বিআইডাব্লিউটিএ মালামাল লুটের নেপথ্যে ঠিকাদার আব্বাস

0
26

আল আমিন গাজী ॥ বাংলাদেশ অব্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (নৌ-সওপ) বিআইডাব্লিউটিএ দক্ষিন ব-দ্বীপ শাখায় চলছে সরকারী মালামাল লুটের মহাৎসব। গত ৩০ অক্টোবর দৈনিক সময়ের বার্তা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর চুরি হওয়া ১টি ক্যাপেষ্টান উদ্ধার করে বরিশাল (নৌ-সওপ) বিআইডাব্লিউটিএ দক্ষিন ব-দ্বীপ শাখায় যুগ্ম পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে চোরাই মালামাল লুটের খলনায়ক ঠিকাদার আব্বাস তালুকদারের নাম।

অভিযোগ উঠেছে সরকারী প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চোরাই ভাবে বিক্রি করার। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভোলা চরফ্যাশন বেতুয়া লঞ্চঘাটে সহ বেশ কিছু স্থানে পুরাতন পল্টনের সংস্কার করার জন্য সরকারী ভাবে টেন্ডার হয়।

জানা গেছে সেই কাজ করে আব্বাস তালুকদার সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার। কিন্তু কাজ করার পরে বেতুয়া লঞ্চঘাট থেকে নতুন ও পুরাতন ২টি ও পটুয়াখালি থেকে ১টি ক্যাপেষ্টান ও ২টি পল্টন বাঁধার খুঁটি (্স্প্রাষ্ট ) চোরাই ভাবে ট্রালারে যুগে বরিশাল আনে চোরাই চক্রের সদস্যরা। অভিযোগের ভিক্তিতে অনুসন্ধানে আরো জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডাব্লিউটিএ এক কর্মচারী জানায়, অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যুগসূত্রে বেতুয়া লঞ্চঘাট থেকে আনা ২টি পল্টুন স্পাষ্ট ও ৩টি ক্যাপেষ্টান থেকে ২টি ক্যাপেষ্টান ও ১টি স্পাষ্ট বিক্রি করে দেয় ঠিকাদার আব্বাস। যা বর্তমান বাজার মূল্য ১২ লক্ষ টাকা।

গত মাসে নদীতে পানির চাপ বেশি থাকায় ১টি ক্যাপেষ্টান ও ১টি পল্টুন বাধাঁর খুঁটি (স্পাষ্ট) চরকাউয়া খেয়াঘাটে পানির নিচে ফেলে রাখে আব্বাস। বর্তমানে নদীতে পানি কম থাকায় পল্টুন স্পাষ্ট ও ক্যাপেষ্টানটি দেখা যায়। এ বিষয় আজকের সময়ের বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর উদ্ধার হয় ১টি ক্যাপেষ্টান। তবে ২টি ক্যাপেষ্টান ও ২ স্পাষ্ট উদ্ধার করতে পারে নি নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ। আর কেনই বা উদ্ধার করবে সে? তিনি ও চোরাই মালামাল লুটের বিক্রির টাকার একটি বড় অংশ পকেটে যায় তার। আর সরকারী খাতায় লিখে দেয় নদীতে স্পাষ্ট পানিতে ডুবে গেছে। এদিকে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর চিত্র। অভিযোগের সত্যতা মিলে যায় চরকাউয়া খেয়াঘাটে নদীর পাড়ে।

সেখানে নদীর পাশে দেখা যায় ১টি ক্যাপেষ্টান ও ১টি পল্টন স্পাষ্ট পরে আছে। তা ছাড়া পুরো র্কীতনখোলা নদীতে প্রায় ৭/৮টি পল্টন বাঁধার খুঁটি (স্পাট) পরে রয়েছে পানির নিচে। আর সরকারের নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তবে সরকারী মালামাল লুটের বিষয় সংবাদ প্রকাশের পর চরকাউয়া খেয়াঘাটে রাখা চোরাই স্পাষ্ট হাওয়া করে দেয় ঠিকাদার আব্বাস তালুকদার। অপর দিকে নির্বাহী পকৌশলী মামুন না কি নিজেই জানেন না যে বেতুলা লঞ্চঘাটে কি কি মালামাল রয়েছে? তবে তিনি গত মাসের ৩০ অক্টোবরের প্রকাশিত সংবাদের সময় তার দেয়া বক্তব্যে স্বীকার করেছিল একটি পল্টন বাঁধার খুঁটি (স্পাষ্ট) পরে রয়েছে পানির নিচে। তবে একটি সূত্র জানায়, চোরাই ২টি ষ্পাষ্টের ১টি বিক্রি করেছে ঠিকাদার আব্বাস।

 

তবে তিনি নিজেকে ‘দুধে ধোয়া তুলশি পাতা’ বলে ও দাবি করেন। অপর দিকে (ছদ্মনাম) মামুন জানায়, এর আগেও অনেকবার আব্বাস বিভিন্ন ঘাট থেকে নতুন ও পুরাতন স্পাষ্ট এনে বিক্রি করেছে বরিশাল হাটখোলা এক ব্যবসায়ীর কাছে। তা ছাড়া কয়েক মাস আগে পানির নিচে থাকা ২স্পাষ্ট তুলে একটি জাহাজে তুলে দেয় রকেট ঘাট থেকে। তবে এ বিষয় কথা বলতে চাইলে ঠিকাদার আব্বাস তালুকদার এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করার পরও তিনি রিসিভ করেননি। বরিশাল বিভাগের বিআইডাব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মামুন উর রশিদ মুঠোফোনে জানান, একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।