যাসেঞ্জারে অশ্লীল ছবি পাঠায়।

 

ছবিতে দেখা যায়, লিজা সম্পূর্ণ উলঙ্গ ছবি পাঠিয়েছে। পাশাপাশি অশ্লীল চ্যাটিংয়ের প্রমানও পাওয়া গেছে। লাভ লাইন আইডির সাথে ২৩ অক্টোবর রাত ১১টায় অশ্লীল ছবি ও চ্যাটিং করেন, ২৫ অক্টোবর সন্ধা ৭ টা ২৩ মিনিটে, বেলা ১১ টা ৫৬মিনিটে বিএসএল ইমরারনর সাথে একইি স্টাইলে, ২৫ সেপ্টম্বর এমডি. কামরুল ইসলামের সাথে অশ্লীল চ্যাটিংয়ের প্রমান পায় তার স্বামী হাবিব। হাবিব জানায়, চ্যাটিংয়ে লিজা স্বামীর বাসায় এবং নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত্রি যাপন করেছে বলে প্রতিয়মান। এসবের প্রমান পাওয়ায় স্বামী হাবিব ১ নভেম্বর ২০১৭ সালে বরিশাল সিনিয়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন। যার হলফ নং-৪৫২/০১৭।

 

এ সংবাদ জানতে পেরে রিজাও পাল্টা মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি রিকিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। লিজার অবিযোগের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন ওসি মো: আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, এর আগে লিজার শ্বাশুড়ি রেনু বেগম এয়ারপোর্ট থানায় লিজার বিরুদ্ধে একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। তবে রিজা নিজেকে এয়ারপোর্ট থানার ওসি আনোয়ার হোসেনের আত্মীয় দাবী করে অশ্লীল ছবি ও পর-পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার বিষয় স্বীকার করে বলেন, স্বামী বিদেশ থাকাতে আমি এমনটা করতে বাধ্য হয়েছি।

 

ভুল মানুষই করে, আবার মানুষেই ক্ষমা করে। আমি স্বামীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছি। কিন্তু সে তা মানতে নারাজ। বাধ্য হয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। লিজা জানায়, আমি হাবিবের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করবো। লিজা আরও বলেন, হাবিবের টাকা কম নেই। আমাকে ৬ লাখ টাকা দিলে আমি হাবিবকে ছেড়ে দিবো। নয়ত বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করবো।