বরিশাল শিশু পার্কে বিএনপির ঘাঁটি, চড়া দামে ফাষ্টফুড বিক্রি ! পর্ব ১

0
862

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিনোদনের নামে বানিজ্য! নগরীর একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র প্লানেট ওয়ার্ল্ড পার্কে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিনোদন পিপাসূদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্লানেট ওয়ার্ল্ড পার্কে (শিশু পার্ক) বাহিরের চেয়ে ৪ গুণ বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে ফাষ্টফুড সহ সকল খাবার আইটেম। এবিষয় পার্কের কর্তৃপক্ষ দেখেও বিষয়টি এরিয়ে যায়। বরিশাল নগরবাসীদের জন্য একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র নগরীর প্লানেট ওয়াল্ড পার্ক (শিশু পার্ক)।

সাবেক মেয়র ও সদর আসনের এমপি প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন এই প্লানেট পার্কের পরিচালকও ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পর পার্কটির অভ্যন্তরীন সৌন্দর্য্য যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি নেই কোন শৃঙ্খলা, নেই পার্কের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা সোহরাব হোসেনের কোন দায়বদ্ধতা। অভিযোগ উঠেছে পার্ক ম্যানেজার সোহরাব হোসেন বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের লালন পালন করছেন। প্রতিটি দোকান মালিক রয়েছে জামায়াত বিএনপি জোটের সাথে যুক্ত।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পার্কটির ভিতরে থাকা প্রায় সব কয়টি দোকান রয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের  দখলে । যেখানে বসে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট বৈঠক করে তাদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতো। কিন্তু ম্যানেজার সোহরাব সেদিকে কোন কর্নপাত করেনি। অভিযোগ উঠে বিএনপির নেতাকর্মীরা পার্কের ভিতরে বসে দলীয় আলোচনা, বৈঠক করেছেন। আর ম্যানেজার সোহরাব তা দেখে এরিয়ে যায়। এমনকি তিনি পার্কের মালিক পক্ষ বা কোন দায়িত্ববান ব্যাক্তিকে ও এব্যাপারে কিছু জানাতেন না। পার্কে থাকা ডোনাল্ড ফাষ্টফুড, ইত্যাদি গার্ডেন, কিছুক্ষণ স্ন্যাকস, রিয়ান্তি ফাষ্টফুড, প্রিয়াঙ্গন ও প্যাসিফিক গার্ডেন সবগুলো দোকানই বিএনপির দখলে। এসব দোকানে বসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পার্টি দিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতেন বিএনপি জামায়েত জোটের নেতারা।

পার্কের কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, বিভিন্ন সময় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পার্কের ভিতরে থাকা দোকানে বসে বৈঠক করতো। কারন পার্কের ভিতরে বসে তাদের পরিকল্পনা করলে নিরাপদে করতে পারতে তারা। সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর পার্কের ভিতরে অভিযান চালিয়ে প্রিয়াঙ্গন ফাষ্টফুড নামক দোকান থেকে এ্যালকোহল যুক্ত বিয়ারসহ মেহেদি ও সাইদুল নামে দুই বিক্রেতাকে আটক করে। বর্তমানে তাদের নামে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা চলছে। কিন্তু ম্যানেজার সোহরাব মোটা অংকের অর্থ নিয়ে দোকান মালিক ও মাদকদ্রব্য মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন না করে তাদের পুনরায় পার্কের ভিতর আশ্রয় দেন। যেখানে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করছেন। সেখানে ম্যানেজার সোহরাব তাদের লালন পালন করছেন।

অভিযোগের ভিক্তিতে সরজমিনে গেলে দেখাযায় সিমি নামে এক দর্শনার্থী বলেন, পার্কটিতে আমরা ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে আসি। কেননা বরিশালের একমাত্র সু-শৃঙ্খল ও নিরাপদ ভেবে সবাই এই পার্কে বেড়াতে আসি। কিন্তু সেখানে যদি মাদক ব্যবসায়ী ও বিএনপির কর্মীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যাবহৃত হয় তবে সেখানে নিরাপদ কোথা থেকে আসবে।

একটি সূত্র জানায়, পার্কের ভিতর দোকান ভাড়া প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা। কিন্তু  অভিযোগ রয়েছে পার্ক ম্যানেজার সোহরাব হোসেনের  নামে  প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিমাসে সাব ভাড়া হিসাবে ১০/১২ হাজার টাকা বাড়তি আদায় করা হয়। আর সেই সুযোগ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের বিভিন্ন মিটিংএর আলোচনা করেন। এদিকে পার্কে ঘুড়তে আসা দর্শনার্থীদের জিম্মি করে রাখছেন গলাকাটা দাম। বাহিরের চাইতে পার্কের ভিতর খাবার প্রতি ৫০/৬০ টাকা বেশি রাখেন বলে অভিযোগ করেন সাধারন দর্শনার্থীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পার্ক ম্যানেজার সোহরাব নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতা মনে করেন। পরবর্তীতে কিছু অভিযোগ স্বীকার করে তিনি বলেন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন যাবত জড়িত। আমি যানতাম না যে ইত্যাদি দোকানের মালিক হিরন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তবে তাকে পার্কের ভিতর ডুকতে বারন করা হয়েছে। সেই সাথে মাদক মামলার আসামীদের পার্কে ডুকতে দেয়া হবে না বলে জানান তিনি। তবে সকল অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এবিষয় প্লানেট ওয়াড পার্কের পরিচালক জেবুন্নেছা আফরোজের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলেন জানান।