ববিতে ভর্তির সুর্বন সুযোগ : পরীক্ষার আগেই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রশ্ন

0
137

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ানো হচ্ছে একটি ফেসবুক আইডি থেকে। যেখানে যোগাযোগের পর প্রতিটি প্রশ্ন ও উত্তরপত্রের দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। চক্রটি বলছে, প্রশ্ন পাওয়া যাবে পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে, উত্তরপত্র পরীক্ষার হলে পৌঁছানো হবে পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে। লোকের মাধ্যমে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা।

ফেসবুকের যে আইডি থেকে এসব বলা হচ্ছে তার নাম রাহাদুল ইসলাম তানভীর। খুঁজে দেখা গেছে, একই ব্যক্তির ছবি সংবলিত এবং একই নামে এরকম ৩টি আইডি রয়েছে। প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সংগ্রহ করতে হলে ০১৬৩১৩৭৮৩৫৫ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে ওই আইডিতে। এছাড়া রাহাদুল ইসলাম তানভীর নামের ওই ফেসবুক আইডি থেকে ঢাবি, জবি, জাবি, রাবি, চবি, হাবিপ্রবি, নোবিপ্রবি, ইবিতে যারা মেরিট লিস্টে নাম আনতে আগ্রহী, তাদেরও ওই নম্বরে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।

ফেসবুকের এ সূত্র ধরে পোস্টে দেয়া নম্বরে কল করা হলে তানভীর পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি জানায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র বিক্রির জন্য ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হবে। ওই প্রশ্ন ও উত্তরপত্র অন্য কাউকে দেয়া যাবে না বলে শর্ত দেয়া হয়। কারণ হিসেবে তার ৭ সহযোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে ফেঁসে গিয়ে জেলে রয়েছে বলে জানায় সে। তাই অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়।

ফেসবুক আইডির ওই মালিক ফোনালাপে জানায়, সে মোট ৫০টি প্রশ্ন ও উত্তরপত্র বিক্রি করবে। এর মধ্যে ৩৫টি টার্গেট পূর্ণ হয়েছে। বাকি ১৫ পরীক্ষার্থী পেলে আর কাউকে তার আওতায় নেবে না। পরে টাকা পাঠানোর কথা বললে রাহাদুল ইসলাম তানভীর নামে পরিচয়দানকারী জানায়, তার এ ফোন নম্বরে বিকাশের টার্গেট পূরণ হয়ে গিয়েছে। নতুন একটি নম্বর থেকে কল করা হচ্ছে এবং ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়। কিছুক্ষণ পর ০১৮৮২০২৭১৫৭ নম্বর থেকে প্রতিবেদকের নম্বরে কল করে এখানে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়।

নতুন পাওয়া ০১৮৮২০২৭১৫৭ নম্বরটি একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সার্চ করা হলে আতিক নামে এক ব্যক্তি এ নম্বর ব্যবহার করছে বলে জানা যায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ফোন নম্বর ব্যবহারকারীর অবস্থান দিনাজপুর জেলায়। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ০১৮৮২০২৭১৫৭ নম্বরটির লাস্ট লোকেশন বা অবস্থান দিনাজপুর জেলায় দেখা যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি। বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া পরীক্ষার হলে ব্যবহার করা হবে জ্যামার।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক জানান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে দেয়া হবে না। এজন্য সব ধরনের সতর্কতা ও কৌশল গ্রহণ করা হবে। ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ববিতে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি নিজে এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রশ্ন প্রণয়ন করবেন। কোথায় প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে, সে ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা কক্ষে মাথা-কান ঢেকে প্রবেশ করা যাবে না। ঘড়ি এবং মোবাইল ফোনও পরীক্ষা কক্ষে না নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হতে পারে। ইলেকট্রুনিক ডিভাইস ব্যবহার প্রতিরোধে প্রতিটি পরীক্ষার ভেন্যুতে থাকবে জ্যামার। যুগান্তর