রাজাপুরে যৌতুক লোভীর নির্যাতনে বাক প্রতিবন্ধী শিরিন! দেখুন ভিডিও সহ

0
188

কাওসার মাহমুদ মুন্না ॥ যৌতুক লোভী পরিবারের নির্যাতনের শিকার হয়ে এবার মানসিক প্রতিবন্ধী শিরিন। সমাজে এখনো কিছু যৌতুক লোভীদের খপ্পরে পরে কেউ জীবন হারাচ্ছে আবার কেউ পঙ্গুত হচ্ছে, কেউ কেউ প্রতিবন্ধীও হচ্ছে! ঝালকাঠি রাজাপুর উপজেলায় যৌতুকেরদায়ে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে বাকরুদ্ধ ও মানসিক ভারসম্যহিন করার অভিযোগ উঠেছে পাষন্ড স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতভর উপজেলার বড়াইয়া ইউনিয়নের মিরজাহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিরিন (১৯) ঐ গ্রামের যৌতুকলোভী হেমায়েতের ছেলে হাসান এর স্ত্রী ও আড়উয়া গ্রামের সেলিম মোল্লার মেয়ে তিনি। আহত শিরিনের বাবাÑ মা জানায়, ২০১৬ সালে শিরিনের এসএসসি পরিক্ষা চলাকালীন অবস্থায় জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে অসাধূ কাজীর মাধ্যমে বিয়ে করেন হাসান। বিয়ের পর পর শুরু হয়ে শিরিনের উপর অমানবিক নির্যাতন। অপ্রাপ্ত বয়স্ক সিরিনকে আটকেরেখে কাজী মাওঃ মুহাঃ মাসুদুর রহমানের মাধ্যমে বিবাহ পড়ায়। ঐ সময় মেয়ের পিতা সেলিম রাজাপুর থানায় অভিযোগ দিলে এসআই শাহা আলামকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পরবর্তিতে বিয়ে মেনে নিতে বাধ্য করে ছেলে পক্ষ। এর মধ্যে শিরিন অন্তসত্য হয়ে পরে। নিরুপয় হয়ে বিয়ে মেনে নিতে বাধ্য হয় সেলিম।https://www.youtube.com/watch?v=Fi80sDJvwps

এর পর থেকেই শুরু হয় শিরিনের উপর যৌতুকের জন্য অত্যাচার। এ ঘটনায় তিন তিনবার এলাকায় গ্রাম শালিশের মাধ্যমে মিমাংশ করে দেয়া হয়েছে। শালীশির মিমাংশ পরেও থেমে রয়নি হাসান ও তার পরিবারের নির্যাতন। প্রতিদিন শ্বশুর, শ্বাশুরি আর স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা যেনো বেড়েই চলেছে যৌতুকের জন্য। অবশেষে বাদ্ধ হয়ে মেয়ের কথা চিন্তা করে অসহয় পিতা-মাতা বেশ কিছু টাকাও দিয়েছেন স্বামীর পরিবারকে। টাকা নেয়ার পর পুনরায় শুরু হয়ে যৌতুকের নির্যাতন। এদিকে একই এলাকার একটি মেয়ের সাথে হাসানের পরকিয়া দরা পরে স্ত্রীর শিরিনে কাছে । বিষয়টি শিরিন জানতে চেয়ে স্বামীর জিজ্ঞাসা করার সাথে সাথে শুরু হয় আবারো নির্যাতন।

সর্ব শেষ গত শুক্রবার এনিয়ে তর্ক-বির্তক হলে এক পর্যায় রুমের দরজা আটকিয়ে খাটের সাথে শিরিনের মাথা আঘাত করেন ও গলার উপর পা দিয়ে পারিয়ে দরেন পাশাপাশী অমানবিক নির্যাতন করেন। এসময় শিরিন অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা শিরিনের পিতা-মাতাকে খবর দিলে শুক্রবার তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন তলায় মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করে। হাসপাতালের কর্তবরত চিকিৎসক জানায়, শিরিনের গলায় আঘাত করার ফলে কথা বন্ধ হয়ে গেছে এবং মাথায় আঘাতের ফলে সৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। বর্তমানে সিরিন হাতপাতালের নিজ তলায় মানসিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় রাজাপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের বাবা সেলিম জানায়।