ব্যবসায়ীরা রাজনীতির আগুনে পুড়ছেন

0
113

সময়ের বার্তা ।। আজ ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে মুখোমুখি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপি-জামায়তসহ ২০ দল  পালন করবে গণতন্ত্রের হত্যা দিবস অন্যদিকে আওয়ামীলীগসহ ১৪ দল পালন করবে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ এরিমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয়শহর গুলোতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাস্তায় কমেছে মানুষের সংখ্যা। চারিদিকে আতঙ্ক, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

৫ জানুয়ারি কে মাঠে থাকবে, কে থাকবে না। রাজপথে দুই দল মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি কী হবে? এসব নিয়ে বিস্তর জল্পনা-কল্পনা এখন সাধারণ মানুষের মনে।

সরকারী দলের ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’আর বিএনপির‘গণতন্ত্রের কালো দিবস’পালন নিয়ে চলছে খুনসুটি। কে মাঠে থাকবে, কে থাকবে না। চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেঝে গাড়ি পোড়ানোর খবর।

দেশের রাজনীতির সার্বিক এ পরিস্থিতিতে নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে ঢাকার অনেক স্থানেই নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা। রাস্তায় কমে গেছে গাড়ি। আশঙ্কায় মানুষ বের হতে পারছে না ঘর থেকে। পুলিশ অধিকতর নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধ করে দিয়েছে দোকানপাট-ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এ অস্থিরতায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরজা বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন ব্যবসায়ীরা। চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও রয়েছে হরতালের আশঙ্কা। সব মিলিয়ে ভালোভাবেই দগ্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের (এফবিসিসিআই)  নেতারা সময়ের বার্তাকে জানান  রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, হানাহানি এসব আমরা  চাই না। এসব থাকলে মিল-কারখানা, অফিস-আদালত সবই বন্ধ থাকবে। সবাই থাকবে ঘরে বসে। কোনো কাজকর্ম চলবে না। এতে করে সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাধারণ ব্যবসায়ীরা। আর আমরা ব্যবসা না করলে কোনো রাজনীতিবিদ এসে আমাদের খাবার দিয়ে যাবে না। আমাদের রুজি-রুটির জোগাড় আমাদেরই করতে হবে।’

এজন্য রাজনৈতিক কর্মসূচী যাতে ব্যবসায়ীদের গায়ে আঁচড় না দেয় সে আহ্বান জানান তারা।
রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে নেতারা আরো  বলেন, ‘আপনারা এমন কিছু করেন, যেখানে দোকান, অফিস-আদালত, কল-কারখানা বন্ধ না করতে হয়। ব্যবসায়ীরা যাতে আপনাদের ক্ষোভের আগুনে না পোড়ে এমন পদ্ধতি বের করুন।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতেই ফের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আলমতে বেশ হতাশ তারা। ২০১৩ ও ২০১৪  সালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় যে ক্ষতি হয়েছিল তা-ই এখনো কাটিয়ে উঠতে এখনো  পারেননি অনেকে।

ওই সময়ের ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচীর কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল তা সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। ঠিক যে মুহূর্তে সব সূচকে ইতিবাচক দিক পরীলক্ষিত হচ্ছে সেই মুহূর্তে আবারো হরতালের মতো কর্মসূচী অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে ভীষণভাবে ব্যাহত করবে।

ব্যবসাই নেতারা বলছেন একদিনের হরতালে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে কর্মসূচি দিয়েছে দুই দলই। দুই দলই বলছে বিপক্ষকে প্রতিহত করবে তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক দলের হরতালে ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতি হলে দুই দলের সম্মিলিত আক্রমনাত্মক কার্যক্রমে (প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-প্রতিরোধ) কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি গুণতে হবে সেটাই চিন্তার মূল বিষয়।