মেঘনা ব্যাংকের ম্যানেজার শফিকুলের ফাদেঁ খায়রুল

0
51

মোঃ ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ ॥ মেঘনা ব্যাংকের ম্যানেজার শফিকুলের ফাঁদে প্রকৃত জমির মালিক। বরিশাল নগরীর ২২ নং ওয়ার্ড জিয়া সড়কের মৃধা বাড়ীর বর্তমান বাসিন্দা মোঃ খায়রুল ইসলামের সম্পত্তি অবৈধভাবে মর্টগেজ রেখে এএম সায়েম নামের ১ ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায় বরিশাল সদর জে.এল ৫০ নং বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ১৫২১১ নং সৃজিত এস.এ. খতিয়ান থেকে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ জমি এএম সায়েম ২০১৪ সালের আগষ্ট মাসের ১০ তারিখ তার আপন ভাই মোঃ জিয়াউর রহমানের কাছে বরিশাল সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন। যার রেজিষ্ট্রিকৃত সাফ কবালা দলিল নং-৮৩৫২। জিয়াউর রহমান উক্ত সম্পত্তি ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে ২০১৬-২০১৭ সনের ৪৬৫৫ (২) কেটি নং নামজারী ও জমাখারিজ আদেশ মোতাবেক ১৯৫৫৩ নং খতিয়ান খুলিয়া রেকর্ড মূলে ও বি.এস.ডি.পি.৪২০১ নং খতিয়ানের ভূমিতে রেকর্ড মূলে মালিক হয়।

পরবর্তীত ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ৩ তারিখ ঝালকাঠী জেলার কাঠালিয়া উপজেলার তালগাছিয়া এলাকার বাসীন্দা মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে মোঃ খায়রুল ইসলামের নিকট মোট ৪.৩৭ (চার দশমিক তিন সাত) শতাংশ জমি বিক্রি করেদেন জিয়াউর রহমান ও মোঃ ইলিয়াস সিকদার। পরবত্বীতে খায়রুল ইসলাম একই অর্থ বছরের নভেম্বর মাসের ১ তারিখ বরিশাল সদর সহকারী ভূমি অফিসের মাধ্যমে ২০১৭-২০১৮ সনের ৩০০১ (২) নং নামজারী ও জমাখারিজ মোকাদ্দমার আদেশ বলে নতুন খতিয়ান খুলে নিয়মিত সরকারী খাজনা প্রদান করে আসছেন। চলতি মাসের প্রথম দিকে খায়রুল ইসলাম তার ঘর সংস্কারকালীন সময় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ সহ মেঘনা ব্যাংক বরিশাল শাখার ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম ও ঋণ অফিসার জহিরুল কাজ বন্ধ করে দেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী উক্ত সম্পত্তি মেঘনা ব্যাংকের নিকট মর্টগেজ রাখা। আপতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তারা। খায়রুল ইসলামকে জানান, উক্ত সম্পত্তি এএম সায়েম ২০১৭ সালে মেঘনা ব্যাংকের নিকট মর্টগেজ রেখে ৫লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করছেন। এই ৫লাখ টাকা খায়রুল পরিশোধ করলে তাহলেই উক্ত সম্পত্তিতে খায়রুলকে থাকতে দিবেন। অন্যতয় ব্যাংক ম্যানেজার শফিকুল তার বিরুদ্ধে আইননুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে হুমকি দেন। খায়রুল ইসলামের দাবী এএম সায়েম ২০১৪ সালে তার ভাইয়ের নিকট বিক্রয়কৃত সম্পত্তি ২০১৭ সালে অথাৎ প্রায় ৪ বছর পর তিনি ক্রয় করেন।

সম্পত্তি ক্রয় করার সময় সায়েমের ভাই জিয়ার রহমানের নামে কাগজপত্র সঠিক আছে এই মর্মে বরিশাল ভুমি অফিস এবং সাব রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে প্রত্যায়ন পত্রও নেন। হঠাৎ করে মেঘনা ব্যাংক ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম তার বসত বাড়ীতে গিয়ে বাড়ীর সংস্কার কাজে বাদা প্রদান এবং ৫ লাখ টাকা দাবী করেন।

এবিষয় মেঘনা ব্যাংক বরিশাল শাখার ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, এএম সায়েমের সাথে তার একটি সু-সম্পর্ক থাকার সুবাধে সায়েম তার সরলতাকে ব্যবহার করে ৪ বছর পূর্বের বিক্রয়কৃত সম্পত্তি তাদের নিকট মর্টগেজ রেখে ৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। ঋণ প্রদান করা হয়েছে এএম সায়েম কিন্তু সম্পত্তির বর্তমানে প্রকৃত মালিক খায়রুল ইসলামকে ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যাংক ম্যানেজার শফিকুলের পালিত ক্যাডার সহ থানা পুলিশ দিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠে।