বাংলার জমিনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই -ছারছীনার পীর ছাহেব

0
169

 

 

ছারছীনা থেকে মোঃ আবদুর রহমান ।।  আমীরে হিযবুল্লাহ, মুজাদ্দিদে যামান ছারছীনা শরীফের পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (মা.জি.আ.) বলেছেন- মানবতার চিরস্থায়ী শান্তি ও মুক্তির জন্য আল্লাহ ও রসূল (সঃ) এর পথে আসুন। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজের জীবন গড়–ন। হক্কানী পীর-মাশায়েখদের আদর্শে ও সোহবতে থেকে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলুন।

পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্মে অশান্তি, মারামারি, হানাহানির কোনো স্থান নেই। আর ইসলামেও এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই সকলকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। আর পীর-ভাই, মুহিব্বীনদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন- ছাত্র ও যুব সমাজ যাতে এদিকে না যেতে পারে সেজন্য তাদেরকে দ্বিনীয়ার শিক্ষায় শিক্ষিত করার ও আমাদের অরাজনৈতিক দ্বিনী সংগঠন জমিয়ত, যুব ও ছাত্র হিযবুল্লাহর ছত্রছায়ায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান।

গতকাল ছারছীনা দরবার শরীফের ১২৮ তম বার্ষিক ঈছালে ছওয়াব মাহফিলের শেষ দিন আখেরী মুনাজাতের পূর্বে হযরত পীর ছাহেব কেবলা লাখো লাখো ভক্ত মুরীদানদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন।

মাহফিলে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীপ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এমপি বলেন- ছারছীনা দরবার অনেক পুরাতন দরবার। এ দরবারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমার পারিবারিক সম্পর্ক। শুধু তাই নয় ছারছীনা দরবারের সাথে বর্তমান সরকারের খুবই গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমার বিশ্বাস এ দরবারকে নিয়ে কেহ কোন ক্ষতি করতে পারবে না বরং যদি কেহ করতে ইচ্ছা পোষন করে তাহলে সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা বজলুল হক হারুন এমপি বলেন- আমি এই দরবারের একজন সদস্য। এখানের সকল বিষয়ে আমার ধারণা আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন মাদ্রাসা সমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, সাবেক মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক ও আমি অধম নিজে বঙ্গবন্ধুর কাছে যাওয়ার পর মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার আবেদন করলে স্বাধীনতার পরে সর্বপ্রথম ছারছীনা মাদ্রাসা খুলে দেওয়া হয়। ছারছীনা খাঁটি আলেম তৈরীর করার উপযুক্ত একটি স্থান। এখানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের লেশমাত্র নেই।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাড. শামসুল হক টুকু বলেন-ছারছীনা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা দাদা হুজুর নেছারুদ্দীন আহমদ (রহঃ) একজন আল্লাহর ওলি ছিলেন। যার চেষ্টায় শুধু এখানে নয় সমস্ত বাংলাদেশের মানুষকে কল্যাণ ও সেবামূলক কার্যক্রমে উজ্জীবিত করেছেন। আমি আশি করি এ প্রতিষ্ঠান যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। আর তা কেবল বর্তমান পীর ছাহেবের যোগ্য নেতৃত্বে সম্ভব।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ্যাড. মোঃ আফজাল হোসেন বলেন- আমি ছোট থেকেই ছারছীনা দরবারের নাম শুনেছি। এ দরবার একটি হক্ব দরবার। আজকে এই মাহফিলে আগত লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম এটাই প্রমাণ করে এ দরবার একটি দ্বিনী খেদমতের প্রতিষ্ঠান। আর এ খেদমতের কার্যক্রমকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আ.খ.ম. জাহাঙ্গির হোসাইন বলেন- আমি এ দরবারের একজন গোলাম। আপনারা সকলে দোয়া করবেন যাতে আমি এ দরবারের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত কাজ করতে পারি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন- আমি পূর্বে এ দরবারের নাম শুনেছি। আজকে বাস্তবে এসে আমি উপলব্ধি করতে পারলাম যে এ দরবার ইসলাম ও দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান মোহন, নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ, পৌর মেয়র জি এম কবির প্রমূখ।

তিন দিনের এই বার্ষিক ১২৮ তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিলে শেষ দিন আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে বাস, লঞ্চ ও ট্রলার যোগে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সমাগমে মাহফিল ময়দান সহ আশপাশের প্রায় দু’বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিল। সে যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। বেলা পৌনে তিনটায় আখেরী মুনাজাত শুরু হয়। প্রায় আধাঘন্টাব্যাপী মুনাজাতে মুসল্লীদের গুনাহ মাফের জন্য মহান আল্লাহর দরবাওে কান্নার আওয়াজে যেন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছিলো। মুনাজাতে অংশ নিতে আসা মুসল্লিবৃন্দ ময়দানে স্থান না পাওয়ায় যে যেখানে যে অবস্থায়ই ছিলো সেখান থেকেই অংশ নিয়েছিলো।