রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে সু চিকে ডেসমন্ড টুটুর খোলা চিঠি

0
71

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গণহত্যা বন্ধে সরব হতে মিয়ানমারের ‘ডি ফ্যাক্টো’ সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটু।

এক খোলা চিঠিতে সুচিকে উদ্দেশ করে নোবেল শান্তি বিজয়ী ডেসমন্ড টুটু বলেন, ‘সু চির নীরবতার চড়া মূল্য দিচ্ছে অসহায় রোহিঙ্গারা’।

গার্ডিয়ান পত্রিকা জানায়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর সেনাবাহিনী পরিচালিত অভিযান অবিলম্বে বন্ধের জন্য সু চিকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ডেসমন্ড টুটু। গত কয়েকদিনে গণহত্যার মুখে প্রাণ বাঁচাতে দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

রোহিঙ্গা গণহত্যাকে ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটু ‘অপ্রকাশিত ভয়াবহতা’ এবং ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানবতার এই দুঃসময়ে তিনি চুপ করে বসে থাকতে পারেন না। সু চিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি আমার প্রিয় বোন। দয়া করে রোহিঙ্গাদের হয়ে কথা বলুন’।

আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধন নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইলেও অং সান সূ চি সরকারি অবস্থানে অনড় আছেন।

টুটু তার চিঠিতে লেখেন, ‘আমি এখন বৃদ্ধ, পুরনো। আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে আছি। কিন্তু রোহিঙ্গাদের দুঃখ দুর্দশা আমাকে আমার নীরবতা ভাঙতে বাধ্য করেছে’।

তিনি আরও লেখেন, ‘বছরের পর বছর আপনার (সু চি) একখানা ছবি আমার ডেস্কের ওপর শোভা পাচ্ছে। এই ছবি আমাকে মনে করিয়ে দেয়, মিয়ানমারের জনগণের প্রতি অঙ্গীকার ও ভালোবাসা থাকার কারণে আপনাকে কতটা অবিচার সহ্য করতে হয়েছে এবং ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আপনি ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন’।

‘জনজীবনে আপনার উত্থান হওয়ার পর রোহিঙ্গা নিপীড়ন প্রশ্নে আমাদের উদ্বেগ প্রশমিত হয়েছিল। কিন্তু এখনো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বজায় রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন কেউ কেউ, আবার অনেকের কাছে তা ‘ধীরগতির গণহত্যা’। সম্প্রতি সেই সহিংসতা আরও বেড়েছে। ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হিসেবে কোনো ব্যক্তি দেশ পরিচালনা করতে গেলে এ বিষয়গুলো তার কাছে অসংগতিপূর্ণ মনে হওয়ার কথা। এমন যদি হয় যে আপনার নীরবতা হলো মিয়ানমারের উচ্চ পদে আসীন হওয়ার রাজনৈতিক মূল্য চুকানো, তবে নিশ্চিতভাবে বলব এ মূল্যটা খুব চড়া।’