বরিশালে পুলিশ ও রিকশা শ্রমিকদের সংর্ঘষ: আসলে কি ঘটেছিল? (দেখুন ভিডিও)

0
294

ব্যাটারী চালিত রিকশা শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পুলিশ দাবি করেছে তাদের ওপর হামলা করেছে আন্দোলনকারীরা। আর রিকশা শ্রমিকরা দাবী করেছে, আন্দোলনকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর হামলার তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। মূলত, পুলিশের ওপর কোন শ্রমিক হামলা চালায়নি। বিনা উস্কানিতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়েছে পুলিশ আবার পুলিশকে মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আওলাদ হোসেন মামুন জানান-পুলিশকে মারধর ও জননিরাপত্তা বিঘ্ন করার অভিযোগে আটক ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানার এসআই নজরুল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৮।

মামলায় নামধারী আসামীরা হলেন, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ও সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন, বরিশাল জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক নাসরিন আক্তার টুম্পা, জেলা শ্রমিক ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক মিঠুন চক্রবর্তী, সদস্য জাকির হোসেন ও নূর ইসলাম।

এদিকে ব্যাটারী চালিত রিকশা শ্রমিকদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে পুলিশের লাঠিচার্জ ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ। নেতাকর্মীদের উপর হামালার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার টাউন হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে তারা। বেআইনীভাবে গ্রেফতার ও লাঠিচার্জ করায় তীব্র নিন্দা ও হামলাকারী পুলিশের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি এ্যাড. একে আজাদ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগে নেতা অধ্যাপক আঃ সত্তার, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফন্টের নেতা বদরুদ্দোজা সৈকতসহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, একটি যৌক্তিক ও অহিংস আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য পুলিশ এমন ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে।

বিকাল ৫টায় টাউন হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্তে মুক্তি এবং হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

একইসাথে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় টাউন হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল।

এই বিষয়ে বরিশাল সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি সন্তু মিত্র বলেন, গরিব রিকশা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নগরীতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে পুলিশ এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করে আমাদের নেতাকর্মী ও রিকশা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে লাঠিচার্জ শুরু করে।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানান, প্রথমত এই কর্মসূচি করার জন্য তাদের কোনো পূর্বানুমতি ছিল না। কথা ছিল তারা সিটি করপোরেশনের গিয়েই তাদের কর্মসূচি শেষ করবে। কিন্তু তারা সেখান থেকে নগরীর ব্যস্ততম সড়ক জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হলে তারা আমাদের পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তাই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

তবে আন্দোলনকারীরা আওলাদ হোসেনর বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। ১৯ এপ্রিলের পুলিশি লাঠিপেটার শিকার এক আন্দোলনকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ কোন উস্কানি ছাড়াই হামলা চালায়। আমাদের নেতৃবৃন্দকে আটক করেছে কারন তারা না হলে আন্দোলন থেমে যাবে। সেকারনে, টার্গেট নিয়ে এসেই হামলা চালিয়েছে।