পেশকার আরিফের বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে দুদক!

0
221

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অদৃশ্য ক্ষমতা দেখিয়ে র্দীঘ চার বছর একই দপ্তরে কর্মরত পেশকার আরিফুজ্জামান খান। আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ কর্তবাবুদের ম্যানেজ করে সরকারী সম্পত্তি অন্যকে পাইয়ে দেয়া, নামজারী, ডি সি আর এর অর্থ সঠিক ভাবে সরকারী তহবিলে জমা না দেয়া, অবৈধ বালু মহল থেকে বালু উত্তোলনকৃত অসাধু ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ অর্থ আদায় সহ নারী কেলেকাংরীর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অফিসের কর্মচারী সহ নিরীহ লোকদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ আরিফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠে ৪ বছর পূর্বে বাকেরগঞ্জ থাকাকালীন সময় তারই অফিসের একজন নারী কর্মচারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই সময় স্থানীয়দের জনরোশে পড়েন আরিফ। পরে বরিশাল সদর ভুমি অফিসে বদলী হয়ে আসেন।

বরিশাল আসার পর-পরই কর্তবাবুদের ম্যানেজ করে বেপয়ারা হয়ে পড়েন আরিফ। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ২০ তারিখ আরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বেশ কিছু তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয় সময়ের বার্তায়। সংবাদ প্রকাশের পর-পরই নজরে আসে দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের। উক্ত সংবাদের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামেন দুর্নীতি দমন কমিশন। এমনটাই জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্নীতি দমন কমিশনের উর্চ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, অপরাধ করলে কোন ছাড় নেই। যিনি অপরাধ করবেন তার অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। গত বছরের জানুয়ারী মাসের ২২তারিখ ফেঁসে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসনের ‘কালো বিড়াল’ ভূমি কর্মকর্তা নাজমুল!

শিরোনামে সময়ের বার্তায় একটি সংবাদ প্রকাশ হলে নজরে আসে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হয় তৎকালীন বরিশাল সদর ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার নাজমুল ইসলামের রায়ের বিরুদ্ধে। ওই সময়ে নাজমুলের রায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি খল নায়ক পেশকার আরিফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে। মূলত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল সহকারী কমিশনার ভুমি নাজমুল ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসের ৮ তারিখ প্রর্যন্ত বরিশাল সদর ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার পদে থাকাকালীন অবৈধ ভাবে সরকারের প্রায় ৬০/৭০ একর সম্পত্তি চিহ্নিত ভুমিদস্যুদের পাইয়ে দেওয়া ও মালিকানাধীন সম্পত্তির মালিকদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করে নেন। উল্লেখ স্বরুপ নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডের রুপাতলী মৌজার অর্থাৎ র‌্যাব-৮ এর স্থায়ী কার্যায়ের সম্মুখে সরকারে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি (অর্পিত সম্পত্তি), রুপাতলীর বাসিন্দা মৃত মোঃ আলী হাওলাদারের ছেলে মোঃ মোকছেদ আলী মানিক হাওলাদার এবং কাশেম আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম বাবুকে ভূমি অফিসের কর্মচারীদের যোগসাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময় জাল কাগজের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন করে দেন। ওই অফিসের একাধিক কর্মচারীরা জানান, এসময় পেশকার আরিফ প্রায় ৮৫ লাখ টাকার বিনিময় রূপাতলী মৌজার জে. এল. নম্বর-৫৬, এস.এ. ১৮৫০ নং খতিয়ানের ১১৪৬ নং দাগের ৭২ শতক সম্পত্তির নামজারী করে দেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায় মূল মালিক রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা হারান চন্দ্র পালের পুত্র জতিন্দ্র নাথ ও জিতেন্দ্র নাথ পাল। তাদের কোন বৈধ ওয়ারিশ না থাকায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তির উপর নজর পরে মোঃ মোকছেদ আলী, মানিক হাওলাদার এবং সিরাজুল ইসলাম বাবুসহ ভূমি খেকোদের। ২০১৪ সালে ৭২ শতক জমি রেকর্ড করার জন্য সদর উপজেলার জাগুয়া ও রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেন ওই ভূমিদস্যুরা। আবেদনের সময় তাজকাঠী সাকিনের জনৈক মেছেরউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে আঃ মজিদ হাওলাদারের নামে (ডিগ্রী) করার কপি রেকর্ড করার জন্য জমা দেন বিষয়টি সন্দেহ হলে ২০১৪ সালে তৎকালীন সদর উপজেলার জাগুয়া ও রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা দেশপ্রিয় চক্রবর্তী রেকর্ড রুমে সার্সিং দেন। সার্সিংয়ের মাধ্যমে দেশপ্রিয় চক্রবর্তী জানতে পারেন ৭২ শতক জমির আসল মালিক রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা হারান চন্দ্র পালের পুত্র জতিন্দ্র নাথ ও জিতেন্দ্র নাথ পাল। তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইলিয়াছুর রহমান বরাবর খাস (অর্পিত সম্পত্তি) মর্মে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন ইউনিয়ন ভুমি সহকা রি কর্মকর্তা দেশপ্রিয় চক্রবর্তী। ২০১৫ সালের ফেব্র“য়ারী মাসের ১৯ তারিখ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইলিয়াছুর রহমান তৎকালীন তহশীলদার, সার্ভেয়ার ও কানুনগুকে সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কারীদের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ৭২ শতক জমি, ভূমি আইন ৯২ ধারার মোতাবেক খাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর প্রস্তাবের ভিত্তিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত করেছেন এবং ওই জমির কোন মালিকানা না থাকায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমি আইন ৯২ ধারার বিধান মতে ১ নং খাস খতিয়ানের আওতায় নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিতে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী সহকারি কমিশনার (ভূমি) উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ওই জমি খাস খতিয়ানে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব দেন। অথচ, মাত্র এক বছরের মাথায় পেশকার আরিফুর রহমানের মাধ্যমে প্রায় ৮৫ লাখ টাকার বিনিময় এক মাস ২৩ দিনের স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘন ঘন তারিখ দিয়ে রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা মৃত মোঃ আলী হাওলাদারের ছেলে মোঃ মোকছেদ আলী মানিক হাওলাদার এবং কাশেম আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম বাবুর পক্ষে ৩৭/০২ নং একটি দেওয়ানি মামলার বরাদ দিয়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ২৩ তারিখ মিস কেস নম্বর-১০৫ কেটি ২০১৪-১৫ (১৫০) ধারা মোতাবেক ২০১৭ সালের সেপ্টম্বর মাসের ১৪ তারিখ মামলা নিম্পত্তি করেছেন।

পাশাপাশি সদর উপজেলার জাগুয়া ও রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তাকে একই বছরের সেপ্টম্বর মাসের ১৮ তারিখ উঃভূঃঅঃ/বরি//সদর/২০১৬-১৭১৪ নং স্মারকপত্রের মাধ্যমে আদেশ মোতাবেক রেকর্ড সংশোধন করে তামিল প্রতিবেদন বরিশাল সদর ভুমি কমিশনারের কার্যালায়ে প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গত বছরের ২২ জুলাই বরিশাল থেকে প্রকাশিত গণমানুষের দৈনিক আজকের সময়ের বার্তায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তৎকালীন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান এডিসি রেভিনিউকে এসিল্যান্ডে নাজমুলের রায় বাতিলক্রমে মূল খতিয়ানে সংযুক্ত করতে নির্দেশ প্রদন করলেও উক্ত কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বর্তমানেও একই শাখায় কর্মরত আছেন আরিফুর রহমান। পেশকার আরিফুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করেন। র্দীঘ চার বছর একই দপ্তরে এবং আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় বর্তমান জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মচারীদের বদলি সংক্রান্ত বাংলাদেশ মন্ত্রিপরিষদের পাঠানো নির্দেশনা কপি পেয়েছেন এবিষয় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দাবী করেন জেলা প্রশাসক। অপরাধ করলে ছাড় নাই। তিনি আরো বলেন, যিনি অপরাধ করবেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এতে কোন ছাড় নেই।