বরিশালে জীবন বাচাতে সন্তান বিক্রির চেষ্টা, ডাক্তারের সহযোগিতায় মাকে পেলো সন্তান

0
135

স্টাফ রিপোর্টার ।। জীবন বাচাতে সন্তান বিক্রির চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত শিশুটি বিক্রি করতে ব্যাথ হলো শিখা ও নিখিল দম্পতি। সন্তান বিক্রির জন্য ক্রেতার সাথে স্টাম্পে চুক্তি শেষ মুহুত্বে বাধা হয়ে দাড়িয়ে শিশুটিকে মা-বাবার কোলে তুলে দিলেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন।

আজ রোববার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে। হেপাটাটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত শিখার চিকিৎসা খরচ জোগাতে স্বামী নিখিল তাদের দের মাস বয়সী শিশু সন্তানকে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলো।

নিঃসন্তান এক দম্পতি ২৫ হাজার টাকায় ওই শিশুটিকে ক্রয় করতে চেয়েছিলো। পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে এ অতৎপতা রোধ করে অসুস্থ্য শিখা রানীর সকল চিকিৎসার দায়ভার বহন করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন।

তার মহতি উদ্যোগের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিখা ও নিখিল দম্পতি। হাসপাতালে ডিউটিরত বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এস আই মোঃ নাজমুল হুদা জানান, উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের বাসিন্দা শিখা ও নিখিল দম্পতি।

নিখিল একজন দিন মজুর। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। গত দের বছর পূর্বে সাতলার একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে আর একটি সন্তান প্রসব করেন শিখা রানী। সেখানে সিজার অপারেশনে ত্রুটি হয়েছে এমন অভিযোগ নিয়ে গত কয়েকদিন পূর্বে শিখা রানী শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি হন।

সংশ্লিষ্ট গাইনী বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান শিখা হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত। তার জরুরী ভিত্তিতে সার্জারী বিভাগের চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু দিন মজুর নিখিল তার স্ত্রীর চিকিৎসা খরচ জোগাতে পাচ্ছি না।

তাই তাদের ছোট সন্তান ( দেরমাস বয়স) টিকে বিক্রি করে দেয়ার উদ্যোগ হাতে নেয়। এরই মধ্যে বরিশাল নগরীর নথুল¬াবাদ এলাকার নিঃসন্তান এক দম্পতির ওই সন্তানটিকে ক্রয় করার কথা বলে।

উভয় পক্ষের সন্মতিতে আজ রোববার হাসপাতালে বসেই দেরশ টাকার স্টাম্পে চুক্তি করে ২৫ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রির পুরো কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি টের পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন দ্রুত কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মোঃ নাজমুল হুদা, সিটিএসবি এসআই মোঃ ছগির ও স্টাফ আবুল কালাম আজাদ তাজুলসহ নার্সদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থানে উপস্থিত হয়ে ওই অপতৎপতা রোধ করেন।

তখনই সেখান থেকে সটকে পরেন ওই নিঃসন্তান দম্পতি। এসময় পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন রোগী শিখা’র সকল চিকিৎসা ব্যবস্থার দায়িত্ব নেন। সেই সাথে শিখাকে সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি ও ঔষধের ব্যবস্থা করে সন্তনটিকে মা-বাবার কোলে তুলে দেন। পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন’র কাছে শিখা ও নিখিল দম্পতি নিজেদের ভূল স্বীকার করে সন্তানটিকে কোলে জড়িয়ে ধরে তার কাছে কৃজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন’র এমন মহতি উদ্যোগ নেয়ায় তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হাসপাতালের অনান্য রোগী ও স্বজন, চিকিৎসক, নার্স এবং স্টাফরা। এ ব্যপারে পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসা খরচ জোগাতে সন্তান বিক্রি’র উদ্যোগটি ছিলো অন্যায়।

তাই সন্তানটিক ওর বাবা-মায়ের কোলে তুলে দিতেই শিখার চিকিৎসা খরচের দায়িত্ব নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এই হাসপাতালে গরিব রোগীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এরপরও কেউ সমস্যায় পরেন তাহলে আমি তাদের সহযোগীতা করবো। তারপরও এমন অন্যায়কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।