বরিশালে লুভি প্রধান শিক্ষকে ফাঁদে এসএসসি পরীক্ষার্থী !

0
67

স্টাফ রির্পোটার ॥ গতকাল শুরু হয়েছে দেশব্যাপী মাধ্যমিক স্কুল সনদ (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী হয়েও পরীক্ষা দেওয়া হলোনা নলছিটির উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেপি আক্তারের। তিমিরকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলকান্ত মিস্ত্রী’র স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্বহীনতা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারনে নলছিটি দপদপিয়া ২নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা অসহায়-পঙ্গু নান্না খান এর কন্যা এসএসসি পরীক্ষার্থী হেপি আক্তারের শিক্ষা জীবন ধ্বংসের পথে। সামান্য চা দোকানী পঙ্গু নান্না খান ক্ষোভের সাথে বলেন, সকাল-বিকাল চা বিক্রি করে মেয়েকে স্কুলে পড়াইছি। অনেক কষ্ট করে ৯ম-১০ম শ্রেণীতে মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ চালাইছি। এসএসসি পরীক্ষার পূর্বে স্কুলে স্যাররা কোচিং করাইছে, তার টাকা দিছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক নীলকান্ত মিস্ত্রী’র জন্য আমার মেয়ের পরীক্ষা দেয়া হলো না। আমি গরীব- পঙ্গু মানুষ কিভাবে আবার দু’বছরের লেখা-পড়ার খরচ চালাবো? এই স্যারের জন্য আমার মেয়ের লেখা-পড়া শেষ হয়ে গেল।

শিক্ষার্থী হেপি আক্তার বলেন, আমি ৯ম-১০ম শ্রেণীতে নিয়মিত ক্লাস করেছি। স্কুলে সব পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছি। এসএসসি পরীক্ষার পূর্বে স্কুলে হওয়া প্রি-টেষ্ট পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছি। এসএসসি’র পরীক্ষার ফরম ফিলাপ এবং স্কুলে কোচিং বাবদ ২৫০০ টাকা দিয়েছি। আমার পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফি, কোচিং ফি এবং প্রবেশপত্র দেয়ার জন্য স্যার টাকা নিছে। কিন্তু আমাকে পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রবেশপত্র দেয়নি। স্যারের কাছে অনেকবার প্রবেশপত্র চাইলেও তিনি আজ দিবেন, কাল দিবেন বলে আমাকে ফিরিয়ে দিতেন। আমাদের পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফি দেয়ার মত টাকা ছিলো না । এক ব্যক্তি আমাদের স্কুলের অসহায়-গরীব ৭ শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য স্যারের কাছে ১৪ হাজার টাকা দিছেন। প্রবেশ প্রধান শিক্ষক স্যার ওই টাকাও আত্মসাৎ করেছে। এখন আমার লেখা-পড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে তিমিরকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক স্বপন নীলকান্ত মিস্ত্রী’র দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও খামখেয়ালীর কথা স্বীকার করে বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করা সম্ভব না হলেও ১০ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করার সুযোগ থাকে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক স্যারের দায়িত্বহীনতা ও গাফোলতির কারনেই আজ এই শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারছে না। এটা ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে বড় একটা দুর্ঘটনা জানিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী হেপি আক্তার তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি হেপি আক্তারকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ড কন্ট্রোলার‘র সাথে যোগাযোগ করতে বলেন এবং এ ঘটনা তদন্তের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। এ দিকে প্রধান শিক্ষক নীলকান্ত মিস্ত্রী’র বিরুদ্ধে কাজ না করে স্কুলের ফান্ড থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আসা অর্থ তিনি নিজের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা রাখতেন এবং লোক দেখানো সামান্য কাজ করে পুরো অর্থ নিজে আত্মসাৎ করেন বলে জানাগেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, স্কুলের উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য তিনি ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ওই টাকা তার ব্যক্তিগত ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা দিতে বলেন। পরবর্তীতে মাত্র ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার কাজ করিয়েছেন। স্কুলের শিক্ষার্থী-স্বজন এলাকাবাসী এই দুর্নীতিবাজ এবং দায়িত্বহীন প্রধান শিক্ষক নীলকান্ত মিস্ত্রী’র শাস্তির দাবী জানান।

এবিষয় তিমিরকাঠি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কমিটির সভাপতি ও দপদপিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল মৃধা জানান,স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ বিষয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ও শিক্ষার্থী হেপি আক্তার এর বিষয় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এবিষয় তিমিরকাঠি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নীলকান্ত মিস্ত্রী জানান,সব দোষ ছাত্রী হেপি আক্তারের । সময় মত হেবি স্কুলে আসে নি। আর সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।