রিজভীকে ২১ আগস্টের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের দাবি

0
65

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

‘২১ আগস্টের হামলা আওয়ামী লীগের পরিকল্পনায় হয়েছে’-এমন বক্তব্য দেয়া বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীসহ যারা এই হামলা নিয়ে উপহাস করছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। রিজভীও এই হামলার মদতদাতা কি না তা খুঁজে বের করতে বলেছেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ‘ফেৎনা ফেসাদ প্রতিরোধ কমিটি’র ডাকে এক মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ২১ আগস্টের হামলা আওয়ামী লীগের সাজানো: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচির রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার এক আলোচনায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকে আওয়ামী লীগের সুপরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, জনগণের সহানুভূতি পেতে আওয়ামী লীগ এই কাজ করেছে। হামলায় ২৪ জন নিহত হলেও শেখ হাসিনার বেঁচে যাওয়াই এর প্রমাণ বলেও দাবি করেন রিজভী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ‘আমরা যদি বলি, বিএনপি সরকারকে বিব্রত করার জন্য আপনার লোকরাই এই কাজ করেছেন। আপনার প্রতি সহানুভূতি আসবে, আপনি বেঁচে থাকবেন। আপনার কিছু লোক মরে গেলে তো কি আসে, যায় আসে না’।

এর আগে বিএনপির আরেক সেনা খন্দকার মোশাররফ হোসেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২১ আগস্টের হামলা সিম্পল ঘটনা, পৃথিবীর অনেক দেশেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, পুরনো এসব ঘটনা নিয়ে বলার কিছু নেই।

পরে মোশাররফ হোসেনকে যুবলীগের আল্টিমেটামের পর এই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য টেলিভিশনে খণ্ডিতভাবে এসেছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে যারা উপহাস করছে তারা হত্যাকারীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা।’ তিনি বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) রিজভী আহমেদ যে বক্তব্য রেখেছেন, আমি সরকারের কাছে করজোরে দাবি জানাচ্ছি রিজভী আহমেদসহ যারা এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলেছে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। জানার চেষ্টা করা হোক এই হত্যাকাণ্ডে মদতদাতাদের সঙ্গে তারাও যুক্ত ছিলেন কি না।’

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের পরিচালনায় এই হামলা হয়েছিল দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের দায় দায়িত্ব একা তারেক রহমানের নয়। সেদিন ক্ষমতায় ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছিল। সুতরাং এই হত্যাকাণ্ডের দায় বেগম খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না।’

‘প্রধান বিচারপতি জাতীয় জীবনে ফেৎনা সৃষ্টি করছেন’

শপথ, সংবিধান ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন হাছান। তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা জাতীয় জীবনে ফেৎনা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে জাতীয় জীবনে কেউ কেউ ফেৎনা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধান বিচারপতির পদ একটি সাংবিধানিক পদ। প্রধান বিচারপতি রাজনীতিবিদদের মতো কোন সমাবেশে গিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন না।’

‘এর আগে বাংলাদেশের কোনো বিচারপতি বিভিন্ন সভায় গিয়ে রাজনীতিবিদদের মতো রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেননি। মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, তিনি শুধুমাত্র শপথ ভঙ্গ করেননি, সংবিধান শুধুমাত্র লঙ্ঘন করেননি, তিনি আচরণবিধিও লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সভা সমিতিতে গিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কাছে এবং সমালোচকদের হাতে তিনি নানা ইস্যু তুলে দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি জাতীয় জীবনে ফেৎনা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।’

হাছান মাহমুদ, ‘বিএনপির কোন রাজনীতি নাই। বিএনপি ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করেছে। তারা ফরহাদ মজহারের ঘাড়ে চড়ে রাজনীতি করার চেষ্ট করেছে। ফরহাদ মজহার কী জন্য নিখোঁজ হয়ে ছিলেন, কোন মহিলার জন্য নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেটি প্রকাশিত হওয়ার পর তারা মুখ লুকিয়ে চুপসে গেলেন।’

‘তাদের (বিএনপির) অবস্থা হচ্ছে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো। ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা যেমন লাফায়, বিএনপির অবস্থা আজকে হচ্ছে তেমন। নিজেদের কোন রাজনীতি নাই, একেক সময় অন্যের ইস্যু নিয়ে, অন্যের ইস্যু ধার করে তারা রাজনীতি করে।’