বেনাপোল-খুলনা কমিউটার ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত যাত্রীদের অভিযোগ

0
147

হাসানতামিম,বেনাপোল প্রতিনিধি।।

বেনাপোল- খুলনা রুটে ডাবোল শিফটে নিয়মীত ভাবে চলাচল রত কমিউটার ট্রেনটির দুটি বগি আজ ১৫ ই অক্টোবর রবিবার সকালে আকস্মিক ভাবেই লাইনচ্যুত হয়ে রুটটিতে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি সকালে খুলনা হতে বেনাপোল এসে যাত্রী নিয়ে পুনরায় সকাল ৯ টার পর বেনাপোল হতে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

নাভারন রেলওয়ে স্টেশনে কমিউটার ট্রেনটি পৌছানোর পূর্বেই শার্শা এলাকার শ্যামলাগাছী নামক স্থানে হঠাই করেই পিছনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।অল্পের জন্য বগি দুটি পাল্টি খাওয়ার হাত হতে রহ্মা পেয়েছে বলে প্রত্যহ্মদর্শীরা জানান।যাত্রীবাহী ট্রেনটিতে অবস্থানরত কোন যাত্রীই দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হইনী বলে আরো জানা গেছে।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের বেনাপোল স্টেশনটির স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান,বেনাপোল হতে ৯টায় ট্রেনটি ছাড়ার পর নাভারন স্টেশনের নিকটবর্তী অল্প দুরুত্বেই শেষের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে,পরে ঐ বগি দুটো খুলে রেখে ট্রেনটি অন্য বগি গুলো নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

বেলা ১১ টার দিকে খুলনা হতে রিলিফ ট্রেন নাভারনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসেছে এবং তা ১ টার মধ্য দূর্ঘটনা এলাকায় পৌছানোর কথা রয়েছে।ঘটনা স্থলে রিলিফ ট্রেন পৌছানোর পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেন বেনাপোল স্টেশনের দ্বায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার।দূর্ঘটনা কবলিত কমিউটার ট্রেনটি থেকে সুস্থ শরীরে বেচে ফেরা একাধিক যাত্রীর সাথে আলাপকালে অসংখ্য অভিযোগ মিলেছে ট্রেনটির চালক,টিটি,রেলওয়ে পুলিশ সর্বোপরি বেনাপোলের স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ বৎসর ধরেই অনিয়ম,অব্যাবস্থপনায় জর্জরিত খুলনা-বেনাপোল কমিউটার ট্রেনটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মচারী জানান,খুলনা-যশোর ভায়া বেনাপোল রেল কর্মকর্তা,পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় হ্মমতাসীন দলের ক্যাডার সহ নেতাদের যোগ সাজে গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

এই সিন্ডিগেটের সদস্যরা রেল সংস্কারের জন্য বরাদ্দের টাকা টাকা মেরে খাওয়া,উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে পুকুরচুরি,রেলওয়ের জায়গা লিজ দিয়ে অর্থআতœসাত করা সহ কমিউটার ট্রেনটিতে বিভিন্ন রকমের স্ম্যাগলিং পন্য রুটিন মাফিক বহন করে অল্প সময়ে কোটিপতি হচ্ছেন।স্ম্যাগলারদের পন্য বহনের সময় সাধারন যাত্রীদের সাথে বাক বিতন্ডা নিত্যদিনের ঘটনা,প্রতিবাদে রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও টিটি কর্তৃক সাধারন যাত্রী লাঞ্চিতের ঘটনা ও ঘটেছে এবং তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

ট্রেনটিতে ভ্রমন রত খুলনার সুভাস দত্ত(৫২),যশোরের রোকেয়া(২৬) ,নারগীস(১৮), কলেজ ছাত্র লিমন(১৮),ব্যবসায়ী মিহির(৩২) বসুন্দিয়ার আবু বক্কর(৪২),এম এম কলেজের অর্নাস পডুয়া ছাত্রী বিথী আক্তার(২২) কমিউটার ট্রেনে একাধিকবার ভ্রমন করার অভিঙ্গতা থেকে আমার একুশকে জানান,বেনাপোল স্টেশন হতে ট্রেন ছাড়ার পর ২কিঃমিঃ দুরুত্বে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে অবৈধ্য পন্য তোলার ঘটনা অত্যান্ত লজ্জাজনক,প্রকাশ্যে স্ম্যগলারদের কাছ হতে রেলওয়ে পুলিশের টাকা উঠানোর মত ঘৃনীতকর্ম দৃষ্টিকটু,ট্রেনে বসার স্থান ও টয়লেট ময়লা ভর্তি ও দূর্গন্ধযুক্ত ,ফ্যান গুলো বিকল।

এ গুলো দীর্ঘ বৎসর যাবৎ দেখে আসছী, কোন পরিবর্তন হয়নী ভ্রমন করার সময় মনের কাছে নিজেকে ছোট লাগলেও নিরুপায় হয়ে খরচ বাচাতে রেল ভ্রমন করতে হয়।অনেকে বহুবার বেনাপোল স্টেশন মাস্টারকে বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করেছে কোন কাজ হয়নি।দুই দেশের সরকারী সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই খুলনা-বেনাপোল রুট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাত্রীবাহী মৈত্রী রেল চলচলের শুভ উদ্ভোদন সহ পরীহ্মন মূলক চলাচল সম্পন্ন হয়েছে,অচিরেই এই রুটে নিয়মীত রেল চলবে।তাই স্বাভাবিক ভাবেই দেশের রেল যোগাযোগের হ্মেত্রে এই রুটটির গুরুত্ব অসীম কাজেই দেশের সুনাম অহ্মুন্ন রাখতে এই রুটের সংস্কার সহ সু ব্যবস্থপনা অত্যান্ত আত্যবশ্যকীয়।