বৃদ্ধ হেমায়েতকে ঋতুস্রাবের ওষুধ দিলেন ডা: মাসুদ

0
190

বরিশাল অফিস।।বরিশাল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে রোগী পন্য হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। সেবার নাম করে কার্যক্রমের প্রসার ঘটালেও সেখানে নিয়মিত রোগী মৃত্যু, রোগীর স্বজন লাঞ্ছিত, অপারেশনে ভুল করার বিষয়টি শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। আর প্রত্যেকবারই ম্যানেজ করে পার পেয়ে গেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামায়াত পরিচালিত বেসরকারি এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার পেছনে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা কাজ করছে। তারা মাসোহারার জন্য ঘটনাগুলো জেনেও চুপ করে যান।

আবার নিয়মিত পরিদর্শনের কথা থাকলেও সেই দায়িত্বও পালন করেন না কর্মকর্তারা। এই সুযোগে যাচ্ছেতাই করছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এবার অনুসন্ধানে পাওয়া গেলো চমকপ্রদ তথ্য। শুধুমাত্র অপচিকিৎসা দিতেই সেখানে ডাক্তাররা বসেন না পাশাপাশি হাতুড়ে ডাক্তারে সয়লাব ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল। তেমনি একজন ডাক্তার মাসুদ আহমদ। প্রেসক্রিপশনেই লিখে রাখেন ডাক্তারির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার (রেজি নংÑএ-৩৮৮১৬)। আর যোগ্যতা এম.বি.বি.এম: ডি.জি.ও। সরেজমিনে বেশ নাম শোনা গেল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে।

 

কথা হয় কয়েকজন কর্মচারীর সাথে। কর্মচারীরা জানান, মাসুদ আহমদ অনেক নামাজী এবং সৎ লোক। কোন রোগীর সাথে প্রতারণা করেন না তিনি। গরিব রোগীদের ভিজিট রাখেন না। আবার অতিরিক্ত কোন টেস্ট দেন না। বাইরে ঘুরে ঘুরে এসব কথা কর্মচারীরা বললেও বাস্তব চিত্র ঠিক তার বিপরীত। এত যার সুনাম অনুসন্ধানে নামলে তার একটি প্রেসক্রিপশন এসে পড়ে প্রতিবেদকের হাতে। প্রেসক্রিপশটি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় হাসপাতালের সুপারিনটেন্ড ও শের-ই-বাংলা মেডিকের কলেজের শিক্ষক ডা: ইকবালুর রহমানের সাথে। তিনিও প্রেসক্রিপশনটির বিষয়ে প্রথমাবস্থায় কিছু মিলাতে পারছিলেন না। কয়েক মিনিট পরে যখন বুঝতে পারলেন তখন কপালে হাত ঠুকতে লাগলেন। বললেন ‘এই ডাক্তার নিয়ে আমি কি করব!’ সুপারিনটেন্ড এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেও ওই ডা: মাসুদ আহম্মেদের কাছে যিনি চিকিৎসা নিতে এসেছেন সেই রোগীর অবস্থা ততক্ষণে নাস্তনাবুদ। চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা: মাসুদ আহমদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন গ্রামের ৬৫ বছরের সহজ-সরল বৃদ্ধ হেমায়েত (পুরুষ)। ডাক্তার সর্ম্পকে বিশেষ কোন জ্ঞান না থাকায় কোন ডাক্তার দেখাবেন তা জানতে চান ওই হাসপাতালের জনৈক কর্মচারীর কাছে। হেমায়েত জানান, আমার নিুাঙ্গে সমস্যা।

ওই কর্মচারী আমাকে মাসুদ ডাক্তারের কাছে যেতে বলেন। জানা গেছে, মাসুদ আহমদ নিজে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ হলেও ওই বৃদ্ধ হেমায়েতকে দেখে প্রেসক্রিপশন প্রদান করেন। প্রেসক্রিপশনে ৬ টি ওষুধ সেবনের জন্য লেখেন এবং একটি ক্যাপসুল ব্যবহারের লেখেন। ওই ক্যাসুলটির নাম গাইনোমিক্স। মূলত এটি ভ্যাজাইনাল বা যোনি পথে প্রদেয় সাপোজিটর। রোগী হেমায়েতকে ডাক্তার মাসুদ আহমদ প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন, ‘ গাইনোমিক্স প্রতিদিন রাতে মাসিকের রাস্তায় ১টা দিবেন। ৬ দিন।’ ওষুধ নির্দেশিকায় দেখা গেছে, ভ্যাজাইনাল বা স্ত্রীর গোপনাঙ্গে বহুবিধ মিশ্রিত সংক্রমণে, ভ্যাজাইনাল লিওকোরিয়া, ভ্যাজাইনাল ট্রাইকোমোনিয়াসিস রোগের জন্য গাইনোমিক্স নির্দেশিত।

এদিকে বৃদ্ধ রোগী হেমায়েত ওষুধগুলো ফার্মেসী থেকে সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে গিয়ে দেখেন গাইনোমিক্স ব্যবহার করার তার কোন উপায় নেই। কারন তার কোন মাসিকের রাস্তা নেই। শেষে আবার ডাক্তার মাসুদ আহমদের স্মরণাপন্ন হলে লজ্জিত মাসুদ গাইনোমিক্স ব্যবহার করতে না বলেন। তবে এ বিষয়ে ডা: মাসুদ আহমদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবী করেছে, এটা ওই ডাক্তারের ব্যস্ততার কারনে হতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায়শই এ ধরনের ভুল হয়ে থাকে ডাক্তারদের। ভুলের বিষয় কখনো ওই হাসপাতালের ফার্মাসিস্টদের কাছে ধরা পড়লে তারা পুনরায় রোগীকে ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে থাকেন। আর যদি কোথাও ভুল ধরা না পরে তখন রোগী সেই ভুল প্রেসক্রিপশনের ওষুধই সেবন করে রোগ নিরাময়ের বদৌলতে অন্য কোন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যদিও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের হাতুড়ে চিকিৎসায় কোন রোগী আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে তা স্বীকার করে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

সূত্রের দাবী, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগী ধরা দালালের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করে থাকেন। এর প্রেক্ষিতে কোন রোগীকেই ফেরত দেন না। পুরুষদের যৌন সমস্যার চিকিৎসা এখানে যেমন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞরা করে থাকেন তেমনি মেডিসিন বিভাগের ডাক্তাররা সার্জারির জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকেন। এ বিষয়ে ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালের প্রশাসনিক ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। তেমনি সুপারিনটেন্ড ডা: ইকবারলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি ওই ডাক্তারকে ডেকে সর্তক করে দিবেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম জামান বলেন, পুরুষ রোগীকে স্ত্রী রোগ নিরাময়ের যে প্রেসক্রিপশন প্রদান করেছেন তার কপি হাতে পেলে অভিযুক্ত ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।