ভোলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিলের বাণিজ্য ফাসঁ!

0
115

এম. লোকমান হোসাঈন ॥ শিক্ষক বদলী, কোচিং বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা সেক্টরের প্রায় প্রতিটি স্থানেই অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া। যার হাত থেকে বাদ পরেনি কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও। অর্থের লোভে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা শিক্ষা অফিসার চালাচ্ছে নিজ দাপ্তারিক কার্যক্রম। এমনইটা অভিযোগ ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার এর বিরুদ্ধে।
মডেল টেস্ট এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিক্ষার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এমন বাণিজ্য করছে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার, সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.বি. এম খলিলুর রহমান ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান।
অনুসন্ধানে দেখা ২০১৬ সালের ০৫ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর সিনিয়র সহকারী সচিব নাজিয়া ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে বাংলাদেশের সকল উপজেলা ও থানা ভিত্তিক পরীক্ষা পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটি গঠন এর একটি পরিপত্রে উল্লেখ করেন, উপজেলা ভিত্তিক ৫ম শ্রেণির মডেল টেস্ট এর ২ টি পরীক্ষা উপজেলা শিক্ষা অফিস নেবে।
উক্ত পরিপত্রে জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ পরীক্ষা নেয়ার বিধান নেই। অথচ, ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার সহ জেলা অফিসের কর্মকর্তারা ক্ষমতা অপব্যবহার করে গতবছর এবং চলতি বছর পর্যন্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষার নামে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অভিবাবকদের অভিযোগ উপজেলা শিক্ষা অফিসার চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখ প্রথম মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেন। এর কিছুদিন পর অথাৎ অক্টবর মাসের ১৫ তারিখ মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
এক মাসের মধ্যে ২টি মডেল টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরে। উল্লেখ্য, ভোলা জেলার ভোলা সদর সহ মোট ৭ টি উপজেলার অথাৎ ভোলা সদর ৭ হাজার ৫ শ ৭৬, দৌলতখান উপজেলায় ৩ হাজার ৩ শ ২৪জ ন, বোরহানউদ্দিন ৪ হাজার ২ শত ৪ জন, লালমোহন ৫ হাজার ৮ শত ৯৮ জন, চরফ্যাশন ৯ হাজার ৫ শত ১০ জন, তজুমদ্দিন ২৩ শ ৮৬ জন ও মনপুরা ১২শ ৯৮ জন। মোট শিক্ষার্থী ৩৪ হাজার ১শ ৯৬ জন পরীক্ষার্থী চলতি বছর অংশগ্রহণ করেন।

প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪০ টাকা করে আদায় করেন। শিক্ষা অফিসার নিখিলের ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধান করলে বেড়িয়ে আসবে সত্যতা। যাহা, ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর হিসাব নম্বার ০৪০১২০০০৫০০২৫ সোনালী ব্যাংক ভোলা শাখা।

মোট টাকা ১৩লাখ ৬৭ হাজার ৮শ ৪০ টাকা। যা প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য খরচ করা হয় ২৪ টাকা। বাকী ১৬ টাকা অথাৎ ৩৪ হাজার ১শ ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ১৩৬ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার বলেন, সরকারী নিয়ম নেই তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সাথে আলোচনা করে পরীক্ষা নিয়েছেন তিনি। এছাড়া অতিরিক্ত খরচ দেখানো বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাতা ও প্রশ্ন সহ বিভিন্ন কাজে যারা কাজ করছে তাদের সম্মানি ভাতা দিতে হবে তাই খরচ করা হচ্ছে।