মেলেনি খালেদার রায়ের অনুলিপি

0
130

সময়ের বার্তা ।।

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে দেয়া রায়ের অনুলিপি এক সপ্তাহেও পেলেন না আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার বিকালে রায়ের অনুলিপি নেয়ার জন্য আদালতে অপেক্ষা করেও তারা ওই রায়ের অনুলিপি পাননি। ফলে এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা যাচ্ছে না।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় রায় ঘোষণা হয়। রবিবারই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন আবেদন করার কথা জানিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবীরা। কিন্তু রায়ের অনুলিপি প্রস্তুত না হওয়ায় এই আবেদন করা যাচ্ছে না। ফলে খালেদা জিয়ার কারাবার দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

গত বুধবার বিকালেই রায়ের কপি পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী ছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সেদিন না পেলেও আজ বৃহস্পতিবার কপি পাওয়ার বিষয়ে অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন তারা। আর এ জন্য আদালতে অবস্থানও করেন তারা।

তবে বৃহস্পতিবার অফিস সময় শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূইয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রায়ের কপি দেয়া হয়নি।’

অনুলিপি পাওয়ার বিষয়ে আদালত কিছু জানিয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে এই আইজীবী বলেন, ‘শুধু সকাল-বিকাল করা হচ্ছে। কবে পাব সেটা জানি না।’

কত দিনের মধ্যে রায়ের কপি দিতে হয়, এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন আছে কি না জানতে চাইলে জাকির বলেন, ‘আইনে আছে অনতিবিলম্বে রায়ের কপি দিতে হবে। তবে কত দিনে দিতে হবে সে বিষয়ে কিছু নেই।’

দুর্নীতির মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড পাওয়া কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির আপিল করে জামিনে মুক্তি পেতে সময় লেগেছিল ১৮ দিন। বদির তিন বছরের জন্য দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান গত ২ নভেম্বর। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন আবেদন করতে করতে লেগে যায় ১৩ দিন।

১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে এই আবেদন করার পর বদির জামিনে মুক্ত হতে লেগে যায় আরও পাঁচ দিন। ২০ নভেম্বর জামিনে কারাগার থেকে বের হন তিনি।

রায়ের কপি না পাওয়ায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল ও জামিন আবেদন পিছিয়ে গেলেও বিএনপিকে স্বস্তি দিয়েছে বুধবার ঢাকার একটি আদালতের রায়। ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল একটি আদালতের। ১৪ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে এই মামলায় গ্রেপ্তারের আবেদন জানালে বিচারক তা ফিরিয়ে দেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রল বোমা হামলা মামলাতেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। সে পরোয়ানা স্থানীয় পুলিশ ঢাকায় পাঠায়। আর প্রভাবশালী দৈনিক প্রথম আলো খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বরাত দিয়ে জানায়, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তবে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, এই খবরটি ভুয়া। খালেদা জিয়াকে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নড়াইলে করা আরও একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেয়ায় ওই মামলাটি করা হয়েছিল ২০১৬ সালে।

এর মধ্যে ভুয়া জন্মদিনের মামলায় আদালত গ্রেপ্তারের আদেশ ফিরিয়ে দেয়ায়, বাকি দুই মামলাতেও খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে না বলে আশা করছে বিএনপি। ফলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আপিল ও জামিন আবেদন করলে তাকে কারাগার থেকে বের করে আনা যাবে বলে আশা করছেন তার আইনজীবীরা।