বতল কুড়িয়ে খাই, ভিক্ষা তো করি না !

0
49

ঝনিাইদহ থেকে জাহিদুর রহমান তারিক।।

ভুমিষ্ঠ হয়েছিলাম সুস্থ সবল ভাবেই। আতুড় ঘরে কিসে যেন কামড় দিয়েছিলো। সেখান থেকেই ঠোটটি আমার ঝুলে গেছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা হরেত পারিনি। এখন খুটে খায়, ভিক্ষা তো করি না। সারা দিন কাগজ, পরিত্যক্ত বোতল আর পলিথিন কুড়িয়ে বিক্রি করে যা হয়, তা দিয়ে এক দেড় কেজি চাল কিনে ঘরে ফিরি। ঠোট ঝুলে থাকার কারণে অনেকে ভয়ও পায়। কিন্তু কি আর করার আছে ? পনের বছর আগে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলোম চিকিৎসার জন্য। ডাক্তার দেখে অপারশেনের কথা বলেছেন। কিন্তু নিজেরই পেট চলে না। অপারেশন করবো কি দিয়ে ? কথাগুলো এক দমে বলে গেলেন ঝিনাইদহ পৌরসভার পবহাটী গ্রামের হতদরিদ্র আব্দুস সালাম।

তিনি মাগুরা জেলার সতিজাতপুর গ্রামের মৃত হানিফ বিশ্বাসের ছেলে। বিয়ে করে ঘরজামাই রায়েছেন ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী গ্রামে। আব্দুস সালামের বয়স ষাট পেরিয়েছে। স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। তিনি জানালেন, আগে বাড়ি ছিল মাগুরার সতিজাতপুর গ্রামে। এখন ঝিনাইদহে। ছেলে মিন্টু ভাজা মুড়ি বিক্রি করেন। বাপ-বিটায় যে ইনকাম হয়, তা দিয়ে টেনেটুনে সংসার চলে। পনের বছর আগে চিকিৎসক বলেছিলেন কুড়ি হাজার টাকা হলেই অপারেশন করে ঠোট ভাল করা সম্ভব। এখন তো অনেক দিন হলো।

টাকার অভাবে আর ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয়নি। ঝোলা ঠোট নিয়ে তার কোন অসুবিধা নেই। তবে হঠাৎ কেও দেখলে ভয় পান। বিশেষ করে শিশুরা। তিনি জানান পঞ্চাশ হাজার হলেই অপারেশনের মাধ্যমে ঠোটটি স্বাভাবিক করা সম্ভব হতো। আধুনিক সভ্যতার যুগে তার কোন মোবাইলও নেই। নেই ব্যাংকে একাউন্ট। সমাজের সহৃদয়বাদ, দানশীল ও দয়ালু ব্যক্তিদের কাছে আব্দুস সালাম আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন।