মোবাইলে পরিচয়-পরিণয় অতঃপর খুন

0
125

সময়ের বার্তা ।।

মনির হোসেন পরিবারসহ ঢাকার শাহীনবাগের একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতো। সেখানেই তাঁর মেয়ে মনোয়ারা পারভীন (২৩) এর সাথে মোবাইলে পরিচয় হয় সিয়াম হোসেন (২৮) নামের এক যুবকের। সেই পরিচয় গিয়ে প্রেমের সম্পর্কে গিয়ে ঠেকে। তারপর পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তারা গোপনে বিয়ে করে। অত:পর শুক্রবার সকালে সেই স্বামীর হাতে নির্মম খুনের শিকার হন মনোয়ারা, এমন অভিযোগ মনোয়ারার পরিবারের। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের সাত মাসের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।

পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিমখ- গ্রামের বেগুনবাড়ি এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার (রেজু মিয়া) ভাড়া বাড়িতে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় স্বামী সিয়াম। দুপুরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে কি কারণে হত্যার ঘটনা ঘটলো তার কোন সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি পারভীনের স্বজনেরা।

নিহত মনোয়ারা শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিমখ- গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত সিয়াম হোসেনের (২৮) বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি মনোয়ারার স্বজনেরা।

নিহতের স্বজনেরা জানান, প্রায় দুই বছর পূর্বে তাদের পরিবার ঢাকায় বসবাস করার সময় মোবাইল ফোনে সিয়ামের সঙ্গে মনোয়ারা পারভীনের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে পরিবারটি ঢাকা থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিমখ- গ্রামে এসে আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার (রেজু মিয়া) দুটি কক্ষ ভাড়া নেয়। এরপরও সিয়াম মনোয়ারার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। গত ৭ মাস আগে সিয়াম মনোয়ারাকে নিয়ে গোপনে বিয়ে করে। বিয়ের বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাদের মেনে নেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই মনোয়ারা তাঁর স্বামীকে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় দুটি কারখানায় দুজন চাকুরি করতো।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কারখানা থেকে এসে স্বামী-স্ত্রী রাতের খাবারের পর একসঙ্গে ঘুমাতে যায়। পরে সকালে উঠে স্বজনরা কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে পারভীনের গলাকাটা দেহ দেখতে পায়। ঘটনার পর থেকেই স্বামী সিয়াম পলাতক রয়েছে।

নিহতের বড় ভাই রমজান আলী ঢাকাটাইমসকে জানান, দুজনের ভালবাসার কথা জেনেই আমরা পারিবারিকভাবে বিয়ে মেনে নিয়ে তাদের আমাদের বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। এরপরই কয়েকবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। আমরা তা পারিবারিকভাবে মিটিয়ে দিয়েছিলাম।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান ঢাকাটাইমসকে জানান, খবর পেয়ে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়ানতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সিয়াম পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।