বরিশালে ডিজিটাল-মানহানিকর মামলায় সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জামিনে মুক্তি

0
368

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালে বিজ্ঞ বিচারক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক দায়ের কৃত ডিজিটাল-মানহানিকর মামলায় সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জামিনে মুক্তি পেলেন।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ইউনুস জামান জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক লোকমান হোসাঈন ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী মুক্তি পায়।

এসময় ফুলের শুভেচ্ছা জানান, বরিশালের স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

উল্লেখ্য চলতি বছরের জুন মাসের ২৫ তারিখ বরিশাল থেকে প্রকাশিত স্বাধীনতার স্বপক্ষের গণমানুষের দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা’র প্রকাশক ও সম্পাদক এম. লোকমান হোসাঈন ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. রিয়াজ চৌধুরী বরিশাল বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

পত্রিকাটি প্রথম থেকে রাস্ট্রের বিরুদ্ধে সড়যন্ত কারী রাজাকার, দুর্ণীতিবাজ সহ বিভিন্ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার হয়েছে আসছে পত্রিকার সম্পাদক সহ সাংবাদিকরা। তাতেও পত্রিকার কর্তৃপক্ষ ও কর্মরত সাংবাদিকরা অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করে নাই।

ইতি পুর্বে উক্ত মামলায় বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ কবির উদ্দিন প্রামানিক এর সড়যন্তের শিকার যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক আল আমিন গাজী সহ পত্রিকার কর্তৃপক্ষ। গত ১৯ শে মার্চ রাত ১০টার দিকে সময়ের বার্তার অফিস থেকে আল আমিনকে জুড় পূর্বক আটক করেন ও একই মাসের ২৪ তারিখ রাত ৯ টার দিকে অফিস থেকে কম্পিউটার অপারেটর বেলালকে আটক করেন কোতয়ালী থানার সাব ইন্সপেক্টের মোঃ শামীম হোসেন, এসআই সাইদুল হক সহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

মামলার নথি সুত্রে জানাগেছে বিচারকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে আল আমিন গাজী ও বেলাল সহ পত্রিকার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানহানিকর আইনে একটি মামলা দায়ের করেন কোর্টের নাজির কামরুল হাসান। এসময় মামলায় আল আমিন ও বেলালকে আটক দেখানো হয়েছে। মামলায় ৫০১, ৫০২ ও ৫০৫ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ধারা ২৬ উল্লেখ করেন। দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা’র প্রকাশক ও সম্পাদক এম. লোকমান হোসাঈন এর সম্পাদনায় নিয়মিতভাবে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দুর্নীতির তথ্য আসে সময়ের বার্তা সংবাদকর্মীদের কাছে।

ইতি পূর্বে মইদুলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে পত্রিকায়। উক্ত সংবাদের যের ধরে প্রকাশক ও সম্পাদক এম. লোকমান হোসাঈন সহ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ ও যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ৩০ তারিখ বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম বাদী হয়ে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ কবির উদ্দিন প্রামানিক এর আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানির একটি মামলা দায়ের করেন। এসময় উক্ত মামলায় ২০১৮ সনের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৬ এর ২৫/২৯ ধারায় এবং দঃ বিঃ আইনের ৫০০, ৫০১, ৫০২ ও ১০৯ ধারা উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফ.আই.আর হিসাবে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। যাহার নালিশী মামলা নং- এমপি ২৩/২০১৯ (কোতয়ালী),তারিখঃ- ৩০/১/২০১৯। এর কিছুদিন পর অর্থাৎ মার্চ মাসের ১৩ তারিখ উক্ত মামলাটির নথি (নালিশী, আদেশ) সরিয়ে দিয়ে একটি নতুন নথি স্থলাভিষিক্ত করেন। যাহার নালিশীতে দঃবিঃ আইনের ৫০০, ৫০১, ৫০২, ১০৯ ধারার পাশাপাশি আরো নতুন কিছু ধারা যেমন- ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৭৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন ধারা উল্লখ করা হয়নি। উল্লেখ্য, এই মামলার নাম্বারটাও দেখা যায় এম.পি-২৩/২০১৯ ( কোতয়ালী)। এবং আদেশে দেখা যায় যে, এই মামলাটি দায়ের হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ৩০ তারিখ।

যেখানে সংশ্লিষ্ট ধারায় অর্থাৎ, দঃবিঃ আইনের ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৭৯, ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় অপরাধ আমলে গ্রহন করে এফ.আই.আর এর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু গত জানুয়ারী মাসের ৩০ তারিখের দায়েরকৃত নালিশীতে দঃবিঃআইনের ৩৮৫, ৩৮৭ ও ৩৭৯ ধারা আদৌ ছিলনা। এমনকি উক্ত জানুয়ারী মাসের ৩০ তারিখের ফাইলিং রেজিস্টারেও এই ৩৮৫, ৩৮৭ ও ৩৭৯ ধারার কোন অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ, সম্পুর্ণ বে-আইনী ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ধরনের নেক্কারজনক কর্মকান্ড স্বয়ং বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কবির উদ্দিন প্রামানিক নিজে করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। যা, সংশ্লিষ্ট্র কর্তৃপক্ষ উক্ত নথিপত্র, ফাইলিং রেজিস্ট্রার তদন্ত করলেই ঘটনার সত্যতা পেয়ে যাবেন বলে দাবী করেন পত্রিকার কর্তৃপক্ষরা। কর্তৃপক্ষরা আরো জানান,

বিচারক কর্তৃক জালিয়াতির তথ্য ধামাচাপা দিতে কোর্টের নাজির কামরুল হাসনকে বাদী করে আরো একটি মামলা সময়ের বার্তা প্রকাশক ও সম্পাদক সহ সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বিচারক কবির উদ্দিন প্রামানিক। সেখানে প্রকাশক ও সম্পাদক এম. লোকমান হোসাঈন, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলামকে নামধারী সহ অজ্ঞাত ৩/৪জনকে আসামী করা হয়েছে।