বহুল আলোচিত শাজনীন হত্যা মামলা: রাতেই শহীদের ফাঁসি কার্যকর

0
178

সময়ের বার্তা ।।

রাজধানীর গুলশানের নিজ বাড়িতে শিল্পপতি লতিফুর রহমানের মেয়ে শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদের ফাঁসি আজ রাতেই কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। বুধবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশিমপুর কারাগারের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। রাত ১০টার মধ্যেই তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছেন হাই সিকিউরিটি প্রিজন্সের ওই কর্মকর্তা।

১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গুলশানের নিজ বাড়িতে খুন হন শাজনীন তাসনিম রহমান। এ ঘটনায় পরদিন শাজনীনের বাবা লতিফুর রহমান গুলশান থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেন। একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করে সিআইডি।

তদন্ত শেষে প্রথম মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১ এবং দ্বিতীয় মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দুটি মামলাতেই আদালত অভিযোগ গঠন করেন।
ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক কাজী রহমতউল্লাহ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে ছয় আসামিকেই ফাঁসির আদেশ দেন আদালত।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য এই মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে আসামিরাও আপিল করেন। ২০০৬ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি শনিরামকে খালাস দেন। এরপর ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন চার আসামি হাসান, বাদল, মিনু ও পারভীন।

২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল সাজাপ্রাপ্ত চার আসামির লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আরেক আসামি শহীদ জেল আপিল করেন। প্রায় সাত বছর পর ২৯ মার্চ ওই পাঁচ আসামির আপিলের শুনানি একই সঙ্গে শুরু হয়।

সবশেষ ২০১৭ সালের ৫ মার্চ শাজনীন হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন গঠিত তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ।