রাজনীতিবিদের সততা থাকলে দেশের উন্নতি হয়: প্রধানমন্ত্রী

0
134

সময়ের বার্তা ।।

প্রয়াত চারজন রাজনীতিবিদের জীবনের নানা দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সততাই রাজনীতিবিদের প্রধান হাতিয়ার। তারা সৎ থাকলে দেশের উন্নতি হয়। আর এই সততার জোরে তারা অর্থ বা পেশীশক্তিকে পরাজিত করে ভোটেও জয়ী হতে পারেন।

রবিবার দশম সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক, গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের উদাহরণ দিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদের অধিবেশন ডাকা হলে শুরুতেই চলমান বা সাবেক কোনো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী অথবা বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। এই প্রস্তাব তোলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ওপরোল্লেখিত চান নেতা ছাড়াও সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, সাবেক গণপরিষদ সদস্য ফজলুর রহমান ভূইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন সরকার, কাজী নুরুজ্জামান, গাজী আতাউর রহমান, ভাষা সংগ্রামী মুহম্মদ তকীয়ুল্লা, জয়নাল আবেদীন, দলিল উদ্দিন, আবদুল লতিফ, সঙ্গীত শিল্পী ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী, নৃত্যগুরু রাহিজা খানম ঝুনু, ওয়ালটন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়।

এছাড়া ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্পে, মিসরে মসজিদে বোমা হামলা, ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড়ে এবং দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরনে সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ছায়েদুল হক গত ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। আর সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা মারা যান গত ১৯ ডিসেম্বর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আর মহিউদ্দিন চৌধুরী গত ১৫ ডিসেম্বর এবং আনিসুল হক মারা যান গত ৩০ নভেম্বর।

প্রয়াত দুই সংসদ সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সততা নিষ্ঠা ও কাজের একাগ্রতার মাধ্যমে ওনারা মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন।’

‘একটা রাজনীতিবিদ যদি গণমানুষের পাশে থাকতে পারেন এবং মানুষের সমর্থন পান, তাহলে অর্থ বা শক্তি কিছুই কাজে লাগে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছায়েদুল হক সাহেবকে পেয়েছিলাম। তিনি একজন মন্ত্রী যিনি অত্যন্ত সততার সাথে নিষ্ঠার সাথে রাজনীতি করেছেন, যে কারণে তিনি পাঁচবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এমনকি ২০০১ সালের নির্বাচন আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, সেই সময়ে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অবস্থায়ও তার জনপ্রিয়তা তৃণমূল পর্যায়ে এমন ছিল যে সে সময়ে যারা তত্ববধায়ক সরকারে ছিল তারাও তাকে হারাতে পারেনি। কারণ তার সঙ্গে জনগণের সমর্থন ছিল।’

‘তিনি (ছায়েদুল) অত্যন্ত দক্ষতা সাথে সততার সাথে তার মন্ত্রণালয় চালিয়ে দেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন।’

‘বাংলাদেশ আজ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে সারা বিশ্বে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। আমরা যে সমুদ্র জয় করেছিলাম সেটার মৎস্য আহরণসহ সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগানোর জন্য তিনি নানা ধরনের গবেষণা করে কাজে লাগানোর কাজ শুরু করেছিলেন।’

সুন্দরগঞ্জের প্রয়াত সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা ওই আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হন গত মার্চে। এই বিষয়টি ‍উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির যে প্রার্থী দিয়েছিল তিনি শিক্ষাদীক্ষায় অর্থশালী-সম্পদশালী ছিলেন এবং ওই এলাকাকে বলা হতো জাতীয় পার্টির এলাকা। সেখানেও তিনি (গোলাম মোস্তফা) যে অর্জন দেখেয়েছেন, এটা অন্য রাজনীতিবিদদের জন্য শিক্ষনীয়। তৃণমূল মানুষের সঙ্গে তার যে সম্পর্ক ছিল সাধারণ মানুষের প্রতি তার যে দরদ ছিল, সেই সমর্থনেই কিন্তু তিনি জয়ী হয়ে আসেন।’

‘তিনি (গোলাম মোস্তফা) একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে একজন নেতা ছিলেন। তিনি ইউনিয়েই থাকতেন এবং স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। স্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সবসময় আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করতেন।’

এই দুই সংসদ সদস্যের পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সরকারি দলের আবদুল মতিন খসরু, মো. মোজাম্মেল হোসেন, এ বি তাজুল ইসলাম, কামাল আহমেদ মজুমদার ও ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

পরে মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সদস্য বজলুল হক হারুন।