মাদারীপুরে ৩৯৯টি মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

0
13

মাদারীপুর থেকে অজয় কুন্ডু।।

মাদারীপুরে ৪টি উপজেলার ৩৯৯টি মন্ডপে প্রতি বছরের মতো এবার আয়োজন করা হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ মহা উৎসবকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের মধ্যে চলছে শারদীয় দূর্গাপুজার ব্যাপক প্রস্তুতি।

উপজেলার প্রতিটি পুজা মন্ডপে ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে মন্ডপ সাজসজ্জার কাজ। শারদীয় এ পুজাকে কেন্দ্র করে ধর্মাবলম্বী সকল পুজারী ও ভক্তবৃন্দের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দ উৎসাহ আর উদ্দীপনা ।

অনেক নামধারী মন্ডপে পূজার প্রধান আর্কষন দূর্গা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এ যেন তাদের এক লড়াই। সমান তালে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছে মৃৎশিল্পীরা। বর্তমানে তারা এক দন্ড দম ফেলারো সময় পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে উপজেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে ৫শত কেজি চাল।

আসছে আগামী ৭ অক্টোবর শুক্রবার থেকে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫ দিনব্যাপী সর্ববৃহৎ এ মহোৎসব। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাদা, মাটি, খড়, কাঠ, বাঁশ, সুতলি দিয়ে দূর্গা প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ করেছেন প্রতিমা শিল্পীরা। মাটির কাজ শেষ করে অনেকেই শুরু করেছেন রং তুলির শেষ আঁচড়। প্রতিমাগুলো মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন শিল্পীরা। তাদের আশা দু‘চার দিনের মধ্যেই প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ হবে। বরাবরের মতো এ বছর ও শান্তিপূর্নভাবে পূজা উদযাপনের আশা পূজা উদযাপন কমিটির।

এদিকে শান্তিপূর্ন পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। জেলার পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেন জানান, আমরা দূর্গাপূজা ও দর্শনার্থীদের নিরপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্ততি গ্রহন করেছি। কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোষাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদয় তৎপর রয়েছে। প্রতি বাছরের মত এবারও আমাদের পুলিশ ফোর্স ও কয়েক শত আনসার, ডিবি পুলিশসহ র‌্যাব থাকবে প্রতিটি পূজা মন্ডপে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অনিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজা সুন্দর ও সুষ্টভাবে সম্পাদনের জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগীতা একান্ত কামনা করছি। আমাদের জেলায় প্রতি বাছরি পূজা মন্ডপ বাড়ছে। সরকারে কাছে দাবি আমাদের পূজার অনুদান যেন আরও কিছুটা বাড়ানো হয়। তার কারণ আগে এই দূর্গা পূজার জন্য প্রায় ২ মাস আগে থেকেই প্রস্ততি গ্রহনসহ কারিগরদের সময় দিতে হতো। কিন্তু এখন মাত্র ১০-১৫ দিন কাজ করেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে ফেলছে মৃৎশিল্পিরা। অনুদান কম হওয়ায় তাদের সঠিক মজুরিও পুষিয়ে দিতে পারছে না কতৃপক্ষ।