ববিতে রাজাকার ও মিথ্যাচার ভিসি’র পদত্যাগ দাবী !

0
125

নিউজ ডেস্ক// দুঃখ প্রকাশ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের দেয়া বক্তব্য ও আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নাটিকা ও গানে গানে প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা উপাচার্যকে রাজাকার ও মিথ্যাচার দাবী করে তার পদত্যাগের দাবী জানান।

শনিবার (৩০ মার্চ) বিকাল ৪টা থেকে রাত পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই নাটিকা ও প্রতিবাদী গান অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৪টায় এক দফা এক দাবী ভিসি’র পদত্যাগ দাবী করে শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিকালে শহীদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি’র অপসারন দাবী করে প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা।

এসময় তারা ভিসিকে রাজাকার বলে আখ্যায়িত করে। এর পর রণসঙ্গীত এবং কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে ভিসিকে ব্যাঙ্গ করে নাটিকা অনুষ্ঠিত হয়। এ নাটকের মাধ্যমে ভিসি’র বিভিন্ন অনিয়শ, নীপিড়নের তথ্য চিত্র তুলে ধরা হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর কলাবাগানে লিয়াজু অফিসে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট কমিটির সভায় শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

সভা পরিবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমার প্রদত্ত বক্তব্যের একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে’।

“আমি এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে রাজাকার সম্বোধন করিনি। বরং যারা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে বাঁধা সৃষ্টি করতে চায় তাদের এমন কার্যক্রমকে রাজাকার সাদৃশ্য মর্মে মন্তব্য করেছি। তবে এ শব্দটি আমি কোনভাবেই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলিনি”।

“এর পরেও যদি আমার বক্তব্যে কোন শিক্ষার্থী মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য আমি আন্তোরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি”।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম, সিফাত আহমেদ ও লোকমান হোসেন সহ আন্দোলনরত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেছেন, উপাচার্য শুক্রবার যে বক্তব্য দিয়েছে তা তার মিথ্যাচার। কেননা তিনি শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে গালি দেননি বলে দাবী করেছেন। অথচ তিনি যে গালি দিয়েছেন সেটা একেবারেই সত্যি এবং এর অনেক প্রমানও রয়েছে। তাছাড়া তিনি যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন তাতেও শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য করেছেন, ‘যারা আন্দোলন করছে তাদেরকে রাজাকার বলেছেন। আন্দোলনতো শিক্ষার্থীরাই করেছে। বাহির থেকে এসে কেউ আন্দোলন করেনি। সুতরাং আমরা ভিসি’র ওই মিথ্যাচার করে দেয়া বক্তব্য প্রত্যাক্ষান করেছি।