বরিশালে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে জেলা পরিষদের বানিজ্য ! পর্ব-১

0
911

এম. লোকমান হোসাঈন/ মোঃ ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ ॥ সময় মত সব কিছুই হয় ! শুধু হয় না বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ ! গত ৪ বছর পর্যন্ত বরিশাল জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিভিত্তিক ম্যুরাল নির্মাণ কাজ। প্রতি বছর বাজেট করা হচ্ছে ম্যুরাল নির্মাণের। সময়ের বার্তা’র প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায় ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর থেকে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছর পর্যন্ত মোট ৪ বছরে ২১ লাখ টাকার বাজেটও করা হয়েছে ম্যুরাল নির্মাণের। অথচ, ম্যুরাল নির্মাণের একটি কানাকড়িও অগ্রগতি নেই।

বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে ম্যুরাল নির্মাণের অগ্রগতি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বিষয়টি এরিয়ে উপ প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয় উপ প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান জানান, ম্যুরাল নির্মাণের জন্য গত চার বছর পর্যন্ত উদ্যোগ নেয়া হলেও মুলত জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণের জন্য ২৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই জন্যই ম্যুরাল নির্মাণের সময় লাগতেছে। তবে শীগ্রহ ম্যুরাল নির্মাণের উদ্যেগ নেয়া হবে বলে তিনি দাবী করেন ।

অনুসন্ধানের দেখা যায় ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিলের বাধ্যতামূলক কার্যাবলী তালিকায় গৃহীত প্রকল্পের ১০১ ক্রমিক নম্বারে জেলা পরিষদ ভবনের সামনে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভিত্তিক ম্যুরাল নির্মাণের জন্য ১২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং ওই নথি সূত্রে দেখা যায় ম্যুরাল নির্মাণের কাজ চলমান আছে। অপরদিকে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে রাজস্ব তহবিল প্রকল্পের ২২৮ নং ক্রমিক নম্বারেও দেখা যায় জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণের জন্য ব্যয় করা হয়েছে আরো ৪ লাখ টাকা। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সহ বাংলাদেশের বিশিষ্টজনদের একটি ম্যুরাল নির্মাণের জন্য খরচ করা হয়েছে আরো ৫ লাখ টাকা। অথাৎ মোট ব্যয় করা হয়েছ ২১ লাখ টাকা। সরজমিনে গেলে দেখা যায় ম্যুরাল তো দূরের কথা ম্যুরালের কোন অস্তিত্বও নেই। জেলা পরিষদের এমন অদ্ভূত কান্ড দেখে হতভম্ব ক্ষমতাসীন দলের লোকজনসহ সাধারণ মানুষ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস উদ্দিন বলেন, দুঃখের বিষয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণের জন্য অথাৎ যার জীবন-যৌবন এমনকি যার পরিবারবর্গ এদেশের জন্য উৎসর্গ্য করছেন এবং যার নির্দেশে এই দেশের মুক্তিযোদ্ধ করে ৩০ লাখ শহিদ হয়েছেন, ২ লাখ মা-বোনদের সম্মান বিসর্জন দিয়ে এইদেশটা নির্মাণ করে গেছেন, তাঁর নামে ম্যুরাল নির্মাণ এর যে অর্থ বরাদ্ধ নিয়ে র্দীঘ চার বছর পর্যন্ত যে খেলা চলছে তা দুঃখজনক বলে তিনি দাবী করছেন। তিনি আরো বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এর কঠোর প্রতিবাদ করছি এবং এর যথাযথ বিচার প্রার্থনা করছি। এ মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণের নামে বছরের পর বছর এমন তালবাহানা করছেন তাদের প্রকাশ্যে ফাসি দেয়া উচিৎ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরিদ উদ্দিন ফকির বলেন, জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থ আত্মসাতের পায়তারা করছেন। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণকে কেন্দ্র করে যারা এমন কাজ করছেন তাদের চামড়া তুলে ফেলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ বিষয় কোন মন্তব্য করতে নারাজ বরিশাল জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান মোঃ মইদুল ইসলাম।