বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার এসআই এনামুলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

0
263

বরিশালে জুনিয়র স্কুল সাটিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন- নগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার এসআই এনামুল হক।

ইয়াবা উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও না জানানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠী খন্দকার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে থেকে স্কুলছাত্র মইনকে আটক করেন এসআই এনামুল। শনিবার তাকে ১৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত মইনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

মইনের বাবা সাইদুল হক হিরণ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মইন বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের পাশে বসেছিল। এ সময় সাদাপোশাকে দুজন এসে মইনকে জাপটে ধরে। তার চিৎকারে তিনিসহ (হিরণ) আশপাশের লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে এলে সাদা পোশাকধারীরা দাবী করেন, মইন ইয়াবা বিক্রি করে। সে যেখানে বসা ছিল তার পাশে ইয়াবা পাওয়া গেছে।

হিরণ জানান, মইনের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি পুলিশের হাতে নেয়ার পরই ০১৩১৩-৯১৯১২০ নম্বর থেকে কল আসে এবং ক্রেতা সেজে ইয়াবা চাওয়া হয়। হিরণের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটিই সাজানো। একই বাড়ির নুরুল মিয়ার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তার মামলা-মোকাদ্দমা চলছে।

নুরুর ছেলে হাসান চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিকবার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। তার যোগাসাজসে পুলিশকে ব্যবহার করে মইনকে ফাঁসানো হয়েছে।

২৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, ইয়াবা উদ্ধারের খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তখন এসআই এনামুল তিনিসহ উপস্থিত অন্যদের ইয়াবা দেখাতে পারেননি।

কিশোর মইনকে থানায় নেয়ার পর ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি মইন ও তার পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জসিম উদ্দিন ও ফরিদ আহম্মেদ জানান, নীরিহ এক কিশোরকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়টি উপ কমিশনার (উত্তর) মোকতার হোসেনের সঙ্গে শনিবার দুপুরে সাক্ষাত করে জানানো হয়েছে।

তিনি তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এসআই এনামুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মইনের সঙ্গেই ইয়াবা পাওয়া গেছে। তিনি উপস্থিত সবাইকে ইয়াবা দেখিয়েছেন এবং তাৎক্ষণিক ওয়ারলেসে ম্যাসেজ দিয়েছেন।

উপ-কমিশনার মোকতার হোসেন বলেন, এক কিশোরকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। একজন সহকারী কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।