বাচ্চুকে সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

0
89

সময়ের বার্তা ।।

বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হন আবদুল হাই বাচ্চু। জিজ্ঞাসবাদ শেষে বিকাল পৌনে পাঁচটায় তিনি দুদক ভবন ত্যাগ করেন।

দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল মোট চারটি মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুদক সূত্র জানা যায়, বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৬১ মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৮টি মামলায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। এ নিয়ে তাকে চতুর্থ দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে বাচ্চু এসব মামলার কোনোটিতে আসামি নন বলে দুদক সূত্র জানায়।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের আলোচিত এই চেয়ারম্যানকে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। দুইদিন পর দ্বিতীয় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর তৃতীয় বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে দুদকে লিখিত আবেদন করেন আব্দুল হাই বাচ্চু। পরবর্তীতে গত ৮ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

এর আগে ঋণ কেলেংকারির এসব মামলায় বাচ্চুর পাশাপাশি ব্যাংকের প্রাক্তন ১০ পরিচালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দুদক।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বরাবরই সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান বাচ্চু। বৃহস্পতিবারও জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে যাবার সময় তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি।

আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে ঋণ প্রদানে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠলে তদন্তে নামে দুদক। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে মোট ৫৬টি মামলা করে দুদকের অনুসন্ধান দল। পরে আরো পাঁচটি মামলা করা হয়।

ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়াসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূত ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বাচ্চুকে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়ন হয়। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।