মহাসাগরে ভাসছে যে ভাসমান মসজিদ!

0
23

ইসলাম ডেস্ক।।

মহাসাগর শব্দটি শুনলেই আমাদের বুকের ভেতরটা কেমন যেনো হাহাকার করে ওঠে। কল্পনার ক্যানভাসে ভেসে ওঠে শুধু সফেদ ফেনা আর নীল পানি, থেকে থেকেই যেখানে বিশাল আকারের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে। কিন্তু কাউকে যদি বলা হয় মহাসাগরের বুকেই ভাসমান রয়েছে একটি মসজিদ, তাহলে প্রথমবার যে কেউ তা অবিশ্বাস করতে বাধ্য। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে গ্র্যান্ড মস্ক হাসান-২ নামের মসজিদটির এক তৃতীয়াংশ মহাসাগরে অবস্থিত!

গ্র্যান্ড মস্ক হাসান-২ মসজিদটি যে শুধুমাত্র আটলান্টিক মহাসাগরের বুক চিরে অবস্থান করেই একটি বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে, তা কিন্তু নয়। এটি মরক্কোসহ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদের মর্যাদাও লাভ করেছে। মসজিদটি তৈরি করেন মরক্কোর বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান এবং নির্মাণ করেন ফরাসি কোম্পানি বয়গিস। আর এর নকশা করেন ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ।

২২ দশমিক ২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এই মসজিদটিতে একসাথে লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদটিতে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়া মসজিদটির আরেকটি নজরকাড়া বিশেষত্ব হল এর ছাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিন মিনিট পরপর খুলে যায়।

বৃষ্টির সময় ছাড়া মসজিদটির ছাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিন মিনিট পরপর খুলে যায়, যাতে করে মসজিদের ভেতরে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে।

গ্র্যান্ড মস্ক হাসান-২ মসজিদটির উচ্চতা ৬৫ মিটার। মেহরাবের উচ্চতা দুইতলা ভবনের সমান এবং মিনারের উচ্চতা ২১০ মিটার বা ৬৮৯ ফুট। সুবিশাল এই মিনারের ওপরে রয়েছে লেজার রশ্মি, যা নাবিকদের পবিত্র কাবা শরীফের পথ দেখিয়ে থাকে। মসজিদটির মিনার এতোটাই উঁচু যে ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায় এই লেজার রশ্মি।

মসজিদটির মূল ভবনের সাথেই রয়েছে ওযুখানা, লাইব্রেরি ও কুরআন শিক্ষালয়। শুধু তাই নয়, মসজিদটিতে রয়েছে একটি কনফারেন্স রুমও। আড়াই হাজার পিলার মসজিদটিকে ধারণ করে আছে। এর ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। মসজিদের ভেতরের পাশাপাশি বাইরেও দেখা যায় নান্দনিকতার ছোঁয়া।

মসজিদ এলাকার পুরো জায়গাজুড়ে অবস্থান করছে ১২৪টি ঝরণা ও ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি। কোন কোন স্থানের সৌন্দর্য বাড়াতে করা হয়েছে স্বর্ণপাতের ব্যবহার। মসজিদটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এটি ১০ মিটার উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউ ভেঙে দেবার ক্ষমতা রাখে। এমনকি মসজিদের ভেতর থেকে সমুদ্রের কোন গর্জনও শোনা যায় না।

দূরের কোন জাহাজ থেকে মসজিদটি দেখলে মনে হয় তা যেনো সমুদ্রের উপর ভাসছে আর মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন সমুদ্রের পানির উপর।