বরিশালে মাঠ দখলে আওয়ামীলীগ-পুলিশ, পিছু হটেছে বিএনপি

0
269

মাসুদ রানা ॥ ২০ দলীয় জোটের চলমান অবরোধে বরিশালের রাজনৈতিক মাঠ দখলে নিয়েছে আ’লীগ ও পুলিশ প্রশাসন। নগরীর গুরুত্বপূর্ন স্পটগুলোতে অবস্থান নেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মিরা। একই সঙ্গে পুলিশও বিচরন করেছেন কঠোর  অবস্থানে ।বিভিন্ন স্থাপনাসহ নাশকতা প্রবণ এলাকাগুলোয় নিয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

অন্যদিকে ভয়ে আতংকে বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ  প্রান্তিক পর্যাায়ের কর্মিরাও  মাঠ ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।সরেজমিনে দেখা যায়,অবরোধের প্রথম দিন থেকে বরিশাল নগরীর  সোহেল চত্বর,টাউন হল,কাকলীর মোড়,নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনাল,রুপাতলী বাস টার্মিনাল,লঞ্চঘাট এলাকার প্রতিটি মোড়ে অবস্থান নেন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

থেমে থেমে তাদের হরতালবিরোধী মিছিল করতে দেখা যায়।এ সময় তাদের পাশেই অবস্থান করেন পুলিশ সদস্যরা।প্রতিদিন অবরোধবিরোধী মিছিল সমাবেশ করেন জেলা ও মহানগর ্আ’লীগের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে উপস্থিত থাকেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুস,কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ, মহানগর সাধারন সম্পাদক আফজালুল করিম।

একইভাবে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান দেখা যায়, কাশিপুর বাজার , গড়িয়ারপাড়,রহমতপুর এলাকায়।এদিকে পুলিশ প্রশাসনও অবরোধকারীদের দমনে গড়ে তুলেছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়।সড়কের মোড়ে মোড়ে বসিয়েছে চেক পোষ্ট।সবসময় অস্ত্র তাক করে দৃষ্টি রাখেন চারপাশে ।

লাঠি হাতে মোটর সাইকেলে টহল দেন তারা।যাতে নগরীর কোথাও কোন পিকেটিং না হতে পারে।পাশাপাশি অবরোধের সমর্থনে মিছিল সমাবেশ করতে সরকার বিরোধীপক্ষরা সড়কে নামলে ধাওয়া দিয়ে ছত্র ভঙ্গ করা  হয়। এর বাইরেও কারনে অকারনে বিএনপি ও জামায়াত কর্মিদের গ্রেফতার করে আতংক ছড়াচ্ছেন জনমনে।বাদ যান না সাধারন মানুষরাও।বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার… .. জানান,অন্যদিকে পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে অধিকাংশ নেতাই আছেন আত্মগোপনে।

দায়িত্বশীল নেতাদের কেউই নেই এলাকায়। দু’ একজন নেতা মাঠে আসলেও আন্দোলনের নামে পুলিশের সাথে সমঝোতা এবং ৪ থেকে ৫ মিনিটের ফটোসেশন শেষ করে ঘরে ফেরেন। তাও আবার নগর কিংবা জেলা শহরের ব্যস্থতম এলাকায় নয় নিরাপদ, নির্জন কোনো গ্রাম্য পথে।

এভাবেই চলছে বরিশাল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন। মাঝে মধ্যে মহাসড়কে ইট-পাটকেল ছুড়ে যে দু-একটি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে তাও মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের কর্মিদের বিছিন্ন উদ্যোগে।টানা অবরোধের ১৮ দিন পার হয়েছে গতকাল। এই ১৮দিনে বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ার, এবায়েদুল হক চান, আবুল কালাম শাহিন, মেসবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও আকন কুদ্দুসুর রহমান, নগরীর গুরুত্বপূর্ন কোন স্পটে এসে মিছিল সমাবেশ করেননি।

নেতাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ দাবি করছেন পুলিশ তাদের রাজনৈতিক ময়দানে আসতে দিচ্ছেন না।অন্যদিকে কর্মিরা বলছেন,কেন্দ্রিয় নেতাদের দেখানোর জন্যশহরের বাইরে এসে নামে মাত্র ফটো সেশনের আন্দোলন করেন।

সরেজমিনে নগরীর বিসিক রোড ও চড়বাড়িয়া ইউনিয়নে কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ারকে ২০ থেকে ২৫ জন কর্মি নিয়ে আন্দোলন করতে দেখা গেছে।যদিও বরিশাল নগরীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা সমাবেশ মিছিল নিষিদ্ধ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে একবার মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক এমপি সরোয়ার। এর বাইরে উল্লেখ করার মতো আর কিছু ঘটেনি এখানে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী অংশে বেশ কিছু গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ হলেও স্বাভাবিকভাবে চলছে এসব এলাকার অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ-বাস।

 

কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগীয়) ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার জানান,পুলিশ বেপরোয়া হওয়ায় নগরীর বাইরে গিয়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে। এছাড়া বিএনপির নেতা কর্মিদের ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে গণ গ্রেফতার ও মামলা করায় মাঠে আসতে পারছে না ।

 

মাঠে না থাকার বিষয়ে জানতে  বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ  উদ্দিন ফরহাদ,বাখেরগঞ্জ’র সাবেক এমপি আবুল হোসেন’র সাথে যোগাযোগ’র চেষ্টা করলে  মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।