বরিশাল মেট্রো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে তদন্ত কমিটির সংবাদ পেয়ে পরিচালক উধাও !

0
60
SONY DSC

কাওসার মাহমুদ মুন্না ॥ সংবাদ প্রকাশের পর নগরীর সেই আলোচিত মেট্রো ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিদর্শন করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যলয়ের দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। সূত্র মতে, গত বুধবার (২১ নভেম্বর) স্বরসতি (৮০) নামের এক রোগী পেটে ব্যাথা নিয়ে নগরীর প্রান কেন্দ্র সদর রোডস্থ প্যারারা রোডে অবস্থিত মেট্রো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডাঃ এইচ এন সরকারের কাছে চিকিৎসা নিতে যায়। চিকিৎসক রোগ নির্নয় করার জন্য অনেক গুলো পরীক্ষা ধরিয়ে দেয়। পরীক্ষায় ধরা পরে স্বরসতির রক্ত শুন্যতা।

রোগীর শরীরে রক্ত পুশ করানোর জন্য চিকিৎসক রক্ত গ্রুপিং এন্ড ক্রোস মেচিং নামের একটি পরীক্ষা দেন। রক্তের গ্রুপ ঐ প্রতিষ্ঠানে করালে পরীক্ষায় রক্তের গ্রুপের ফলাফল ‘ও’ পজেটিভ আসে। কিন্তু রোগীর স্বজনরা রক্তের গ্রুপ নিয়ে সংকোচে পরে যায়। তারা পূনরায় সেখানে রক্ত পরীক্ষা করালে রিপোর্টে রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজেটিভ আসে। স্বজনরা বিপাকে পরে যায়। রোগীর শরীরে রক্ত পুশ করানোর জন্য শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। এবং সেই পরীক্ষা পূনরায় হাসপাতালে করায়। সেখানে রক্ত গ্রুপিং এন্ড ক্রোস মেচিং করালে সেখানে স্বরসতির রক্ত গুপ ‘বি’ পজেটিভ আসে। এতে তারা আরো হতাসায় পরে যায়। পরে ঐ রিপোর্ট নিয়ে মেট্রো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের যায়। সে খানে জহর লাল সরকার রোগীর স্বজনদের উল্টা পাল্টা বুজিয়ে পাঠিয়ে দেয়। তারা ৪র্থ বার শেবাচিম হাসপাতালে রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রে পূনুরায় রক্ত ঐ পরীক্ষা করালে সেখানে রক্ত গ্রুপ ‘বি’ পজেটিভ আসে। এর মানে হাসপাতালের পরীক্ষার রিপোর্ট সঠিক বলে তাদের মনে হয়।

কিন্তু সেই মেট্রো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ভুল। এ রকম ভুল রিপোর্টের কারনে রোগীর জীবন বিপন্ন হয়ে যেতে পারে। রোগীর রোগ নির্নয়ের জন্য চিকিৎকরা পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। আর পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে রোগীর চিকিৎসা দেন। সেখানে তো অবশ্যই চিকিৎসক ভুল রিপোর্ট দেখে ভুল চিকিৎসা দিবেন। অনেক সময় এই ভুল রিপোর্টের কারনে রোগীরা হতাসায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরে। আবার অনেক সময় তারা অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। এরকমই চিকিৎসক ভুল রিপোর্ট দেখে স্বরসতিকে ভূল চিকিৎসা দিতো। আর ভূল চিকিৎসার জন্য রোগীর অকালে মৃত্যু হতে পারতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানায়, ঐ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত পরীক্ষা দিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জহর লাল। অদক্ষ টেকনিশিয়ানের কারনে ঐ প্রতিষ্ঠানে অহরহ ভূল রিপোর্ট হচ্ছে । আর এযেন দেখার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে ঐ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহর লাল সরকার ঘটনা সত্যতা সিকার করে বলেন, ভূল হতেই পারে ডাক্তাররাও মানুষ তারাতো অমানুষ না । চিকিৎকরা ও কম্পিউটার অপারেটর ভূল করছে আমার তো কোন ভূল নাই। ডাক্তাররা কি করে না করে সেটা দেখার কি মালিকের দায়িত্ব। আর স¦রসতি আমার আতœীয় সেখানে ভুল হলেও সমস্যা নেই। কিন্তু স্বরসতির পরিবার জানায়, জহর লাল আমাদের কোন আতœীয় নয়। কিন্তু ঐ প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর আতœীয় তিনি। পরিচালক জহর লাল সরকারের কথা শুনে মনে হলো সে যেমন অদক্ষ তেমনি তার অদক্ষ প্রতিষ্ঠানের অদক্ষ টেকনিসিয়ানরা।

সূত্র জানায়, মেট্রো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ২৪০ জন পোষাকৃত দালাল রয়েছে। এরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ওৎপেতে থেকে রোগীদের ফুসলিয়ে নিয়ে আসে ঐ প্রতিষ্ঠানে। বিনিময়ে তারা পেয়ে থাকে মোটা অংকের কমিশনসহ মেট্রো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির সংবাদ গত ২৪ নভেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমানের নিদের্শে সহকারী পরিচালক ডাঃ আঃ জব্বার হাওলাদারকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে।পরে সহকারী পরিচালক ডাঃ আঃ জব্বার ও উচ্চমান সহকারি মোঃ জুয়েল হাওলাদার সোমবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০ টায় অভিযুক্ত ডায়াগনষ্টিক সেন্টাওে তদন্ত করতে যায়। এ সময় ঐ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহর লাল সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে যায়। তদন্ত কমিটি ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মরত রিসিভসনের কর্মচারি জহর লালের মোবাইল ফোনে ফোন করলে সে আসছি বলে ৪০ মিনিট তাদের বসিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে তারা ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যায়।

সূত্র জানায়, ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে রোগীরা পরীক্ষা না করালে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহর লালের ভাই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত ডাঃ এইচ এন সরকার পরীক্ষার রিপোর্ট রোগীর মুখে ছুড়ে মারে বলে অভিযোগ। তদন্ত কমিটির বিষয় জানতে চাইলে , পরিচালক জহর লাল সরকার বলে যত নিউজ পারেন করেন আপনারা তাতে আমার কিছু যায় আসে না । আর আমি কার সামনে আসুম না আসুম এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যপার। আর তারা আসলেই তাদের সামনে আমার যেতে হবে, এমন তো কোন কথা নেই। এ ব্যপারে বিভাগীয় স্বাস্থ্য সহকারী পরিচালক ডাঃ মোঃ আঃ জব্বার বলেন, আমরা অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম সেখানে আমরা মালিক পক্ষের কাউকেই পাইনি। তবে মালিককে আমরা নোটিশের মাধ্যমে ডাকবে বলে তিনি জানান।