প্রশাসনকে ম্যানেজ করে টুলুর রেণু পোনার বাণিজ্য!

0
338

স্টাফ রিপোর্টার।। রেনুপোনা পাচারের মূল হোতা টুলুকে ঠেকাবে কে? এমনটি প্রশ্ন সাধারন মানুষের মুখে। প্রতিবছর দক্ষিণাঞ্চল থেকে কোটি কোটি রেনু পোনা টুলুর মাধ্যমে অবৈভাবে পাচার হচ্ছে খুলনা বিভাগে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও ধরা-ছুয়ার বাহিরে থেকে যায় রেনুপোনা পাচার চক্রের মূল হুতা টুলু তার সহযোগীরা।

অভিযোগ উঠেছে সরকারে নিষেজ্ঞা তোয়াক্কা না করে প্রতিবছরের ফেব্র“রায়ী মাস থেকে শুরু হয় গলদা ও বাগধা চিংড়ি মাছের রেনুপোনা পাচার করছেন টুলু ও তার সহযোগী হারুন ওরফে পাতীল হারুন, দেলোয়ার ও হাসান সহ প্রায় ৪৬ জনার একটি চক্র। এদের মূলহুতা টুলু ওরফে মটকা টুলু। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, বরিশাল বিভাগের প্রশাসন, মৎস্য কর্মকর্তা, সাংবাদিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজকরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গোপালগঞ্জের বাসীন্দা টুলু ও তার সহযোগীরা।

প্রতিনিয়ত বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক প্রজাতির কয়েক লক্ষ মাছের রেনু পোনা পাচার করছে চক্রটি। যার ফলে মৎস্য খাত নিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির মূখে পড়ছে সরকার। সূত্র জানা গেছে, রেনু পোনা পাচার কাজে টুলু বরিশাল নগরীর এক রাজনৈতি নেতার নাম ব্যবহার করছেন। আর ওই রাজনৈতিক নেতার সেল্টার এনে দিচ্ছেন হারুন, দেলোয়ার, হাসানসহ চার ব্যাক্তি। হারুন, দেলোয়ার ও হাসান বরিশাল পোর্টরোড এলাকার এক প্রভাবশালী মৎস নেতার মাধ্যমে ওই রাজনৈতিক নেতার সেল্টার পেয়েছেন বলে জানা যায়।

তা ছাড়া র‌্যাব ৮ সূত্রে জানাযায়, ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল গোপন সংবাদের ভিক্তিতে র‌্যাব ৮ এর একটি টিম অবৈধ ৪লাখ টাকার গলদা চিংড়ি রেনুপোনাসহ পোনা পাচারকারীর মূল হোতা টুলুকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমান আদালত টুলু সহ ২১জন পাচারকারীকে সাজা দেন সে সময়। পরর্বতীতে আদালত থেকে জরিমানা দিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে আনে টুলু। তবে সাজা দেয়ার পরে আরো বেপোয়ারা হয়ে উঠেন টুলু বর্তমানে পূর্নরায় অবৈধ ভাবে পোনা মাছ পাচারে মেতে উঠেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া, মহিপুর, কুয়াকাটা ও আলীপুরের সকল প্রশাসন, সাংবাদিক ও রাজনৈতক ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেন টুলু ওরফে মটকা টুলু।

অবৈধ ভাবে রেনুপোনা পাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে টুলু দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা’কে জানান, বিগত বছর গুলোতে রেনু পোনা পাচারের বিষয়ে সব কাজ তিনি নিজেই সরাসরি করেছেন। দেলোয়ার ও হারুন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে রেনু পোনা ট্রাকে বহন করে গৌরনদী পর্যন্ত পৌছে দেয়। গৌরনদী থেকে তিনি সেগুলো নিয়ে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় বিক্রয় করে। তবে রেনুপোনা বহনকারী ট্রাকগুলো হারুনের দায়িত্বে থাকে। তা ছাড়া প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিভিন্ন থানাসহ রাজনৈতিক নেতাদের মোটা অংকের মাসহারা দিয়ে এই ব্যবসা তিনি করেন বলেন স্বীকার করেন।

এদিকে পোনা পাচার সহযোগী পোটরোডের হারুন জানান, তিনি শুধু ট্রাক ভাড়া দেয় টুলুর কাছে। আর এ ব্যবসায় তিনি জড়িত নাই। তবে তিনি স্বীকার করে বলেন, হাসান ও দেলোয়ার, রনি পোনা ক্রেতাদের সাথে কথা বলে দর কশাকশি করে দেয়। পরে টুলুর নেতৃত্বে তাদের মৎস্য আড়তে পোনা মাছ পৌছে দেয়া হয়। বরিশাল নৌ-থানা পুলিশের ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশির বাগ রেনু পোনা ডাঙ্গা দিয়ে যায়। আর ডাঙ্গার মাছ আটক করার ক্ষমতা তাদের নেই। তিনি আরও বলেন, মৎস কর্মকর্তারা যদি আমাদের নিয়ে অভিযান করেন তাহলে আমরা অভিযানে অংশ নিতে পারি।

তা ছাড়া আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যে কোন সময় রেনুপোনা নগরী থেকে পাচার হচ্ছে এমন সংবাদ আসলে সাথে সাথে রেনুপোনা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কারন কোন পাচার কারীকে নৌ-পুলিশ বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, যারা এই ব্যবসা করে তারা খুব ধুরান্দার প্রকৃতির লোক। আমরা যখন অভিযান চালাই তারা তখন তাদের বৃহত সোর্সের মাধ্যমে যানতে পেরে রেনু পোনা পাচার কাজ বন্ধ রাখে। তবে তিনি বলেন, মৎস্য কর্মকর্তারা সর্বদাই রেনু পোনা পাচার বন্ধের জন্য কাজ করছেন, এবং অভিযান অব্যহত রেখেছেন।

তারা কোষ্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ই অভিযান চালায় কিন্তু তাদের ধরতে পারেনা। তবে কিছু দিনের মধ্যে রেনুপোনার বড় একটি চালান ও পাচারকারীদের আটক করা হবে বলে আশাবাদ করেন তিনি। মৎস্য কর্মতাদের ম্যানেজ করেই টুলু তার অবৈধ কাজ চালিয়ে আসছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকতে পারে তবে মৎস্য অধিদপ্তর কোন ভাবেই ম্যানেজ হয়নি এবং হবেও না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, প্রশাসনের চোখের সামনে বাগদা ও গলদা চিংড়ির পোনা ধরার নামে ভোলা, গলাচিপা, বরগুনাসহ দেশের দক্ষিণ উপকূলে প্রতিদিন মশারির জাল দিয়ে নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক লক্ষ মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার হুমকিতে পড়ছে। মৎস অধিদপ্তরের এক জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, পোনা সংগ্রহকারীরা একটি বাগদা পোনা ধরতে গিয়ে ধ্বংস করছে প্রায় ৩৮ প্রজাতির চিংড়ি ছাড়াও ৬ প্রজাতির অন্যান্য মাছ এবং ৫৬ প্রজাতির জুপাংটনসহ ১০০ প্রজাতির জলজ প্রাণী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার উপকুলে চিংড়ি রেণুপোনা শিকার নিষিদ্ধ করলে ও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা লগ্নি করে দরিদ্র জেলেদের চিংড়ি ধরার কাজে উৎসাহিত করছে। পাথরঘাটার চরদুয়ানি মৎস্য উপকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৮টি ট্রাক গলদা ও বাগদা রেণু নিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট যায়। বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া, মহিপুর, কুয়াকাটা ও আলীপুর মোকাম থেকে কমপক্ষে ১০টি ট্রাক এবং বরগুনা সদর থেকে দুটি ট্রাক বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় যায় টুলু ওরফে মটকা টুলুরু নেতৃত্বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল পাথরঘাটার কয়েকজন পোনা ব্যবসায়ী বলেন, ট্রাকভেদে ১৮ থেকে ৩০টি পাতিল বা ড্রাম বহন করা যায়। একেকটি পাতিলে ১০ হাজার করে পোনা বহন করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ পোনা বহন করা হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন এই তিন পথে ৩০টি ট্রাকে গড়ে ৬০ লাখ পোনা পাচার হয়।

এ ছাড়া নদীপথে ট্রলারে করে পাচার হয় কমপক্ষে আরও ৪০ লাখ পোনা। বাগদা রেণুর প্রতি হাজার এক হাজার টাকায় কিনে মোকামে দেড় হাজার এবং গলদা পোনা দেড় হাজার টাকায় কিনে মোকামে দুই হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়।

ভোলা গলাচিপা বরিশাল সদর পাথরঘাটার আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পাতিল বা ড্রামপ্রতি, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা ও ক্যাডারদের মাসে এক লাখ টাকা, ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর মধ্যে কোষ্টগাড, নৌ বাহিনী, নৌ পুলিশ, ফিসারি, ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ, ফাঁড়ি পুলিশ , টহল পুলিশসহ জিরো থেকে উপর লেভেল সবাইকে মাসিক বিশ লাখ টাকা দিয়ে এসব ট্রাকে করে পোনা পাচার করা হয় বলে জানান, একাধিক ব্যাবসায়ীরা।