ববিতে চলছে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট

0
28

বরিশাল অফিস ॥

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলছে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচী ও বিক্ষোভ। আজ বৃহষ্পতিবারও সকাল ৮ টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জন করে এ কর্মসূচী পালন করছে।

একাডেমিক ভবনের নীচতলায় অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা দাবী আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে। পাশাপাশি দাবী না মানতে পারলে ভিসিকে পদত্যাগ করার আহবান জাননো হচ্ছে।আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের আন্দোলনে সকল বিভাগে, ছাত্র নিবাস-ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যেন্ত স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহন করেছে। দিনে দিনে আন্দোলনে অংশগ্রহনকারীদের সংখ্যা বাড়ছে।

কোন ধরনের কোন অপ্রিতীকর ঘটনা ছাড়াই তাদের আন্দোলন পঞ্চম দিনে পা দিয়েছে। তারা জানায়, ভিসি’র গত ২ বছরে কোন উন্নয়ন না বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু দূর্নিতী হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ছোট ছোট দাবীগুলো আজ বৃহৎ আকার ধারন করেছে। আর এখন দাবী আদায় না হওয়া পর্যংন্ত এ আন্দোলন চলবে। আজ সকাল শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানের পাশাপাশি, ভিসি ও ২২ দফা নিয়ে নানান গান বানিয়ে পরিবেশন করছেন।

এগুলো আন্দোলনকারীদের নতুন করে শক্তিযোগাচ্ছে বলে জানানা শিক্ষার্থীরা।এদিকে দাবী মেনে নেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আশ্বাসের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসিকে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের সামনে বসে দাবীর বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ২২ দফা দাবী নিয়ে একটি দাবীনামা কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবীগুলো মেনে নেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন এবং উক্ত দাবীগুলো দ্রুত মীমাংসার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজুল ইসলাম নয়ন জানান, সাধারন শিক্ষার্থীদের চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে তারা আজও সকাল থেকে ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে। তবে কারো মাধ্যমে আশ্বাস নয়, শিক্ষার্থীরা চায় ভিসি ঢাকায় না থেকে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের দাবীর বিষয়ে কথা বলুক। অন্যথায় সে পদত্যাগ করুক।

এদিকে গত মঙ্গলবার আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ২২ দফা দাবী পেশ করে সাধারণ ছাত্ররা। দাবী নামার পেশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতাও প্রকাশ করেছেন। তবে লিখিত ওই দাবীর মধ্যে সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করার কথা থাকলেও ভিসি অপসারনের দাবী নেই।

কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের স্লোগানে ভিসি’র অপসারন ও পদত্যাগের দাবী করে আসছেন এখনো। অপরদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কোঠা না রাখায় বরিশালের সাংস্কৃতিক কর্মী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ভিসি বিরোধী একটি আন্দোলন শুরু হয়েছে। সে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল শহরে মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানান কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে।