বরিশাল শেবামেকের কর্মচারি পদোন্নতি বোর্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি

0
72
SONY DSC

কাওসার মাহমুদ মুন্না ॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ শ্রেণির জুনিয়র দুই কর্মচারিকে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেয়ায় সিনিয়র কর্মচারিদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র জানায়, মেডিকেল কলেজে গত সপ্তাহে একটি পিএসি বোর্ড গঠন হয়। বোর্ড কমিটিতে ছিলেন অধ্যক্ষ ডাঃ ভাস্কর সাহা, উপাধ্যক্ষ সৈয়দ মাকসুমুল হক, পিএসি উপপরিচালক আবদুস সত্তার ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি। সেখানে ৫ জুনিয়র কর্মচারি পরিক্ষায় অংশ নেয়। এরা হলো- অফিস সহায়ক কালাম, গোলাপি, আবির, আসাদ ও জসিম। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জসিম ও জাহিদ নামের দুই জুনিয়র কর্মচারিকে পদোন্নতি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যেখানে জসিম পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও জাহিদ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। টাকার বিনিময়ে জাহিদকেও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, কলেজের সচিব মোঃ মিজানুর রহমান, সহকারী স্টোর কিপার আলমগীর সিকদার, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারি সমিতির সভাপতি মোদাচ্ছের কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহেব আলী, স্টোর কিপার জাহাঙ্গীরের যোগসাজসে দুই কর্মচারির কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি পাইয়ে দিয়েছে। যেখানে তাদের চেয়েও সিনিয়র কর্মচারি রয়েছে। কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে জুনিয়র কর্মচারিদের পদোন্নতি দেয়ায় কর্মচারিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সহকারী স্টোর কিপার আলমগীর সিকদার বছর কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রীকে গালি দেয়া এবং স্টোর থেকে ওষুধ চুরির অভিযোগে তাকে ৬ মাস সাময়িক বরখাস্ত করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও সে জামায়াতের মদদদাতা বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ডাঃ এবিএম মুজহারুল ইসলাম, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা-এর স্মারক নং-স্বাঃঅধিঃ/প্রশাঃ/বদলী-পদায়ন-১১/এও/২০১১/৩৮৫৩, তারিখ ঃ ৪/০৯/২০১৮ খ্রিঃ এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তন করে সমস্কেলের পদে অথবা উচ্চতর পদে পদায়ন না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল। মহাপরিচালক মহোদয়ের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারী করা হল।
এ ব্যাপারে পিএসসি বোর্ডের উপ-পরিচালক আঃ সত্তার বলেন- ওইদিন বোর্ডে আমি ছিলাম কিন্তু পদোন্নতির জন্য আমি কোথাও স্বাক্ষর করিনি এবং জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিও স্বাক্ষর করেননি। তাহলে স্বাক্ষর ছাড়া কিভাবে পদোন্নতি দিলেন কলেজ অধ্যক্ষ। এ নিয়ে কলেজ কর্মচারিদের মধ্যে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ ডাঃ ভাস্কর সাহা’র মুঠোফোনে ফোন করলে ফোন রিসিভ হয়নি।