লন্ডনে আমিনুল হক বাদশার প্রথম নামাজে জানাজা

0
267

পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেন জামে মসজিদে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রয়াত সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বাদশার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বাদ জুমা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজে জানাজায় পরিবারের সদস্য, ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আব্দুল হান্নান, প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, মরহুমের সাংবাদিক সহকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী, কমিউনিটি এক্টিভিস্টসহ ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

নামাজে জানাজার আগে হাইকমিশনার এবং মরহুমের ভাইয়ের ছেলে মাহমুদুল হক সবার প্রতি প্রয়াত সাংবাদিকের আত্মার শান্তি জন্য দোয়া কামনা করেন।

জানাজা শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গ্রুপ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো বাদশার প্রতি আনুষ্ঠানিক স্যালুট প্রদান করেন। এই পর্বে নেতৃত্ব দেন তার ঘনিষ্ট সহকর্মী আরেক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলার খলিল কাজি।

এদিকে, শনিবার লন্ডন সময় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় বিমানের একটি ফ্লাইটে সদ্য প্রয়াত এই কৃতি সাংবাদিকের মরদেহ নিয়ে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন তার স্বজনরা।

রোববার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২.৪০ মিনিটে বাদশাকে বহনকারী বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবে বলে বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার আতিক চিশ্চিত করেছেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করার পর জনগণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাদশার মরদেহ সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

কেন্দ্রীয় উদীচী শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য এই সাংবাদিকের প্রতি জনগণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের এই পর্বটি আয়োজন করছে বলে  জানান লেনিন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদশার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কুষ্টিয়া তার গ্রামের বাড়িতে, সেখানেই মায়ের কবরের পাশে চীরনিদ্রায় শায়িত হবেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বাদশা।

২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টা) গ্রেটার লন্ডনের অরপিংটন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমিনুল হক বাদশা। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘদিন এই অরপিংটন হাসপাতালই ছিল তার শেষ অবস্থানস্থল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

লন্ডন প্রবাসী এই প্রখ্যাত সাংবাদিক ছিলেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন। ১৯৭৩ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্যে বঙ্গবন্ধু আমিনুল হক বাদশাকে লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন। লন্ডনে বসবাসের খরচ জোগানোর জন্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুরই নির্দেশে একটি ব্যাংকের (সম্ভবত উত্তরা বা পূবালী) পাবলিক রিলেশন্স অফিসার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার(বাসস) লন্ডন প্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগের মুখপত্র ‘প্রবাসী’র সম্পাদক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জোট নিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু আমিনুল হক বাদশাকে একই বিমানে সঙ্গে করে নিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু আলজিয়ার্স নামার পর বাদশা একই বিমানে এসে পা রাখেন লন্ডনে। এসময় বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হিসেবে আরেক কিংবদন্তি সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীও জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে অংশ নেন।

বিভিন্ন সময় লন্ডনে বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও আড্ডায় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে স্মৃতিচারণ করতেন এই প্রবীণ সাংবাদিক। সতীর্থ সাংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডায় ‘‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয়বাংলা’’– ৭ই মার্চে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর সেই বিশ্বসেরা ভাষণের এই অংশটুকু নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন বাদশা; তার জীবনের সেই সেরা সময়গুলো নিয়ে গর্বিত আমিনুল হক বাদশা বিভিন্ন সময়।