বরিশালে প্রেমিককে ফাঁসাল পুলিশের মেয়ে !

0
32

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নলছিটির দপদপিয়ায় প্রেমিককে ফাঁসাতে নিজের হাত কেটে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি হয়েছে প্রেমিকা । এছাড়া প্রেমিকার বাবা উজিরপুর থানার কনস্টেবল পুলিশ সদস্য হান্নান সর্দারও মেয়েকে এ কাজে সহায়তা করছে। ঐ প্রেমিকা দপদপিয়া ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সম্প্রতি প্রেমিক ওই এলাকার বায়েজিদকে একই এলাকার হান্নানের মেয়ে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। গত বুধবার রাতে হান্নানের মেয়ে বায়েজিদকে ফাঁদে ফেলতে পালিয়ে যাবার কথা বলে ১ লাখ টাকা নিয়ে গভীর রাতে বাসায় আসতে বলে। এ সময় বায়েজিদ বাসায় আসতে না চাইলেও হান্নানের মেয়ে জোর করে তাকে বাসায় ডেকে নেয়। কিন্তু বায়েজিদ বিষয়টি বুঝতে না পেরে ফাঁদে পড়ে হান্নানের মেয়ের। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বায়েজিদ ঐ প্রেমিকার বাসায় গেলে তার বাবা হান্নান ও বড় ভাই দরজা খুলে বায়েজিদকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। পরে বাবা হান্নান ও বড় ভাইসহ ২/৩ জন বায়েজিদের সাথে থাকা নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে বায়েজিদের হাত-পা বেধে ফেলে ও চোর বলে মিথ্যা নাটক সাজায়। পরে হান্নানসহ অন্যান্যরা বায়েজিদকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একই সাথে নলছিটি থানায় খবর দিয়ে তাকে চোর আখ্যায়িত করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। কিন্তু বায়েজিদকে বিভিন্ন পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরির কোন আলামত না পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। বায়েজিদকে মিথ্যা চোর আখ্যায়িত করে মারধর করার অপরাধে হান্নানের কাছে কারণ জানতে চায়। কিন্তু হান্নান কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এজন্য হান্নানকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে সাবধান করে দেন। পরে হান্নান ও বড় ভাইয়ের মারধরে অসুস্থ হয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয় বায়েজিদ।

অপরদিকে হান্নান নিজেকে বাঁচাতে ঘটনার ১২ ঘন্টা পর ব্লেড দিয়ে মেয়ের হাত কেটে নাটকীয়ভাবে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। সেখানেও সাংবাদিকরা একাধিক প্রশ্ন করলে মেয়ে ও বাবা হান্নান দু’রকম বক্তব্য দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সাথে থাকা স্বজন জানান, এটা রাগের বশত করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ সদস্য হান্নান দাবী করে তার মেয়েকে হামলা চালিয়ে বায়েজিদ আহত করেছে। এলাকাবাসী জানান, বায়েজিদের হামলায় হান্নানের মেয়ের হাত কেটে গেলে সে দীর্ঘ ১২ ঘন্টা পর হাসপাতালে কেন ভর্তি হয়েছে। এনিয়ে তাদের মধ্যেও রয়েছে একাধিক প্রশ্ন। হান্নানের মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তাদের ফাঁদে ফেলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। ওই এলাকার জাকারিয়া জানান, হান্নানের মেয়ে কয়েকমাস পূর্বে কর্নকাঠী এলাকার সজীব নামে এক ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। এর পূর্বেও তার এক খালাতো ভাইয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তার সাথে পালিয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে বায়েজিদের টাকা হাতিয়ে নিতে হান্নান ও মেয়ে এ মিথ্যা নাটক সাজায়।

এদিকে বায়েজিদ জানান, কয়েকদিন ধরে হান্নানের মেয়ে মোবাইলে বায়েজিদকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ও বিয়ে করবে জানায়। বায়েজিদ বিশ্বাস করে ঘটনার দিন হান্নানের মেয়ের কথা মত বাসায় গেলে ওই মেয়ে ও বাবা হান্নান তাকে চোর সাজায়। পরে তাকে মারধর করে এবং তার সাথে থাকা ৭৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের হাতে দিয়ে দেয়। পরে এলাকার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা ঘটনার আদোপান্ত জেনে থানায় গেলে পুলিশ তার জিম্মায় বায়েজদিকে ছেড়ে দেয়। এ ব্যাপারে নলছিটি থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, হান্নানের মেয়ে ফাঁদে ফেলতে বায়েজিদকে নাটকীয়ভাবে চোর সাজায় ও তাকে মারধর করে। এরপূর্বেও ওই মেয়ে একাধিক ছেলেকে এভাবে ফাঁদে ফেলেছে। মেয়েকে শোধরানো জন্য বাবা হান্নানকে বলা হয়েছে। মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি আবার হান্নানের নতুন নাটক।