প্রতারক রিপনের গোমর ফাঁস!

0
108

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যার্শী সালাউদ্দিন রিপন নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন পাবার পূর্বেই প্রতারক হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন এস.আর সমাজকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন রিপন! তিনি বরিশাল সদরের বিভিন্ন এলাকাতে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যস্ত সময় পার করলেও সংবাদকর্মী বা কোন অসহয় ভুক্তভোগি রিপনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন করে দেখা বা কথা বলার চেষ্টা করা হলেই তিনি ঢাকাতে আছেন বা বিজি আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

বিষয়টি নিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মহাল্লায় কৌতুহল সৃষ্টি হয়। সচেতনমহল ও চায়ের দোকানে বসে আড্ডারত একাধিক লোকের মন্তব্য যিনি এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি ঢাকাতে কিংবা বরিশালে থেকে এভাবে মুঠোফোনে মিথ্যা কথা বলেন তিনি আবার জনসেবা করবেন কিভাবে? তাদের মতে রিপন কোনমতে এমপি হতে পারলে ৫ বছরেও একবার দেখা পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রিপন মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের নৌকা মার্কায় মনোনয়নপত্র পাবার আশায় নগরী সহ বরিশাল সদর উপজেলা গুলোতে তার নিজের মনোনিত কর্মীদের দিয়েই আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন।

আর সেটা নিশ্চয়ই ফটোশেসন ছাড়া কোন আথিক সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব না। অভিযোগের সূত্রধরে ‘সময়ের বার্তা’র পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগের বিষয় সত্যতাও পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায় স্কুলে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীর পিতা-মাতাই সাবলম্ভী তাদের সন্তানদের দেয়া হয়। দেয়ার কারণ হিসাবে দেখা যায় ওইসকল শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা কেননা কোনভাবে রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী এবং তারই মনোনীতকর্মী! আর একারণেই তাদের সন্তানদের মাঝে অর্থ প্রদান করে থাকেন। যদিও তিনি বিভিন্ন প্রচার-প্রচারনায় বলে বেড়ায় সমাজের অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে তিনি সাহায্য করার জন্য এ অর্থ বিলি করছেন। এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায় চলতি মাসের ১ তারিখ কাশিপুর স্কুল এন্ড কলেজে ও নগরীর আমনতগঞ্জ এলাকাতে এবং গতকাল নগরীর এ.আর এস মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারীদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা করেন। অথচ, তার মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় ফোন করা হলে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বা ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটেদেন।

 

গত ফ্রেবুয়ারী মাসের দিকে বরিশালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে নিজেকে জানান দিতে নগরীতে কিছু পোস্টার, ফেস্টুন টাংঙ্গিয়ে আওয়ামীলীগের নেতা হিসাবে বাহির করার চেষ্টা করেন। যদিও রিপনকে এর আগে বরিশালের প্রবীণ ও নবীন কোন নেতাকর্মীরা চিনত না। পরিচিতি লাভের জন্য তিনি ব্যবহার করেন মিডিয়া ও আওয়ামীলীগের নানান কর্মসূচিতে আর্থি সহযোগিতা ও পোষ্টার সাঠিয়ে। যা আবার কোন কোন পোষ্টার দেখে দলের নেতা-কর্মিরা হতাশ হয়ে পরেন। গতবছরের ১৫ আগস্টে মাসে জাতীয় শোক দিবসে যেখানে কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মিরা শোকদিবসের পোষ্টারে নিজের ছবি প্রকাশ করেন নাই সেখানে এই নব্য নেতা নিজের ছবি সহ পোষ্টার ছাপিয়ে গোটা বরিশাল সদরে বিভিন্ন পয়েন্টে পোষ্টার টানিয়ে দেন। এনিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সহ নেতা-কর্মীদের মাঝে রিপন একজন হাসির খোরাক হয়ে ধারান। তিনি আবার বরিশাল সদরের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাবার স্বপ্ন দেখছেন। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১ তারিখ চাচাত বোনকে বউ বানিয়ে সমাজসেবক!

 

শিরোনামে সময়ের বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর নগর জুড়ে শুরু হয়েছে তুল পাড়। ভদ্রবেশে থাকা এ যুবকের বিরুদ্ধে সময়ের বার্তা’র কার্যালয়ে আসতে থাকে জিরো থেকে হিরো হবার নানান অজানা গোপন তথ্য। বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসীন্দা ও এস. আর. সমাজকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান। সংস্থার নামে সরকারী বা দেশী বিদেশী কোন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা না আসলেও বরিশাল সদরের ১০ টি ইউনিয়ন ও ৩০ টি ওয়ার্ডে অসহয় নারী-পুরুষদের চিকিৎসা সেবা, শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার ফি প্রদান সহ আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন রিপন। এদিকে সংবাদপ্রকাশ না করার জন্য বরিশালের একাদিক কতিথ সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল দিয়ে তদবির করানো হয়।

 

পাশাপাশী হামলা ও মামলারও ভয় দেখানো হয়। রিপনের একজন ঘনিষ্টজন জানান, গত ১ বছরে বরিশাল সদর আসনের বিভিন্ন এলাকাতে রিপন প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার মত সাহায্য করেছেন আর এই সকল অর্থ রিপনের চাচা মৃত্যু রফিকুল ইসলামের রেল ব্যবসা থেকেই তিনি কামিয়েছেন। রিপনের চাচা মারা যাবার পর রিপনের চাচী তাদের রেল ব্যবসা দেখাশুনার দায়ীত্বদেন। এই সুযোগে রিপন তার চাচত বোনকে বিয়ের অভিনয় করেন তাদের সকল অর্থ ও রেল ব্যবসায় নিজের মত করে ঘুছিয়ে নেন। আর মাত্র ১৪ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হন রিপন। রিপনের নিজের বক্ত্য ২০০০ সনে পর তিনি ২হাজার টাকার বেতনে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকারী নেন। এর পর চাচার ব্যবসার দেখশুনার দায়ীত্ব নেন রিপন ২০০৪ সালে। রিপন বর্তমানে কি পরিমান অর্থসম্পদের মালিক সে নিজেও জানেন না! সর্বশেষ কত টাকা সরকারী আয়কর প্রদান হয়েছে জানতে চাইলে সে বিষয় তিনি নিজেই জানেন না বলে দাবী করেন।