মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে মহা অষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত

0
68

ষ্টাফ রিপোর্টার মৌলভীবাজার ।।

মৌলভীবাজরে শ্রীমঙ্গলে রবিবার দুপুর দেড়টায় রঘুনাথপুর আনন্দময়ী কালী বাড়িতে দেবীর মহা অষ্টমী তিথিতে দেবী দূর্গার অপরাজিতা রুপে পূজা করা হয় ১০ বছরের কুমারী মিতালী ভট্টাচার্য্যকে। কুমারী মাতা মিতালী ভট্টাচার্য্য শ্রীমঙ্গল উপজেলার তপসী পাড়ার সাধন ভট্টাচার্য্য ও কাকলী ভট্টাচার্য্যের মেয়ে।

আর এ পূজায় প্রধান পুরহিতের দ্বায়িত পালন করেন পুরহিত অসিত ভট্টাচার্য্য। তাকে সাহায্য করেন কমলা পদ চক্রবর্তী ও বাসুদেব গোম্বামী।

কুমারীরা শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারী কন্যাকে নির্বাচন করা হয়। সাধারণত অষ্টমী বা নবমীতে কুমারী পূজা করা হয়। হিন্দু শাস্ত্রে ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্প বালাকে কুমারী বলা হয়।

বয়স অনুযায়ী ১বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা ২ বছর বয়সী কন্যাকে স্বরসতী, ৩ বছর বয়সী কন্যাকে কালিকা, ৫ বছর বয়সী কন্যাকে সুভগা, ৬ বছর বয়সী কন্যাকে উমা, ৭ বছর বয়সী কন্যাকে মালিনী, ৮ বছর বয়সী কন্যাকে কুব্জিকা, ৯ বছর বয়সী কন্যাকে অপরাজিতা, ১০ বছর বয়সী কন্যাকে কালসন্ধর্ভা, ১১ বছর বয়সী কন্যাকে রুদ্রাণী, ১২ বছর বয়সী কন্যাকে ভৈরবী, ১৩ বছর বয়সী কন্যাকে মহালক্ষ্মী ১৪ বছর বয়সী কন্যাকে পীঠনায়িকা, ১৫ বছর বয়সী কন্যাকে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছর বয়সী কন্যাকে অম্বিকা বলা হয়। হিন্দু শাস্ত্রে এসব নাম জগš§াতার স্বরূপের এক একটি গুণ প্রকাশ করে। প্রায় সর্বজাতীয় কুমারী কন্যাকেই কুমারীরূপে পূজা করা যেতে পারে। তবে কুমারী পূজার জন্য সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের কুমারী কন্যাকে মনোনীত করা হয়।

জগতের আসুরিক শক্তি দূর করে ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে মানুষে মানুষে সৃষ্টি হবে ভাতৃত্ব বোধ আর পৃথিবীতে আসবে শান্তি এই প্রত্যাশায় শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেবী দূর্গার মহা অষ্টমী ও কুমারী পূজা।

এ সময় সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় অংশনেন স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি ও রঘুনাথ পুর কালীবাড়ীর পূজা কমিটির সভাপতি মহালদার বকুল পাল।

শিক্ষানুরাগী অধ্যক্ষ নিখিল ভট্টাচার্য্যের পরিচালনায় কুমারী পূজায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন ধর্মালম্ভীর হাজার হাজার দর্শনার্থী অংশ নেন।

অধ্যক্ষ নিখিল ভট্টাচার্য্যে জানান, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবার মঙ্গলের জন্য এবং নারীর প্রতিমাতৃ রুপ জাগ্রত করার জন্য প্রতিবছর রঘুনাথপুরের এই কালী বাড়ীতে এ কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়।

কুমারী পূজাকে সামনে রেখে পুলিশের নজরদারীও ছিলো চোখে পড়ার মতো।