প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি কথার প্রতিবাদে যুবকের উপর বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলা

0
229

কাওসার মাহমুদ মুন্না ॥ বরিশাল বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করে কথা বলায় প্রতিবাদী যুবকের উপর বিএনপি ক্যাডার বাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত ওই যুবক উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাটি গ্রামের হজরত আলী ব্যাপারীর পুত্র মনিরুজ্জামান (৩৯)।

আহত যুবক জানায়, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ভোট দেয়ার জন্য ২৫ ডিসেস্বর ঢাকা থেকে নিজ গ্রামের বাড়িতে আসে এবং আ’লীগের পক্ষে মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করে। ভোট শেষে উপজেলার আরজি কালিকাপড় গ্রামে নানা মৃত তাহের আলী হাওলাদারের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ সময় নানা বাড়ির সামেন বসে ঐ গ্রামের বাসিন্ধা মৃত আসমত আলীর পুত্র বিএনপি ক্যাডার শাজাহান হাওলাদার ও কবির হাওলাদার এবং তার নাতি হিমু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারবর্গ এবং আওয়ামীলীগকে নিয়ে কটুক্তিমূলক কথা বার্তা বলে।

এমন সময় কটুক্তি কথাবার্তা ওই যুবক শুনতে পেয়ে তার প্রতিবাদ করে। এতে তাদের সাথে যুবকের কথার কাটাকাটি হয়। এ সময় বিএনপি ক্যাডারা বলে, ‘‘শেখ হাসিনি কি তোর মা হয়, তুইকি তার বড় ছেলে?’’ তখন মনির উজ্জামান বলে, ‘‘শেখ হাসিনা আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী , সে আমরা মায়ের সমতুল্য তাকে ভোট দিয়ে আমরা নির্বাচিত করেছি। আমরা যে দলেরই হই, তাদের নিয়ে কটুক্তিমূলক কথা বার্তা বলার কোন অধিকার আমাদের নেই। প্রধান মন্ত্রীকে কিংবা তার পরিবার ও আওয়ামীলীগকে গালি দেওয়ার ক্ষমতা আমরা কেউ রাখিনা।’’

যুবকের এই কথা বলাতে বিএনপি ক্যাডাররা ক্ষিপ্ত হবে তাকে বকা দিয়ে বলে, ‘‘তোকে মারলে দেখি তোর হাসিনা মায় এসে বাচায় কিনা’’ বলে চলে যায় তারা। এরপর ঐ যুবক রাতে বাজার থেকে নানা বাড়ি ফেরার পথে ওৎপেতে থাকা ক্যাডার বাহিনী অতর্কিত ভাবে অজ্ঞাত ৪/৫ জন সহ ঝাপিয়ে পড়ে ওই যুবকের উপড়। এ সময় শাজাহান যুবকের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে সে মাটিতে লুটে পড়লে হাতুরি দিয়ে কবির এলোপাথারী পিটায়। এ সময় তাদের ভাগ্নে হিমু তার কাছে থাকা পিস্তল বের করে মনিরুজ্জামানের মাথায় ঠেকিয়ে ধরে। এবং বলে, ‘‘তোকে এখন দুনিয়া ছাড়া করবো, দেখি তোকে কে বাচায়।’’ তখন মনিরুজ্জামানের কাছে থাকা নগদ ১৮ হাজার টাকা দিয়ে তাদের হাত, পা ধরে প্রাণ ভিক্ষা চায়। এ সময় মনিরুজ্জামানকে তারা রাস্তার পাশে একটি বাগানে নিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে অচেতন করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পড়ের দিন ২ জানুয়ারী সকাল ৯ টায় পথচারি শাহিন আলম বাগানের ভিতর অচেতন অবস্থায় মনিরুজ্জামানকে দেকতে পায়। এ সময় আহতের পরীবারের সদস্যদের খবর দেয়। এরপর আহত যুবকে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এর পর ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষার নিরীক্ষা করে দেকতে পায় তার বাম হাতের দুই জায়গা ভেঙ্গে গেছে এবং মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।

ওই ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎক জানায়, জরুরি ভিত্তিতে মনিরুজ্জামানের হাতটি অপারেশন করা প্রয়োজন। তা না হলে হয়তো হাতটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। এ ঘটনায় প্রভাবশালী ক্যাডাররা হাসপাতালে এসে থানায় কিংবা কারো কাছে মারপিট ও টাকা নেয়ার ঘটনাটি না বলার জন্য প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় আতঙ্কে আছেন আহত মনিরুজ্জামান ।

আহত সূত্র আরো জানায়, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে আরজি কালিকাপড় গ্রামের শাজাহান ও কবির মেহেন্দিগঞ্জ দিয়ে ভাগ্নে হিমুকে ভাড়া করে এনেছে।