রয়েল সিটি প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তার কশাই রফিক’র লাশ বাণিজ্য!

0
28

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ গতকাল সকালে প্রস্রাবে সমস্যাজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন নগরীর একটি অনুমোদনবিহীন প্রাইভেট ক্লিনিকে। ভর্তি করতেই বৃদ্ধ রোগীকে অপারেশন করতে তড়িঘড়ি শুরু করে দেয় ডাক্তার। শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের আগেই রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে নেন তিনি।

তবে ভর্তি করানোর পর স্বজনরা চেয়েছিলেন আগে রোগীর পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হোক। তারপর প্রয়োজন হলে অপারেশন। কিন্তু কে শোনে কার কথা? ডা: এ এইচ এম রফিকুল বারী স্বজনদের সাথে ‘খারাপ ব্যবহার’ করে রোগীকে এক রকমেরই ধমকেই অপারেশন থিয়েটারে নিতে বাধ্য করেন। এই যাওয়াই দক্ষিণ আলেকান্দা কাজীপাড়ার বাসিন্দা শেখ কবির উদ্দিনের (৭০) শেষ যাওয়া।

কশাই ডাক্তার রফিকুল বারীর হাত থেকে তিনি আর বেঁচে ফিরতে পারেন নি। অপারেশন টেবিলে রোগীকে রেখেই ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেন এই ডাক্তার। অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে যে জলজ্যান্ত মানুষটি ছিলেন স্বাভাবিক অবস্থায় টাকা পরিশোধের কিছুক্ষণ পরই পরই জানানো হয় রোগী মারা গেছেন।

ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান অভিযুক্ত ডাক্তার। আজ সন্ধ্যায় এমন ঘটনাই ঘটেছে বরিশাল শহরের রয়েল সিটি হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে। কশাইরূপী চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হল আরো এক অভাগা রোগীর নাম।

নিহত কবির উদ্দিনের ছেলে সাব্বির জানান, সকাল সাড়ে দশটায় নগরীর ব্রাউন্ড কম্পাউন্ড রোডের রয়েল সিটি প্রাইভেট লিমিটেডে ডা.বারীর তত্ত্বাবধায়নে তার বাবাকে ভর্তি করা হয়। আব্বার প্রস্রাবের রাস্তায় মাংস বেড়েছে বলে জানায় ডাক্তার রফিকুল বারী।

দুপুর দেড়টার দিকে কোন পূর্ব পরীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ জোড় করেই আব্বাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান ওই ডাক্তার। স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশন সর্ম্পকে কিছুই জানেন না রফিকুল বারী। জোরজবরদস্তি করেই তিনি অপারেশন করে থাকেন।

রোগী শেখ কবির উদ্দিনের বিষয়ে স্পষ্ট অবহেলা ও অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়। সরেজমিনে হাসপাতলটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামীম কবিরের সাথে কথা হলে তিনি স্বীকার করেন, হাসপাতালটির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা থাকলেও অনুমতি নেই।

একইসাথে এক্স-রে’র বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের ছাড়পত্র, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ছাড়পত্র কোন কিছুই দেখাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। রয়েল সিটি হাসপাতালের পরিচালক ডা: রফিকুল বারীর স্ত্রী কাজী আফরোজার সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৬ জুলাই রফিকুল বারীর অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে পুলিশ তাকে আটক করে। আর ২০১৭ সালে বেল্লাল নামে এক শিশু রোগীকে অন্ডকোষ লাগিয়ে দেওযার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই টাকা ফেরৎ দেন এই চিকিৎসক।