বরিশালে মামুন সহ ১৫জন প্রার্থীর দলীয় মনোনয়পত্র জমা

0
496

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়পত্র বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে খান মামুন সহ ১৫জন প্রার্থীর মনোনায়ন জমা পড়েছে। গতকাল আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় মনোনায়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে দলের নেতাকর্মীরা নৌকা পর্তীক নিয়ে লড়াই করার জন্য প্রার্থীরা মনোনায়ন পত্র জমা দেয়। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভূমিধস জয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আগামী উপজেলা নির্বাচনেও ভালো ফলের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

 

এছাড়া মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি, বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা বেগম এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক বিএম কলেজের সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসাইন ও লঞ্চমালিক সমিতির সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টুর নাম শোনা গেলেও মনোনায়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে আ-লীগের দলীয় কার্যালয়ে ১৫ জন প্রার্থী মনোনায়ন পত্র জমা দিয়েছে বলে সূত্রে জানাযায়। তবে বিএনপি মাঠে না থাকায় এ অবস্থায় দলীয় মনোনয়ন পেলে জয় অনেকটাই নিশ্চিত জেনে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন স্থানীয় নেতারা। মনোনয়ন যুদ্ধে থাকা প্রার্থীরা তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

মনোনয়ন নিশ্চিতে একইসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন লবিং। এদিকে দলীয় মনোনায়ন পেতে দলের নেতারা ইতি মধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়ে। অতিথি পাখির মত সময় উড়ে এসে ঝুড়ে বসে কিছু সুযোগবাদী নেতারা। আর তাদের সেই উড়ে আসা ঝুড়ে বসার মাঝে নিজেকে মানুষের সেবক হিসাবে সাধারন মানুষের পাশে থাকতে চায় আলহাজ্ব মাহমুদুল হক (খান মামুন)।

বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অঙ্গনে অবহেলিত এক নেতা তিন যুগ ধরে দলের কাছে অবহেলিত থাকলেও বরিশাল নগরীর সিংহভাগ জনমনের মনিকোঠায় রয়েছেন তিনি। কেননা তার কাছে যাওয়া মানুষদের সব সময়ই সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যা নগরীর বর্তমান ও অতীত প্রেক্ষাপটে এ সব কার্যক্রমের কয়েক শতাধিক প্রমাণচিত্র দৃশ্যমান হয়ে থাকলেও নিজ রাজনৈতিক দল থেকে খান মামুনের প্রাপ্তির পালাছিল খুবই ক্ষীণ। যা বরিশালের অধিকাংশ সচেতন ব্যক্তিরই জানা।

বরিশাল আ’লীগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল রাজনৈতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে অদ্যবধি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান খান মামুন। তার রাজনৈতিক জীবনে নিজেকে সাধারন মানুষের কাছে মনিকোঠায় নিয়ে গেছেন। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতি ও রাজনৈতিক আদর্শ পালন করে আসছেন। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান বিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৮৯ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক হয়ে বরিশাল অঞ্চলে সর্বত্মক ভূমিকা পালন করেন, বি.এন.পির আজিজের পাতানোর নির্বাচনের প্রতিরোধ, ১/১১ পরবর্তী সরকার বিরোধী আন্দোলনে বরিশাল নগরীর নেতৃতের সময় একাধিক মামলাসহ পুলিশের নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়।

অনুসন্ধানে জানাযায়,২০১৬ সালে বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য পদ অর্জন করে। বরিশালের ক্রীড়াঙ্গন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও বিভিন্ন সেবা মূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন খান মামুন। পর্যায়ক্রমে ১৯৮২ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বরিশালের ছাত্রদের নেতৃত্ব , ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বরিশাল যুবকদের নেতৃত্ব¡, (২০০৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। ১৯৮৯ সালে বি.এম. কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) এ.জি.এস ১৯৯০ সালে (বাকসু) জি.এস এবং ১৯৯৭ সালে ভি.পি ছিলেন। ২০০৯ সালে বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হয়ে নির্বাচন অংশগ্রহন করেন।

তা ছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ মানবাধীকার কমিশন বরিশাল মহানগর এর সভাপত্বি এবং বরিশাল মহানগর বরিশাল কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে আওয়ামীলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার সময় অর্থাৎ ১৯৮১ সালে ১৫ই আগষ্ট পালনকালে বরিশাল ল’কলেজ মাঠ থেকে গ্রেফতার হয়। ১৯৮১ সাল থেকে বি.এন.পি ও এরশাদ বিরোধীয় আন্দোলনে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখি ও সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য কাজ করে এবং এ সময় একাধিক মামলার আসামী হয়। ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং একাধিক মামলার আসামী হয়।

 

ওয়ান ইলেভেন এর পরবর্তী সময়ের জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিবাদে বরিশাল মহানগর যুবলীগের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে পুলিশ কর্তৃক নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে ও খান মামুন বরিশালের অধিকাংশ নেতাদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। শিক্ষা জীবনে তিনি অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনায় ও ইতিহাস তিনটি বিষয়ে মাষ্টার ও এল.এল.বি পাশ করেছেন। এর পাশাপাশি ১৯৮২ সালে বরিশাল বি.এম কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, ‘নৌকা হচ্ছে উন্নয়নের প্রতীক। এ কারণে সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনেই আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। দেশে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বিএনপি যেভাবেই প্রার্থী দিক না কেন উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হবে। আমি ৩৬ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করছি।

 

অনেক হামলা-মামলা সহ্য করার পাশাপাশি বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে সে। দলের প্রতি অনিহা নয়, যতদিন বাঁচব ততদিন আওয়ামী লীগের হয়েই বরিশালবাসীর উন্নয়নে কাজ করে যাবে। তার প্রায় সকল কার্যক্রম সম্পর্কেই কেন্দ্রীয় নেতা কর্মীরা জানেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অব্যশই আমার দিকে সুদৃষ্টি দিবেন এবং তিনি আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দিবে বলে আমার বিশ্বাস।