ভূমি সহকারী কমিশনার আমিনুলের দুর্নীতি ফাঁস!

0
352

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করে বরিশাল সদর ভূমি অফিসে চলছে নামজারীর নামে অর্থ আদায়ের হিড়িক। কর্তবাবুদের চাহিদামাফিক অর্থ না দিতে পেরে মাসের মাস ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে জমির নামজারী বা রের্কড করতে আসা সাধারণ জনগণের।

যদিও বরিশাল ভূমি অফিসের এটা নিত্যদিনের চরিত্র। ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশ ও সরকারের উচ্চপর্যয়ের দুর্নীতি দমন কমিশন এর কর্মকর্তারা হানা দিয়েও তেমন কোন লাভবান হচ্ছে না সাধারণ জনগণের। কথায় আছে, শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা! আর এমনটাই অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আমীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নামজারীর নামে অর্থ আদায়ের পাশাপাশী এই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ পাওয়া যায়।

বরিশাল সদর আওতাধীন নদীগুলোর নিষিদ্ধ বালু মহল থেকে বালু উত্তোলনের বিনিময় প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর এই অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে ইতোপূর্বে নগরীর আলেকান্দা কালুশাহ সড়ক এলাকায় নিজের নামে ও নিজের স্ত্রীর নামে ক্রয় করেছেন প্রায় ৭০ লাখ টাকার সম্পত্তি। যাহা বিএম তসিল অফিসের ১১৩ নং বলিউম বইয়ের ২১৩০৮/১৮-১৯ খতিয়ানে তার স্ত্রী মুনমুন চৌধুরী ও তার নিজের নামে প্রায় ৪ শতাংশ জমির নামজারী করে নেন। উক্ত সম্পত্তির বর্তমান বাজার দর প্রায় ৭০ লাখের বেশী বলে দাবী স্থানীয়দের। স্থায়ী ঠিকানার স্থানে ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর লেখা আছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আমিনুল ইসলাম নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারী নির্দেশ জমির রের্কড বা নামজারীর আবেদনপত্র সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে নিস্পত্তি করতে হবে। এমন নির্দেশ থাকার পরেও আইনকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামাফিক কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি তার চাহিদা মাফিক অর্থ দিতে না পারায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের সাথে করা হচ্ছে খারাপ ব্যবহার। গত সপ্তাহে সাগরদী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এনামুল হক রাজাকে অকথ্য ভাষায় গালা-গালও করা হয়েছে।

ভূমি কর্মকর্তা এনামুল হক রাজা অর্থের বিষয়টি গোপন রেখে বলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম অফিসে ডেকে নিয়ে তার সাথে খারাপ আচরণ করেন। এসময় অফিস সহকারী আরিফুর রহমানও তার সাথে খারাপ আচরণ করেন। তবে কি কারণে খারাপ আচরণ করেছেন সে বিষয় মন্তব্য করতে নারাজ রাজা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, যিনি কর্তাবাবু আমিনুল ইসলামের চাহিদা মাফিক অর্থ দিতে ব্যার্থ হন, তাকেই শুনতে হচ্ছে গালা-গাল। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাবা-মাকে নিয়েও খারাপ কথা বলা হচ্ছে বলে তাদের দাবী। আর নিু পদে চাকুরী করায় অফিস প্রধান আমিনুলের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায় নালিশও করতে পারছেন না কেউ। সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করে নিতে হচ্ছে সবার।

অফিস সহকারী আরিফুর রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন। আরিফুর রহমান আরো জানান, ৪’শ থেকে ৯’শ আবেদনপত্র নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছেন। অপর এক কর্মকর্তা দাবী করেন, বর্তমানে বরিশাল সদর ভূমি অফিস সহকারী কমিশনার আমিনুলের দপ্তরে ৪’শ থেকে ১১’শ আবেদনপত্র র্দীঘ ৬ মাস পর্যন্ত অবহেলায় পরে আছেন। জমির নামজারী বা রেকড করতে আসা প্রার্থীরা ভূমি অফিসের দপ্তরে ঘুর-ঘুর করছেন। ভুক্তভোগীরা আজও জানেন না কবে তাদের আবেদনপত্র নিষ্পত্তি হবে। নামজারী করতে নগরীর আমানতগঞ্জ থেকে আসা কবির হোসেন জানান, তার আত্মীয়র ক্রয়কৃত সম্পত্তি নামজারী করার জন্য গত ৫ মাস পর্যন্ত ঘুরা-ঘুরি করছেন।

ভূমি অফিসের একজন দালালের মাধ্যমে পেশকার আরিফের সাথে দেখা করে ২০ হাজার টাকা চুক্তি করে গত সপ্তাহে নামজারী করিয়ে নেন। কবির হোসেন আরো জানান, পেশাকার আরিফ দাবী করেন উক্ত টাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলামকে দিতে হবে। টাকা না দিলে কাজও হবে না। পরবর্তীতে করির টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবী তার। কবিরের মত আরেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি জানান, পেশকার আরিফুর রহমানের মাধ্যমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমীনুল ইসলামকে চলতি মাসের প্রথম দিকে ৩৬ হাজার টাকা প্রদান করে তার নিজের সম্পত্তির রেকর্ড করিয়ে নেন।

কবিরের মত একাধিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ভূমি অফিসে টাকা না দিলে এভাবেই মাসের পর মাস ঘুরতে হবে। টাকা দিলেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। অফিস সহকারী আরিফুর রহমানের নিয়োজিত দালাল বাদশা, আরমান, ফিরোজ, খোকন সহ একাধিক এই দালাল চক্রের মাধ্যমে আরিফুর রহমান নামজারী ও নিষিদ্ধ বালু মহল থেকে বালু উত্তোলনের ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম জমি ক্রয় করার বিষয়টি অস্বীকার করার পাশাপাশী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন।